kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

করোনায় দেশে প্রথম মৃত্যু নতুন আক্রান্ত ৪

► ১৬ জন আছেন আইসোলেশনে, সরকারি কোয়ারেন্টিনে ৪২ জন ► ঢাকা মেডিক্যালের ৪ চিকিৎসক কোয়ারেন্টিনে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় দেশে প্রথম মৃত্যু নতুন আক্রান্ত ৪

দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার তিনি একটি সংরক্ষিত হাসপাতালে মারা যান। তাঁর বয়স ৭০ বছর। তিনি পুরুষ। গত মঙ্গলবার দেশে যে দুজনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল তার একজন ছিলেন এই ব্যক্তি।

এ ছাড়া দেশে নতুন আরো চারজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নারী ও তিনজন পুরুষ। সব মিলিয়ে দেশে গতকাল পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪। তাদের মধ্যে তিনজন আগেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। গতকাল একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর ১০ জন চিকিৎসাধীন।

এ ছাড়া ১৬ জন আছে আইসোলেশনে। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছে ৪২ জন। তাদের মধ্যে চারজন চিকিৎসক রয়েছেন। সারা দেশে ছয় হাজার ৩৯৩ জন হোম কোয়ারেন্টিনে আছে।

গতকাল বিকেলে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সরকারের মুখপাত্র প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান।

যে চারজন চিকিৎসক হোম কোয়ারেন্টিনে গেছেন তাঁরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত। ওই মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন আদালতের ৩০ বিচারক অস্ট্রেলিয়ায় দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন।

ব্রিফিংয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির বিষয়ে ড. ফ্লোরা জানান, ওই ব্যক্তির পরিবারের এক সদস্য করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে এসেছিলেন। তিনি আবার ফিরেও গেছেন। তাঁর মাধ্যমেই ওই ব্যক্তি সংক্রমিত হয়েছেন।

তিনি জানান, মৃত ব্যক্তির আগেই কিডনির সমস্যা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ফুসফুসের সংক্রমণসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ ছিল। তাঁর হার্টে রিং পরানো ছিল। তিনি উচ্চ ঝুঁকিতে ছিলেন। এর মধ্যে বিদেশফেরত ভাইরাস সংক্রমিত স্বজন তাঁর সংস্পর্শে আসেন। এ ক্ষেত্রে আগে থেকে সতর্কতার কথা বলা হচ্ছিল বিভিন্নভাবে।

ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআর পরিচালক জানিয়েছেন, মারা যাওয়া ব্যক্তির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে যে চারজন আক্রান্ত হয়েছে তাদেরও বিভিন্ন ধরনের জটিলতা রয়েছে। আগের যারা হাসপাতালে ছিল তাদের মধ্যে দুজনেরও করোনার উপসর্গের সঙ্গে অন্যান্য জটিলতা আছে।

ড. ফ্লোরা ব্রিফিংয়ে দাবি করেন যে এখনো দেশে কমিউনিটিতে করোনাভাইরাস ছড়ায়নি। এটা যাতে না ছড়ায় সে জন্যই এখন তাঁরা কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এখন আর কোনো শৈথিল্য দেখানোর সুযোগ নেই। যিনি কোয়ারেন্টিনের সরকারি নির্দেশনা মানবেন না তাঁর বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা হয়েছে।’

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল এক সভায় বলেছেন, খুব দ্রুতই দেশের আট বিভাগেই নতুন করোনা ইউনিট স্থাপন করা হবে। ইউনিটগুলো স্থাপনের ফলে প্রতিটি বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের তথ্য, চিকিৎসা সুবিধাসহ সব ধরনের মনিটরিং ব্যবস্থা সহজ ও জোরদার হবে।

গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে ভাইরাস মোকাবেলায় করণীয় শীর্ষক এ আলোচনাসভায় দেশে করোনা আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পেলে কী উদ্যোগ নেওয়া হবে সে ব্যাপারে আলোচনা করা হয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশ থেকে যাত্রীরা যেন বাংলাদেশে এই মুহূর্তে না আসে সে ব্যাপারে আরো নির্দেশনা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিদেশফেরত প্রতিটি ব্যক্তিকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার সব নিয়ম মেনে চলতে হবে। না হলে দেশের সংক্রামক রোগের নির্ধারিত আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও গোয়েন্দা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জোরালো ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেন।

সভায় দেশের চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান ছয় হাজার বিশেষ গাউন (পিপিই) দেওয়ার আশ্বাস দেন।

সভায় উপস্থিত আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সামাজিক মাধ্যমে করোনা বিষয়ে অবগত হতে নতুন একটি ই-মেইল আইডি ও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার কথা জানান। আইইডিসিআরের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হচ্ছে iedcr,COVID-19 Control Room। এ ছাড়া সভায় সরাসরি যোগাযোগের জন্য আগের দুটি ছাড়া নতুন ১৭টি হটলাইনের নম্বর জানিয়ে দেওয়া হয়। সব হটলাইন নম্বর হচ্ছে ৩৩৩, ১৬২৬৩, ০১৫৫০০৬৪৯০১, ০১৫৫০০৬৪৯০২, ০১৫৫০০৬৪৯০৩, ০১৫৫০০৬৪৯০৪, ০১৫৫০০৬৪৯০৫, ০১৪০১১৮৪৫৫১, ০১৪০১১৮৪৫৫৪, ০১৪০১১৮৪৫৫৫, ০১৪০১১৮৪৫৫৬, ০১৪০১১৮৪৫৫৯, ০১৪০১১৮৪৫৬০, ০১৪০১১৮৪৫৬৩, ০১৪০১১৮৪৫৬৮, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা