kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

করোনাভাইরাস

দেশে ৮০ বছর বয়সী নারীর করোনা জয়

► নতুন একজন শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ৪৯, মৃত্যু ৫
► সুস্থ ১৯ জনের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্সও আছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে ৮০ বছর বয়সী নারীর করোনা জয়

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো একজনের শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে এক হাজার ৩৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তকৃত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯। এ সময়ে আরো চারজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সুস্থ হয়ে উঠা মানুষের সংখ্যা এখন ১৯।

নতুন করে সুস্থ হওয়াদের মধ্যে একজনের বয়স ৮০ বছরের ওপরে, যিনি একজন নারী, যাঁর করোনা জয়ের বিষয়টিকে সরকার ইতিবাচক দিক বলে বিবেচনা করছে। সুস্থ হওয়া বাকি তিনজনের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন।

গতকাল সোমবার নিয়মিত সরকারি প্রেস ব্রিফিংয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।

ব্রিফিংয়ের একপর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক যুক্ত হন। করোনা মোকাবেলায় চিকিৎসক-নার্সসহ অন্যদের নিরলস পরিশ্রমের জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান। তবে অনেক এলাকায় চিকিৎসা না দেওয়া নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ‘অনেক জায়গা থেকে অভিযোগ পাওয়া যায় ডাক্তাররা চেম্বার করেন না, এটা হওয়া উচিত না। আপনারা সবাই যার যার মতো দায়িত্ব পালন করলে মানুষ আরো বেশি উপকার পাবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো অবস্থায় আছে। তবে সবারই উচিত সরকারের নির্দেশনা মেনে চলা নিজের ও অন্যের স্বার্থে।’ তিনি জানান, ইতিমধ্যেই আরো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) প্রস্তুত হয়েছে, ভেন্টিলেটর স্থাপন করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকেই পরীক্ষা করা যাবে।

ব্রিফিংয়ে ড. ফ্লোরা আরো জানান, শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। তাঁর বয়স ২০ বছর। তিনি একজন নারী।

সরকারি ওই মুখপাত্র বলেন, আগের দুই দিন রোগী না পাওয়ার খবরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি বোধ দেখা দেয়। ফলে তারা সতর্কতার কথা ভুলে গিয়ে ঘর থেকে বের হতে শুরু করে, কিন্তু সবার মনে রাখা উচিত, দু-এক দিন রোগী শনাক্ত না হলে বাংলাদেশ করোনামুক্ত মনে করার কোনো কারণ নেই। সবাইকে সরকারের নির্দেশ মেনে ঘরে থাকবে হবে।

ব্রিফিংয়ের পরে ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সবাই যেহেতু জানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রয়েছে বয়স্ক মানুষের মধ্যে, তাই বয়স্ক মানুষ বেশি আতঙ্কিত হয়ে আছেন। এ ক্ষেত্রে যখন আমাদের দেশেই একজন এত বেশি বয়স্ক মানুষ করোনা জয় করলেন—এটা আমাদের জন্য বড় একটি ভালো লাগার ব্যাপার। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ এখন কিছুটা হলেও সাহস ভরসা পাবেন। তাঁরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে পারেন।’

বয়স্ক মানুষের উদ্দেশে ড. ফ্লোরা আরো বলেন, বয়স্ক হলেই যে করোনায় আক্রান্ত হলে আর বাঁচা যায় না, এ কথা ঠিক নয়। সতর্ক থাকলে এবং সময়মতো চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার আওতায় আসতে পারলে যে অনেকে সুস্থ হয়ে ওঠে সেটা এখন বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই দেখা যাচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা