kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি

সমন্বিত নয় পরীক্ষা হবে গুচ্ছ পদ্ধতিতে

► ‘বড়’রা না আসায় ইউজিসির অবস্থান বদল
► চলতি শিক্ষাবর্ষে অংশ নিচ্ছে ৩৪ প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সমন্বিত নয় পরীক্ষা হবে গুচ্ছ পদ্ধতিতে

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা হবে গুচ্ছ পদ্ধতিতে। বছরের শুরুর দিকে সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। কিন্তু বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেঁকে বসলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তালগোল পাকিয়ে ফেলে ইউজিসি। এরপর তা পরিবর্তন করে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি করা হয়। অবশেষে চার ধাপে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ইউজিসি মিলনায়তনে গতকাল বুধবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠক শেষে চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানান কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি, প্রকৌশল ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি ধাপে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। তবে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে পৃথকভাবে তিনটি ভর্তি পরীক্ষা হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে দেশের বড় পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে। এবার ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয় এই পদ্ধতিতে পরীক্ষায় অংশ নেবে বলে চূড়ান্তভাবে জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে যুক্ত হতে পারছেন বলে জানিয়েছেন। তবে আমাদের চেষ্টা ও দরজা খোলা থাকবে। কেউ এতে যুক্ত হতে চাইলে নেওয়া হবে।’

জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় না আসায় কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের কোনো আকর্ষণই থাকবে না। তাই ওই অবস্থান থেকে সরে এসে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মো. আলমগীর বলেন, ‘মার্চের প্রথম সপ্তাহে আবারও বৈঠক করে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হবে। তারা উপকমিটি গঠন করে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন, প্রশ্ন পদ্ধতি প্রণয়ন, ফল প্রকাশসহ সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীর পছন্দ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। কেন্দ্রীয় কমিটি ও উপকমিটির সদস্যদের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা পরিচালিত হবে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হবে।’

বৈঠকে উপস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষাকে সবাই সমর্থন করেছেন। তবে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কাউন্সিল কমিটির সদস্যদের সম্মতি না থাকায় এতে যুক্ত হতে পারছে না বলে জানানো হয়েছে।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘প্রথমে সবাই সমন্বিত ও কেন্দ্রীয় ভর্তি পদ্ধতিকে সমর্থন জানালেও এখন কেন যেন কেউ কেউ পিছিয়ে যাচ্ছে। এটি লজ্জার বিষয়। যে সমস্যার কারণে অনেকে পিছিয়ে যাচ্ছে, তা চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘স্বয়ং রাষ্ট্রপতি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা প্রত্যাশা করেছেন। দেশের মানুষও তাই চায়। তার পরও এই প্রক্রিয়ায় কেউ পিছিয়ে থাকাটা দুঃখজনক। তবে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আয়োজন করতে হবে। কেউ যেন এটি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা