kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

বিশ্বেও এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩০ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



বিশ্বেও এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত

বাংলাদেশের মতো এক দিনে সর্বোচ্চ করোনা রোগী শনাক্ত হলো বিশ্বেও। গত বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে এক লাখ ১৬ হাজার ৩০৪ জনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি মিলেছে। গতকাল শুক্রবার বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার এ তথ্য জানিয়েছে। গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথমবারের মতো নভেল করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর পাঁচ মাসের মাথায় এসে এক দিনে সবচেয়ে বেশি রোগী দেখল বিশ্ব।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের বৈশ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রথমবারের মতো ২৪ ঘণ্টায় লক্ষাধিক করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ২৪ এপ্রিল। এরপর প্রায় এক মাস নতুন রোগী (দৈনিক) লাখ ছুঁই ছুঁই করছিল। এরপর গত ২০ মে এক লাখ দুই হাজার ৫১২ জন রোগীর দেখা মেলে। গত এক সপ্তাহে আরো চার দিন লক্ষাধিক করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার শনাক্ত হয় সর্বোচ্চ রোগী।

অবশ্য এর মধ্যেই এক দিনে রেকর্ড সংখ্যক রোগী সুস্থ হওয়ার খবর মিলেছে। গত ২২ মে সেরে ওঠে সর্বোচ্চ এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৮২ জন। পর দিনই সুস্থ হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসে। তবে ২৪ মে থেকে সুস্থ হওয়া মানুষের সংখ্যায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার আরোগ্য লাভ করেছে ৮২ হাজার ৩৯৪ জন।

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা সাড়ে ৫৯ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এ সময়ে মারা গেছে তিন লাখ ৬৩ হাজারের বেশি মানুষ। আর সুস্থ হয়েছে ২৬ লাখ ২৫ হাজারের বেশি করোনা রোগী। বিশ্বে বর্তমানে ৫৪ হাজার রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন, যা চিকিৎসাধীন ব্যক্তির ২ শতাংশ।

মৃত্যুতে চীনকে ছাড়াল ভারত

ভারতে করোনাভাইরাসে প্রাণ হারানো ব্যক্তির সংখ্যা প্রতিবেশী চীনকে ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল সকাল পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৭০৬ জনে। অন্যদিকে চীনে এ পর্যন্ত মারা গেছে চার হাজার ৬৩৪ জন। আর আক্রান্ত হয়েছে ৮২ হাজার ৯৯৫ জন।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৬৫ হাজার ৭৯৯ জন। দেশটির মোট আক্রান্তের ৩৬ শতাংশই পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্র ও অর্থনীতির কেন্দ্র মুম্বাই এলাকায়। মোট মৃত্যুর ৪২ শতাংশই ঘটেছে এসব এলাকায়।

সম্প্রতি বিশেষ ট্রেন ও ফ্লাইটে ভারতজুড়ে নাগরিকদের চলাচল এবং লকডাউনের কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার পর করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক রাজ্য আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার কারণ হিসেবে অন্য রাজ্য থেকে মানুষ আসার কথাও বলা হচ্ছে। দেশটিতে লকডাউন চলছে গত ২৫ মার্চ থেকে। কয়েকবার সময়সীমা বাড়ানোর পর লকডাউনের চতুর্থ ধাপ শেষ হচ্ছে আগামীকাল ৩১ মে।

পশ্চিমবঙ্গে অফিস খুলছে জুন

ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক আনন্দবাজার জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে আগামী ১ জুন থেকে খুলে যাচ্ছে মন্দির, মসজিদ, গির্জা, গুরুদ্বারের মতো ধর্মীয় স্থানগুলো। আর ৭ জুন থেকে রাজ্যের সব সরকারি-বেসরকারি অফিস পুরোদমে চালু করা যাবে। গতকাল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মন্দির-মসজিদ খুললেও কোনো জমায়েত করা যাবে না। ভেতরে একবারে ১০ জনের বেশি ঢোকা যাবে না। এর অন্যথা বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ধর্মীয় স্থানে কোনো জমায়েত বা অনুষ্ঠান করা যাবে না। পাশাপাশি প্রবেশ পথে ধর্মস্থানগুলোর কর্তৃপক্ষকেই স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করতে হবে।’

ব্রাজিলে আক্রান্তের রেকর্ড

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে করোনা পরিস্থিতি আরো খারাপ হলো। এক দিনে রেকর্ড সংখ্যক লোক করোনায় আক্রান্ত হলো। বৃহস্পতিবার সেখানকার ২৬ হাজার ৪১৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারিভাবে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৩৮ হাজার ২৩৮ জনে। আর ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মারা গেছে এক হাজার ১৫৬ জন। তাতে করে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৬ হাজার ৭৫৪ জনে।

ব্রাজিলে কয়েক দিন ধরে প্রতিদিনই এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। মঙ্গলবার এক দিনে রেকর্ড এক হাজার ১৭৯ জন মারা যায়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট মৃত্যু ১৮ হাজার ৮৫৯ জন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই শতাধিক স্কুল বন্ধ

খোলার কয়েক দিনের মাথায় দুই শতাধিক স্কুল বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। করোনা সংক্রমণ নতুন করে বাড়ায় নিতে হয়েছে এ পদক্ষেপ। দেশটিতে বিধি-নিষেধ শিথিল হতে শুরু করার পর হাজার হাজার শিক্ষার্থী স্কুলে ফিরেছিল। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার নতুন ৭৯ জনের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। ৫ এপ্রিলের পর আক্রান্তের এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছে ৫৮ জন। এ নিয়ে দেশজুড়ে নতুন আক্রান্তের মোট সংখ্যা ১১ হাজার ৪০২ জনে দাঁড়িয়েছে।

কোরিয়া টাইমসের খবরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এ পরিস্থিতিতে বুচন শহরে মোট ২৫১টি স্কুল বন্ধ করতে হয়েছে। রাজধানী সিউলে আরো ১১৭টি স্কুল খোলার সময়ও পিছিয়ে দিতে হয়েছে।

নতুন আক্রান্তদের বেশির ভাগই বুচনে শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স কম্পানি কোপাং পরিচালিত একটি গুদামঘর থেকে সংক্রমিত হয়েছে। সেখানে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি ঠিকভাবে মানা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। গুদামঘরটির কর্মীদের জুতা ও জামা-কাপড়ে কভিড-১৯-এর চিহ্ন পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিশ্বনেতাদের আহ্বান

মহামারি থেকে মুক্ত হওয়ার পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন বিশ্ব নেতারা। জাতিসংঘের এক ভিডিও কনফারেন্সে প্রায় ৫০ বিশ্বনেতা অংশ নিয়ে এই আহ্বান জানিয়েছেন। এই কনফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া অংশ নেয়নি।

এ অনুষ্ঠানে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুজুপ্পে কোন্তে রেকর্ডেড বার্তায় বলেছেন, ‘এই লক্ষ্য অর্জনে কাউকে পেছনে ফেলে রাখা যাবে না।’ কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর বক্তব্যের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেন, ‘আমাদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও ব্যতিক্রমী কিছু ভাবতে হবে।’

ইউরোপিয়ান কমিশন প্রধান উরসুলা ভন ডার লেন বলেন, ‘২০৩০ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো অর্জন আগের চেয়ে অনেক কঠিন হবে। এ জন্য আমাদের কাজ করতে হবে এবং একত্রে লড়াই করতে হবে।’

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর মতো অনেক নেতা বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এই সংকট একটি সুযোগ হতে পারে। ম্যাখোঁ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো, বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য আরো জরুরি সহযোগিতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা