kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

ব্যাংক খোলা থাকলেও সমস্যার শেষ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যাংক খোলা থাকলেও সমস্যার শেষ নেই

‘আপনার নগদ লেনদেন থাকলে ব্যাংকে আসবেন নতুবা আসার প্রয়োজন নেই।’ করোনা আতঙ্কে ব্যাংকের ক্যাশ বিভাগে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা কয়েক দিন ধরে গ্রাহকদের এমন বার্তাই দিচ্ছেন। ফলে গ্রাহকরা চাহিদামতো লেনদেন করতে পারছে না। শুধু নগদ টাকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো কাজ করছে। টাকা উত্তোলনের জন্য গেলে এটিএম বুথ বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উত্তোলনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বেশির ভাগ বেসরকারি ব্যাংকের শাখাগুলো থেকে। তবে সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকায় বেশির ভাগ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বুথ বা দোকান খোলা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আরেক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। অনলাইন সেবা, আন্ত ব্যাংক ক্লিয়ারিং, ইএফটিএন নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। চলতি মাসের বেতন দেওয়ার সময় চলে এসেছে। ক্লিয়ারিং জটিলতা থাকলে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের বেতন দিতে পারবে না। এমনকি বিভিন্ন চালান জমা দিলেও ক্লিয়ারিং পাচ্ছে না গ্রাহকরা।

জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দেয়। গত মঙ্গলবার দেওয়া নির্দেশে অনলাইন সুবিধা থাকা ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের লেনদেনের সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করে খোলা রাখার কথা বলে। তবে রাজধানীর বিভিন্ন শাখায় গিয়ে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলো শুধু নগদ অর্থের লেনদেন করছেন। রাজধানীর উত্তরায় সোনালী ব্যাংকের একটি শাখায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য একজন গ্রাহক চালান ফর্ম জমা দেন রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায়। গতকাল ব্যাংকিং সময় পর্যন্ত ওই চালানের বিল ক্লিয়ার করা হয়নি। এমন ভোগান্তি সব শাখায়ই রয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের শাখায় গেলে গ্রাহকদের বলা হচ্ছে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রয়েছে। সবাইকে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে আহ্বান জানানো হচ্ছে, কিন্তু ব্যাংকের বেশির ভাগ গ্রাহক এটিএম কার্ড ব্যবহার করে না। এ ছাড়া কয়েকটি ব্যাংকের মোবাইল সার্ভিসের জন্য রাজধানীর কোথাও দোকান খোলা পাচ্ছে না গ্রাহকরা। ফলে টাকা উত্তোলন করতে পারছে না। এদিকে গত কয়েক দিন বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউস (বিএসিএইচ) বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বয়ংক্রিয় নিকাশ ঘরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। মাসের শেষে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান বেতন দিচ্ছে তাদের কর্মীদের। অনলাইন সেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ অর্থসংকটে পড়তে পারে। শাখাগুলোতে ব্যাংকিং সেবা নিতে গেলে গ্রাহকরা বিভিন্ন সমস্যায় পড়ছে। বিএসিএইচ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তির পরে গতকাল থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রাহকদের সুবিধার্থে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে লেনদেন করার জন্য উচ্চ মহল ও সাধারণ মহলের চেকের এক ঘণ্টা করে ক্লিয়ারিং করবে বিএসিএইচ। তবে এই সংকটের সময় এটা আরো বেশি করা উচিত বলে মনে করছে গ্রাহকরা।

জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান বলেন, ‘সংকট সারা দেশেই। আমরা ঝুঁকি নিয়ে ব্যাংকিং করছি। বিএসিএইচ বন্ধ থাকায় কিছুটা সমস্যা হয়তো হয়েছিল। সেটা খুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে ১ ও ২ এপ্রিল বিইএফটিএন চালু থাকবে।’

সাবেক ব্যাংকার মো. নুরুল আমিন বলেন, শুধু নগদ জমা উত্তোলন দিলেই ব্যাংকিং সেবা হবে না। ঝুঁকি সবার আছে। সেটা মোকাবেলা করে অনলাইন সেবা চালু রাখা উচিত। সীমিত সময় হলেও এটা করতে হবে।

প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহেল আহমেদ বলেন, শাখায় আসা এড়িয়ে গ্রাহকরা যাতে দৈনন্দিন ব্যাংকিং করতে পারে, সে জন্য অ্যাল্টিটিউড-ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কল সেন্টার-১৬২১৮, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড এবং এটিএমের সেবার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। প্রাইম ব্যাংক এটিএম থেকে দৈনিক টাকা উত্তোলনসীমা এক লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। প্রায়োরিটি ব্যাংকিং মোনার্কের গ্রাহকরা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা