kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

জেল-জরিমানা বেড়েছে, তবু নির্দেশনা অমান্য

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জেল-জরিমানা বেড়েছে, তবু নির্দেশনা অমান্য

গার্মেন্ট খুলছে—এমন খবরে সারা দেশ থেকেই কর্মীরা ঢাকায় আসার চেষ্টা করছেন। হুড়াহুড়ি আর জটলা করে চরম ঝুঁকির মধ্যেই তাঁরা রাজধানীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। গতকাল শিমুলিয়া ঘাটে ভেড়ার আগে ফেরি থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় মানুষের স্থানান্তর বন্ধ, মানুষকে ঘরে রাখা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে রাজধানীসহ সারা দেশে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী। তবে আগের চেয়ে গতকাল শনিবার সারা দেশেই অভিযান বেড়েছে। অপ্রয়োজনে বের হলেও করা হচ্ছে জেরা ও জরিমানা। এমনকি জেলেও পাঠানো হয়েছে। তবু সবাই মানছে না সরকারি নির্দেশনা। এরপর আবার গতকাল লাখ লাখ শ্রমিক রাজধানীতে ঢোকায় এবং আজ থেকে পোশাক কারখানাগুলো চালু হওয়ায় পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজধানীতে গতকাল আগের দিনগুলোর তুলনায় গাড়ির আধিক্য ছিল। বিভিন্ন স্থানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গাড়িগুলো বের হওয়ার কারণ জানতে চায়। তারাও নানা ধরনের প্রয়োজনীয় কাজের কথা বলে পার পেয়ে যায়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে লোকজন চলাফেরা করছিল না। অলিগলিতে মানুষজন আড্ডাও দিচ্ছিল।

এদিকে হোম কোয়ারেন্টিনে আছে এমন পরিবারের মধ্যে যারা খাদ্যকষ্টে আছে, তাদের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত আছে। প্রকৃতপক্ষে বিপদাপন্ন লোকজন ফোন করে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের কথা বললে ঢাকা মহানগর পুলিশ বাড়িতে গিয়ে তা পৌঁছে দিয়ে আসছে। খাবার গ্রহণকারীদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

গতকাল সকাল ১০টায় রাজশাহী নগরের সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে সব ধরনের যান চলাচলে কঠোর অবস্থান নেয় সেনাবাহিনী। বাজারে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দিচ্ছিলেন না সেনা সদস্যরা। যানবাহনচালকদের ফিরিয়ে দিয়ে সবাইকে বাড়ি চলে যেতে বলেন তাঁরা। ফলে সকাল থেকেই রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়। অন্যদিকে টহল পুলিশ মোড়ে মোড়ে অবস্থানকারীদের তাড়িয়ে দিতে থাকে। এতে লোকসমাগম গত কয়েক দিনের চেয়ে অনেকটা কমে আসে।

নাটোরের জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত জেলার বিভিন্ন স্থানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করেন। এ সময় গণজমায়েত করা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখা, হোম কোয়ারেন্টিন না-মানাসহ বিভিন্ন অপরাধে ২৬ ব্যক্তির সর্বমোট ১৪ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়। বড়াইগ্রামের আহম্মেদপুর বাজারের এক ফার্নিচার ব্যবসায়ীকে দুদিনের জেল দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ জানান, নাটোরবাসীকে করোনামুক্ত রাখার জন্য এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। অত্যাবশ্যকীয় কাজ ব্যতীত ঘরের বাইরে না আসার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেছেন তিনি।

বরগুনা শহরে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রাখার অপরাধে তিন দোকানিকে আটক করে সাত হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। র‌্যাব-৮-এর পটুয়াখালী ক্যাম্পের কম্পানি অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রইছ উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।

দিনাজপুরের বিরামপুরে বিনা কারণে ঘোরাঘুরি ও সামাজিক দূরত্ব না মানায় তিন ব্যক্তি ও এক মুদি দোকানির জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. মুহসিয়া তাবাসসুম পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের জরিমানা করেন।

দিনাজপুরের হিলি উপজেলার হিলি বাজারে সেলুন এবং বন্দর-বাজার-ঘাট ও রাস্তায় অযথা ঘোরাফেরা করার অপরাধে ২২ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ২১ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করেছেন।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে যাত্রী পরিবহন করায় দুই শতাধিক গাড়ির চাবি জব্দ করে পুলিশ। শুক্রবার ও গতকাল চাবি জব্দ করা হয়।

গফরগাঁও থানার ওসি অনুকূল সরকার বলেন, কিছু যানবাহন সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে যাত্রী পরিবহন করায় তাদের গাড়ির চাবি জব্দ করা হয়েছে। নির্দেশনা মেনে চলবে এমন মুচলেকা দিলে অথবা নির্দেশনার মেয়াদ শেষ হলে চাবিগুলো ফেরত দেওয়া হবে।

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় পর্যটনকেন্দ্র লক্ষ্মীবাওর জলাবনে গত শুক্রবার বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে ১৭ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

(তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা