kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২ জুন ২০২০। ৯ শাওয়াল ১৪৪১

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন

করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারকে নাজেহাল করলে ব্যবস্থা

ওমর ফারুক   

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারকে নাজেহাল করলে ব্যবস্থা

করোনা আক্রান্ত বা মৃত ব্যক্তির পরিবারের উপর দেশের বিভিন্ন স্থানে নাজেহাল করার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কোন কোন এলাকায় অন্য রোগে মৃত্যু বরণ কারী ব্যক্তিদেরকেও ‘করোনা আক্রান্ত’ সন্দেহে তার লাশ দাফন করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় করোনা নিয়ে দেশে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সবার প্রতি মানবিক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। তিনি গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারকে কেউ যেন নাজেহাল করতে না পারে সে জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া আছে। যদি কেউ করে তা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে ভুল বুঝাবুঝি হচ্ছে। এ অবস্থায় সবাইকে সাবার প্রতি মানবতা দেখাতে হবে।’ তিনি আরো জানান, এরই মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফনের ক্ষেত্রে পুলিশ ভূমিকা রেখেছে। তারা জনগণের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, করোনা আক্রান্ত বা মৃত ব্যক্তির পরিবারকে কোথাও  হেয় প্রতিপন্ন করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

খোজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের যেসব স্থানে করোনা আক্রান্ত রোগির সন্ধান মিলছে সেখানকার বাসিন্দারা তাদের আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন। ফলে একটি এলাকায়  দুটো পক্ষ দাড়িয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে শুধু মাত্র সন্দেহের বশে কয়েক জনের লাশ দাফনে বাধা দেয়া হয়েছে। সেসব জায়গায় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করতে হয়েছে।  এ অবস্থায় কোনভাবেই যাতে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি না হয় সে জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন।

গত ৩১ মার্চ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ৩৫ বছরের এক ব্যক্তি ভর্তি হন। করোনা সন্দেহে ভর্তি যুবককে আইসোলেশন ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রা্তেই তার মৃত্যু হয়। পরদিন ১ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মীরা শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে ওই ব্যক্তির মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যান। করোনা সন্দেহে এই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার মরদেহ দাফন করতে গেলে স্থানীয়দের বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে প্রশাসনকে। পরে পুলিশ গিয়ে  বাধা উপেক্ষা করে লাশ দাফন করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মীরা।

গত ৩০ মার্চ সকালে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার যোগীপাড়া ইউনিয়নের বাজেকোলা গ্রামে আবদুল মান্নান (৪৬) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তার করোনায় মৃত্যু হয়েছে এমন সন্দেহে এলাকাবাসি তার মরদেহ দাফনে বাধা দেয়। খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি দল আবদুল মান্নানের বাড়িতে যায়। পরে স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত করে ওই ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এই খবরে শান্ত হয় এলাকাবাসী। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে আবদুল মান্নানের মরদেহ দাফন করা হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা