kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বব্যাংক

দরকার ৬৬,২৯৯ কোটি টাকার বিনিয়োগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দরকার ৬৬,২৯৯ কোটি টাকার বিনিয়োগ

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় উচ্চ মৃত্যুহারের কারণ হচ্ছে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার জন্য পদ্ধতিগত, সুনির্দিষ্ট ও টেকসই সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগের অভাব এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিনিয়োগের অগ্রাধিকার চিহ্নিত করতে না পারা। এ অবস্থায় দেশের সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুহার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে আগামী দশকে এই খাতে বাংলাদেশের সাত লাখ ৮০ কোটি মার্কিন ডলার (৬৬ হাজার ২৯৯ কোটি, ১৯ লাখ আট হাজার টাকা) বিনিয়োগের প্রয়োজন।

গত বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংক ‘রোড সেফটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে। ১৯-২০ ফেব্রুয়ারি স্টকহোমে ‘সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক তৃতীয় মন্ত্রী পর্যায় সম্মেলন’ উপলক্ষে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক এই অর্থ সহায়তাকারী সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংক জানায়, দক্ষিণ এশিয়ার পূর্ব উপ-অঞ্চলে সড়ক নিরাপত্তার ওপর বৃহত্তর গবেষণার অংশ হিসেবে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে সড়ক ও যানবাহনকে আরো নিরাপদ করতে আঞ্চলিক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জাতীয় পর্যায়ে পদক্ষেপ গ্রহণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টভিগ শেফার মন্তব্য করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় কয়েক বছর ধরে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে মাত্রাধিক পরিমাণে যানবাহনের মালিকানা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সড়ক মৃত্যুকে বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুযোগও নষ্ট করছে। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় সড়ক নিরাপত্তা সংকট যেমন অগ্রহণযোগ্য, তেমনি তা প্রতিরোধযোগ্যও। সুখবর হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার সরকারগুলো এটা মেনে নিয়েছে যে তাদের জনগণকে রক্ষা করা, জীবন বাঁচানো এবং বৃহত্তর সমৃদ্ধির যাত্রায় টিকে থাকা জরুরি প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা বিশ্বব্যাংক থেকে তাদের এ প্রচেষ্টায় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনায় বার্ষিক মাথাপিছু মৃত্যুহার উচ্চ আয়ের তুলনায় দ্বিগুণ এবং সর্বোচ্চ সক্ষমতাসম্পন্ন রাষ্ট্রের তুলনায় পাঁচ গুণ। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। ২০১৭ সালে তো বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর চতুর্থ সর্বোচ্চ কারণ ছিল সড়ক দুর্ঘটনা। অথচ ১৯৯০ সালে তা ছিল নবমতম কারণ।

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়, সড়ক অবকাঠামো এমন হওয়া দরকার, যাতে পশু থেকে শুরু করে পথচারী, বাইসাইকেল, রিকশা, মোটরসাইকেল, তিন চাকার মোটরযান, কার, মিনিবাস, বাস, মিনিট্রাক, ট্রাক, কৃষিযানসহ সড়কের সব ধরনের ব্যবহারকারী ও যানবাহনের উপযোগী হয়। এ জন্য বিশুদ্ধ পরিবহনকেন্দ্রিক চিন্তার চেয়ে দরকার মানবকেন্দ্রিক চিন্তা, যাতে সড়কের সঠিক স্থান ও সঠিক পথের ভারসাম্য থাকে।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের দেশীয় পরিচালক (কান্ট্রি ডিরেক্টর) মারসি টেমবোন বলেন, বাংলাদেশের জন্য সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়টি হচ্ছে একটি জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকার, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও মানব পুঁজির বিয়োগান্ত ক্ষতি কমিয়ে আনতে বাংলাদেশকে অবশ্যই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রতিবেদনে আঞ্চলিক বাণিজ্য করিডর সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যাতে সড়ক দুর্ঘটনা একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, যেখানে সড়ক অনিরাপদ। তাই পশু, পথচারী, বাইসাইকেল, রিকশা, মোটরসাইকেল, তিন চাকার মোটরযান, কার, বাস, মিনিবাস, ট্রাক, মিনিট্রাক, কৃষিযানসহ সব ধরনের সড়ক ব্যবহারীদের সুযোগ এই করিডরে নিশ্চিত করতে হবে। অথচ বর্তমানে সড়কগুলোতে রয়েছে সরু লেন, সীমিত বা শূন্য রোডশোল্ডার (অতিরিক্ত পার্শ্ব সড়ক) ও অপর্যাপ্ত পথচারী লেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতে সড়ক মৃত্যুর হার হচ্ছে প্রতি কিলোমিটারে ০.৩ থেকে তিনজন। প্রতি কিলোমিটারে গড়ে এ হার হচ্ছে বছরে ০.৮৭ জন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা