kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

দরিদ্র হয়েও করোনা জয় করল তারা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দরিদ্র হয়েও করোনা জয় করল তারা

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের লাগাম টানতে সমর্থ হয়েছে ইতালির অপেক্ষাকৃত দরিদ্র দক্ষিণাঞ্চল। দেশটির ধনাঢ্য উত্তরের তুলনায় অঞ্চলটিতে এই মহামারি প্রতিরোধের প্রস্তুতি সেভাবে ছিল না। গত শুক্রবার করোনার বিপক্ষে বহুল আকাঙ্ক্ষিত এই বিজয় অর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির জনস্বাস্থ্য কাউন্সিলের প্রধান ফ্রাংকো লোকাতেলি।

যদিও ছয় সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রী জুজেপ্পে কোন্তে এই বলে সতর্ক করেছিলেন, কভিড-১৯-এর বিপক্ষে ইতালির জয়ের বিষয়টি নির্ভর করছে এর সংক্রমণ কতটা মিলানকেন্দ্রিক উত্তরাঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে, তার ওপর।

সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরীয় দেশটিতে করানোভাইরাসের সংক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন ২২ হাজার ৭৪৫ জন, যুক্তরাষ্ট্রের পর যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

তবে ইতালি এখনো নিজেদের তুলনামূলক সৌভাগ্যবান মনে করে। কেননা, এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেশটির এমন সব প্রদেশে ছড়িয়েছে, যেখানে আধুনিক মেডিক্যাল সরঞ্জামসহ রয়েছে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর দল।

প্রধানমন্ত্রী কোন্তে অবশ্য করোনার মহামারি মোকাবেলায় পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে প্রথম লকডাউন ঘোষণার মতো ঝুঁকি নেন। দেশটির শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লোকাতেলি গতকাল বলেন, কোন্তের বিরাট ঝুঁকি নেওয়ার প্রতিদান পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সংক্রমণ ঠেকিয়ে দিয়েছি। আমাদের এই কথার প্রমাণ এসংক্রান্ত সর্বশেষ ডাটা।’

যদিও ইতালির ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কোন্তে লকডাউন দীর্ঘায়িত করে দেশের অর্থনীতির অপ্রয়োজনীয় ক্ষতি করছেন। দেশটির শিল্প-কারখানা অধ্যুষিত উত্তরাঞ্চলের রাজনৈতিক নেতারাও কোন্তেকে আরেকবার ঝুঁকি নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তাঁরা চান, আগামী মে মাসের গোড়ায় যতটা সম্ভব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানা খুলে দেওয়া হোক। কোন্তে এবার এসংক্রান্ত ঘোষণা দিক।

ইতালির কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মার্চে দেশের বাণিজ্যিক উৎপাদন কমেছে ১৫ শতাংশ। দেশটির সিভিল প্রোটেকশন সার্ভিসও নতুন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নতুন করে আর কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। সংস্থাটির তথ্য বলছে, এখন দৈনিক মাত্র কয়েক শ কভিড-১৯ আক্রান্তের চিকিৎসা করা হচ্ছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর এত কমসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনা এই প্রথম। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে এ সংখ্যা প্রতিদিন কমপক্ষে এক হাজার করে বাড়ছিল।  প্রধানমন্ত্রী কোন্তে অবশ্য মোবাইল অ্যাপ চালুর একটি পরিকল্পনা করেছেন। ওই অ্যাপ করোনার সংক্রমণ শনাক্তে সাহায্য করবে, যাতে করে পুনরায় এর বিস্তার রুখে দেওয়া যায়। আগামী ৪ মে ইতালিতে লকডাউনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

জার্মানির সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে : জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেনস স্প্যান বলেছেন, মাসব্যাপী লকডাউনে তাঁর দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গতকাল শুক্রবার তিনি বলেন, ১৪ এপ্রিল থেকে নতুন শনাক্তের চেয়ে সুস্থ হওয়ার সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। জার্মানিতে সংক্রমণের হার বর্তমানে ০.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এর অর্থ একজন সংক্রমিত ব্যক্তির মাধ্যমে একজনেরও কম মানুষের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে। জার্মানিতে এ পর্যন্ত কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে তিন হাজার ৮৬৮ জন মারা গেছেন। এ সংখ্যা ইতালি, স্পেন বা ফ্রান্সের চেয়ে কম। এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ৩৪ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা