kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

প্রধানমন্ত্রী বললেন

পর্যাপ্ত খাদ্য আছে, মজুদ করবেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পর্যাপ্ত খাদ্য আছে, মজুদ করবেন না

আতঙ্কিত হয়ে খাদ্য মজুদ না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এখনো ১৭ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য শুধু সরকারি গুদামেই আছে। সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন গম আমাদের মজুদ আছে। এ ছাড়া আমাদের যে রাইসমিলগুলো আছে, তাদের কাছেও প্রচুর খাদ্য মজুদ আছে। তা ছাড়া আমাদের ক্ষেতের ফসল আছে। আমাদের যে রিজার্ভ আছে, তাতে অন্তত এক বছরের খাবার ক্রয় করার মতো সামর্থ্য আমাদের আছে। কাজেই সেদিক থেকেও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’ তিনি গতকাল শনিবার ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর গণমাধ্যমের উদ্দেশে এসব কথা বলেন।

করোনা আতঙ্কে খাদ্য মজুদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেখতে পাচ্ছি, কিছু লোক সমানে জিনিসপত্র কিনে মজুদ করছেন বা ঘরে নিয়ে যাচ্ছেন। একজন দেখলাম ৩০ কেজি লবণই কিনে ফেলেছেন! এই ৩০ কেজি লবণ দিয়ে উনি কত দিন খাবেন, আমি জানি না। আর সেটা দিয়ে উনি কী করবেন? পেঁয়াজের একবার দাম বাড়ার কারণে অনেকে প্রচুর পেঁয়াজ কিনে মজুদ করেছিলেন। ফলাফল এই হয়েছিল—সেগুলো পচে যাওয়াতে ফেলে দিতে হয়েছিল। কাজেই আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে যার যতটুকু প্রয়োজন, সেইটুকু আপনারা সংগ্রহ করেন।’

তিনি বলেন, ‘এইভাবে যদি বাজারের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়, বাজার তখন জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেয়। যার টাকা আছে সে তো কিনতে পারছে, কিন্তু যারা সীমিত আয়ের, তাদের পক্ষে তো এত কেনা সম্ভব না। কাজেই অন্যকে এভাবে কষ্ট দেওয়ার অধিকার কারো নাই।’

করোনা মোকাবেলায় সরকারে প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন থেকে চায়নায় এটা দেখা গেল, সঙ্গে সঙ্গেই আমরা কিন্তু সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি এবং ৩১৫ জন শিক্ষার্থী ছিল ওখানে। তাদের ফিরিয়ে এনে ১৪ দিন  কোয়ারেন্টিনে রেখে তারপর তাদেরকে আমরা ছেড়েছি। যারা বিদেশ থেকে আসছে, আমরা তাদের পরীক্ষা করছি এবং যার ভেতরে এতটুকু সন্দেহ হচ্ছে তাদেরকে কোয়ারান্টিনে থাকার ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি।’

বিদেশ থেকে আগতদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের আমরা এটুকু বলব যে তাদের নিজের জন্য, নিজের পরিবারের জন্য, ছেলে-মেয়ে, মা-বাবা, স্ত্রী, ভাই-বোন—তাদের সকলের নিরাপত্তার জন্য অন্তত ১৪টা দিন কোয়ারেন্টিনে থাকা। তার দ্বারা পরিবারের সদস্য এবং সাধারণ জনগণ কেউ যেন সংক্রমিত না হয় সে ব্যাপারে তাদের নিজেদেরকেই সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বাইরে ঘোরাঘুরি না করে যত দূর সম্ভব নিজের ঘরে থাকেন, আর নিজেকে সুরক্ষিত রাখেন। আমি শুধু এইটুকু আশা করব যে আমাদের দেশবাসী তারা যেন এটা মেনে চলেন।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা কয়েকটি হাসপাতালও একেবারে সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছি। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী হলে সেখানে আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা নিচ্ছি। ডাক্তার, নার্সসহ ওখানে যাঁরা কর্মরত তাঁদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা আমরা করছি। সবচেয়ে দুঃখজনক যে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা উদ্যাপন করব, অনেক কর্মসূচি আমরা নিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানেও যেখানে লোকসমাগম হবে আমরা সেটাও কিন্তু বন্ধ করে দিয়েছি। কাজেই আমরা যে কতটা গুরুত্ব দিয়েছি, সেটা আপনারাই অনুধাবন করতে পারেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা