kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্ত ১৬১৭, মৃত্যু ১৬ জনের

আরো ১৫-১৬ দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্ত ১৬১৭, মৃত্যু ১৬ জনের

দেশে করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই রোগে ৩৮৬ জনের মৃত্যু হলো। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৬১৭ জন, যা এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হলো ২৬ হাজার ৭৩৮। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ২১৪ জন কভিড-১৯ রোগী। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে পাঁচ হাজার ২০৭ জন।

গতকাল বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাসবিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিন উপস্থাপন করেন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। মোট ৪৩টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্তে ১১ হাজার ১৩৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়; পরীক্ষা করা হয় ১০ হাজার ২০৭টি। এ নিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হলো দুই লাখ তিন হাজার ৮৫২টি।

নতুন মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ ও তিনজন নারী। সাতজন ঢাকা বিভাগের, পাঁচজন চট্টগ্রামের, তিনজন রংপুরের ও একজন সিলেট বিভাগের। ১২ জন হাসপাতালে ও চারজন বাসায় মারা গেছে। একজন অনূর্ধ্ব ১০ বছরের, একজন ২১ থেকে ৩০ বছরের, একজন ত্রিশোর্ধ্ব, একজন চল্লিশোর্ধ, পাঁচজন পঞ্চাশোর্ধ্ব, চারজন ষাটোর্ধ্ব, দুজন সত্তরোর্ধ্ব এবং একজন ৮১ থেকে ৯০ বছর বয়সী।

বুলেটিনে অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত বিবেচনায় দেশে সুস্থতার হার ১৯.৪৭ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১.৪৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৩০০ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন তিন হাজার ৮১৬ জন কভিড-১৯ রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছে ১০০ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছে এক হাজার ৮৯৩ জন। সারা দেশে আইসোলেশন শয্যা আছে ১৩ হাজার ২৮৪টি। মোট আইসোলেশন শয্যার মধ্যে রাজধানী ঢাকায় সাত হাজার ২৫০টি এবং ঢাকার বাইরে ছয় হাজার ৩৪টি আছে। সারা দেশে আইসিইউ শয্যা আছে ৩৯৯টি, ডায়ালিসিস ইউনিট আছে ১০৬টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে চার হাজার ১১ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে দুই লাখ ৫১ হাজার ৫০২ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছে দুই হাজার ২৮৭ জন। এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছে এক লাখ ৯৮ হাজার ৫৬২ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টিনে আছে ৫২ হাজার ৯৪১ জন।

বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য ৬২৬টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিকভাবে সেবা দেওয়া যাবে ৩১ হাজার ৮৪০ জনকে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।

আক্রান্ত বাড়ার আশঙ্কা : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিদিন যে হারে বাড়ছে, তা আগামী ১৫-১৬ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া সেলের প্রধান ও অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান। তিনি বলেন, ‘আমরা পিক সময়ের (সর্বোচ্চসীমা) কাছাকাছি চলে এসেছি। হয়তো ঈদের পর সেখানে পৌঁছে যাব। আমাদের ল্যাব ও পরীক্ষার সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।’ গতকাল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘প্লাজমা থেরাপি নিয়ে বিশ্বের সাতটি দেশ কাজ করছে। যারা করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে তাদের শরীর থেকে প্লাজমা নিয়ে কাজ করছে। আমরা সেটা করতে যাচ্ছি। প্লাজমা থেরাপির জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কাজ করছে। বর্তমানে প্লাজমা সংগ্রহ চলছে। প্রাথমিকভাবে আমরা ৪৫ জন রোগীর ওপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করব। পরীক্ষায় ভালো ফল পাওয়া গেলে ঢাকাসহ সারা দেশের করোনা হাসপাতালে প্রয়োগ করা হবে। একজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্লাজমা দুজন রোগীর ওপর প্রয়োগ করা হবে।’ তিনি জানান, কয়েকটি ওষুধ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। দেশের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ওষুধ উত্পাদনে গেছে। এ পর্যন্ত ৪২টি ল্যাবে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা চলছে। সপ্তাহে সাত দিন তারা কাজ করছে। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার পরীক্ষা করা হচ্ছে।

হাসপাতালের প্রস্তুতি নিয়ে অতিরিক্ত সচিব বলেন, সারা দেশে করোনা রোগীর জন্য ১১০টি হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় সরকারি ৯টি ও বেসরকারি পাঁচটি হাসপাতাল আছে। মোট ১৪টি হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঢাকায় করোনা রোগীর জন্য সাত-আট হাজার শয্যার (বেড) ব্যবস্থা করা হয়েছে। বসুন্ধরা কনভেনশন সিটি হাসপাতালে কোনো সিরিয়াস রোগী যাবে না। বসুন্ধরা মূলত আইসোলেশন সেন্টারের কাজ করবে। তার পরও সেখানে পর্যাপ্ত শয্যা, অক্সিজেনের ব্যবস্থা আছে। সেখানে কোনো রোগীর পরিস্থিতি জটিল হলে তাঁকে করোনা হাসপাতালে নেওয়া হবে।

তামাকজাত দ্রব্য ও বিড়ি-সিগারেট উত্পাদন-বিক্রির বিষয়ে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘করোনায় আপত্কালীন তামাকজাত দ্রব্য ও বিড়ি-সিগারেট উত্পাদন ও বিক্রি সাময়িক বন্ধ রাখার অনুরোধ বা সুপারিশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে শিল্প মন্ত্রণালয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাকজাত দ্রব্য ও ধূমপান থেকে বিরত থাকতে বলেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও ঘোষণা দিয়েছেন, ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তামাকজাত পণ্য নির্মূল করা হবে।’

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে দুর্যোগ সৃষ্টি হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে হাবিবুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক হাজার ৯৩৩টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে এক হাজার ২১২টি, বরিশালে ৪১৮টি, খুলনায় ৩০৩টি মেডিক্যাল টিম আছে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা