kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

করোনাভাইরাস

বাড়ি বাড়ি পৌঁঁছে যাচ্ছে খাদ্যসামগ্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাড়ি বাড়ি পৌঁঁছে যাচ্ছে খাদ্যসামগ্রী

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে খাদ্যসামগ্রী। সরকারি নির্দেশনা মেনে ঘরে থাকায় হতদরিদ্র মানুষকেও দেওয়া হচ্ছে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, তেল, লবণ ও আলু। একই সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে সাবান, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও জরুরি ওষুধ।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছে মহাবিপদে। আয়-রোজগার বন্ধ অনেকের। প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছে তারা। এ দুর্ভোগে সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে তারা।

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের জাফরাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম জাফরাবাদ গ্রামের অসুস্থ ফাতেমা আক্তার (৬৫) স্বামী হারিয়েছেন বেশ কয়েক বছর আগে। ছেলে আল-আমিন রাজধানী ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করতেন। গত বৃহস্পতিবার সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই দিনই খালি হাতে বাড়ি ফেরেন তিনি। এ অবস্থায় খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছিলেন তাঁরা। বিষয়টি জানার পর করিমগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গতকাল শনিবার নিজে পরিবারটির খোঁজ নিতে বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে ১০ কেজি চাল, পাঁচ কেজি আলু ও দু্ই কেজি ডাল পরিবারটিকে দেন।

বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চালু করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। গতকাল শনিবার থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা মানুষের বাড়ির আঙিনায় পৌঁছে দেন শুকনা খাবার। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘শনিবার সকাল থেকেই চট্টগ্রাম জেলা ও নগরের দুস্থ মানুষের দরজায় শুকনা খাবার নিয়ে হাজির হন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। চট্টগ্রামের ১৬ উপজেলায় ১৭ হাজার প্যাকেট এবং নগরে প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০০ প্যাকেট খাবার দেওয়া হচ্ছে। নগরে রবিবার থেকেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ত্রাণ বিতরণ শুরুর কথা রয়েছে।’

যশোরের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন জানান, হতদরিদ্রদের জন্য যশোরের আটটি উপজেলা ও আটটি পৌরসভায় ১০০ টন চাল এবং ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

নড়াইলে নিজ উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করেছেন সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা। ক্ষুদ্র চা দোকানি আর গরিব ভ্যানচালকদের মাঝে গত শুক্রবার থেকে দেওয়া হচ্ছে এসব খাদ্য উপকরণ। এদিকে নড়াইলের জেলা প্রশাসক জানান, যাদের প্রকৃত দরকার তাদের তালিকা তৈরি করে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দুই গ্রামে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেন। ভ্যানে করে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা পরিবারগুলোর বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব খাবার তুলে দেয় পুলিশ।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শরীয়তপুরে দুস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৭০০ পরিবারের বাড়িতে গিয়ে এ খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।

এদিকে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, করোনাভাইরাসের ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে হতদরিদ্রদের জীবনে। এ অবস্থায় প্রাথমিকভাবে তাদের জন্য ১০০ টন চাল ও সাত লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। এগুলো বিতরণ শুরু হয়েছে।

পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলা প্রশাসন নদীতীর ও চরাঞ্চলের ঘরবন্দি মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে চালু করেছেন সেবার নৌকা। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চালু করা সেবার নৌকা নদীতীরবর্তী ঘরবন্দি মানুষের দ্বারে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। এদিকে করোনা মোকাবেলায় প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষের সহযোগিতায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে পিরোজপুর জেলা পরিষদ।

গোপালগঞ্জে বেকার হয়ে পড়া দুই হাজার চা দোকানির বাড়িতে গিয়ে সরকারের খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে প্রশাসন।

মৌলভীবাজারে সংকটকালীন এই সময়ে বেকার হয়ে পড়া অতিদরিদ্র, দিনমজুর, কর্মহীন বেকার ও অসচ্ছল মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে জেলা প্রশাসন।

এ ছাড়া মানিকগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া ও কাশিয়ানী, পটুয়াখালীর কলাপাড়া, নওগাঁ, কক্সবাজারের চকরিয়া, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি, পাবনার চাটমোহর, মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও কমলগঞ্জ, বাগেরহাটের মোংলা, বরিশালের আগৈলঝাড়ায়ও স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক, আঞ্চলিক অফিস ও প্রতিনিধিরা ]

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা