kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা

খালেদার শারীরিক অবস্থা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

জামিন আবেদনের শুনানি বৃহস্পতিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



খালেদার শারীরিক অবস্থা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভিসিকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। আগামী বুধবার বিকেল ৫টার মধ্যে হাইকোর্টে তা দাখিল করতে হবে।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ আদেশ দেন। আদালত আদেশে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিএসএমএমইউর ভিসির কাছে তিনটি বিষয় জানতে চেয়েছেন। আদেশে মেডিক্যাল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে খালেদা জিয়া অ্যাডভান্স চিকিৎসা শুরু করার অনুমতি দিয়েছেন কি না, অনুমতি দিয়ে থাকলে সে অনুযায়ী তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়েছে কি না? চিকিৎসা শুরু করা হয়ে থাকলে তাঁর শারীরিক অবস্থা কি তা জানাতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবীর আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ আবেদনের জোরালো বিরোধিতা করেন। 

খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। এ সময় অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিওন প্রমুখ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মমতাজউদ্দিন ফকির, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ। এ সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

এ সময় আদালতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। 

গতকালের শুনানি

আদালতের আদেশের আগে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিকালে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা এই আদালতে জামিনের আবেদন করেছিলাম। আদালত তা খারিজ করে দেওয়ায় আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। আপিল বিভাগও আবেদন খারিজ করে দেন। তবে মেডিক্যাল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী অ্যাডভান্স চিকিৎসার নির্দেশনা দেন। কিন্তু দিন দিন তাঁর অবস্থার অবনতি হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের বেশি কিছু চাওয়ার নেই। আমরা মানবিক কারণে জামিন চাচ্ছি। জামিন পেলে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চান খালেদা জিয়া। এ কারণেই আমরা এই মুহূর্তে তাঁর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে মেডিক্যাল রিপোর্ট চাইতে আবেদন করেছি।’

এ সময় আদালত বলেন, খালেদা জিয়ার কি চিকিৎসা হচ্ছে না? জবাবে জয়নুল আবেদীন বলেন, হচ্ছে। তবে দিন দিন তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, আগের আবেদন আর এখনকার আবেদনের বক্তব্য একই। নতুন কিছু নেই। আপিল বিভাগ আদেশ দিয়েছিলেন খালেদা জিয়ার অনুমতি নিয়ে তাঁর বায়োলজিক থেরাপি দিতে। খালেদা জিয়া অনুমতি না দেওয়ায় ওই চিকিৎসা শুরু করা যাচ্ছে না। বোর্ড তাঁর অনুমতির অপেক্ষায় আছে। তিনি বলেন, তাঁর চিকিৎসার জন্য যে ওষুধের কথা বলা হচ্ছে তা দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। আর কোন কোন ক্ষেত্রে অবনতি হয়েছে তা এখনকার আবেদনে এমন কিছু বলা হয়নি। তিনি বলেন, এই আবেদন করা হয়েছে শুধু আদালতকে বিব্রত করার জন্য। শুধুই ‘করার জন্য করা’ হয়েছে এ আবেদন।

এরপর জয়নুল আবেদীন বলেন, আগের আবেদন আর এখনকার আবেদন এক নয়। আপিল বিভাগ আদেশ দিয়েছেন ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর। কিন্তু এরপর কি হয়েছে তা জানি না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বোন দেখা করে মিডিয়ার কাছে বলেছেন যে খালেদা জিয়া ৫ মিনিটও দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। তাঁর বাম হাত পুরোপুরি বাঁকা হয়ে গেছে। ডান হাতও বাঁকা হয়ে যাচ্ছে। আমরা তো নিজের চোখে দেখতে পারিনি। আমাদের দেখা করতে দেওয়া হয় না।

এ সময় আদালত বলেন, কয়েক দিন আগেই তো তাঁর আত্মীয়-স্বজন দেখা করেছেন। পত্রিকায় আমরাও দেখেছি। আদালত বলেন, চিকিৎসকদের কথা আর আত্মীয়-স্বজনের কথা এক না। আত্মীয়-স্বজন আবেগপ্রবণ হবেন এটাই স্বাভাবিক। তাঁরা তো আর খালেদা জিয়ার ভেতরের অবস্থা জানেন না। সেটা জানেন চিকিৎসকরা। এরপর আদালত জয়নুল আবেদীনের কাছে জানতে চান, খালেদা জিয়া কি অনুমতি দিয়েছেন?

জবাবে জয়নুল আবেদীন বলেন, দিয়েছেন। এ সময় আদালত জানতে চান, তাহলে কি চিকিৎসা করছে না? জবাবে জয়নুল আবেদীন বলেন, চিকিৎসা করছে। তবে দিন দিন তো অবনতি হচ্ছে। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চান খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, বিএসএমএমইউর কাছে মেডিক্যাল রিপোর্ট চাওয়ার জন্য আবেদন করেছি। শুনানি শেষে আদেশ দেন আদালত।

এর আগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে তথা যুক্তরাজ্যের মতো দেশে যাওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়েছে। পরদিন এ আবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হলে আদালত শুনানির জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন। গতকাল নির্ধারিত দিনে আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপিত হলে রাষ্ট্রপক্ষে সময় দেওয়া হয়। আদালত দুপুর ২টায় শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করেন। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা খালেদা জিয়ার সব শেষ শারীরিক অবস্থা জানতে তাঁর মেডিক্যাল রিপোর্ট চাওয়ার জন্য আবেদন দেন। এ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত আদেশ দেন।

সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে প্রবেশে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানিকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্টে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। আদালত চত্বরে প্রবেশের সব কটি ফটকে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আগতদের পরিচয়পত্র দেখে দেখে আদালত চত্বরে প্রবেশ করার সুযোগ দেওয়া হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা