kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

বেপরোয়া পুলিশ

এস এম আজাদ   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



বেপরোয়া পুলিশ

‘কোনো মামলা কিংবা অভিযোগ না থাকা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ইয়াছিনকে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর নগরীর পলিটেকনিক এলাকা থেকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় বায়েজিদ বোস্তামী থানার পুলিশ। তাঁকে থানায় আটকে রেখে ‘ক্রসফায়ারের’ হুমকি দিয়ে দাবি করা হয় ২০ লাখ টাকা। ভয়ে ওই ব্যবসায়ী পরিবার-পরিচিতজনদের কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা জোগাড় করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এরপর সাদা কাগজে সই নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ১১ লাখেও পেট ভরেনি ওই পুলিশদের। গত ৪ ফেব্রুয়ারি আবার ইয়াছিনকে শের শাহ এলাকা থেকে ওই পুুলিশরা ধরে নিয়ে যায়। এবার তাঁকে মাইক্রোবাসে করে নগরের কয়েকটি নির্জন স্থানে ঘুরিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে দাবি করা হয় ৫০ লাখ টাকা। বাধ্য হয়ে আবার স্বজনদের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ধারকর্জ করে পুলিশকে দিলে নগরের আতুরার ডিপো এলাকায় মাইক্রোবাস থেকে তিনি ছাড়া পান।’ 

পলিটেকনিক্যাল এলাকার রড-সিমেন্টের দোকান মেসার্স ইয়াছিন এন্টারপ্রাইজের মালিক ইয়াছিন অবশেষে এই অভিযোগ জানিয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি প্রিটন সরকার, চান্দগাঁও থানার ওসি খন্দকার আতাউর রহমানসহ (বায়েজিদ থানার সাবেক ওসি) ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গতকাল নালিশি মামলা করেছেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দিন মুরাদের আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) আমেনা বেগমকে নির্দেশ দিয়েছেন।

রাজধানীর পল্টন এলাকার ‘হোটেল বন্ধু’র ব্যবস্থাপক হাসান মজুমদার ও বাবুর্চি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করেছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মতিঝিল জোনের একটি দল। এরপর তাঁদের বিরুদ্ধে জাল টাকা ছড়ানোর অভিযোগে মামলা হয়। সেই মামলায় পাঁচ মাস ১৭ দিন কারাভোগও করেন ‘আসামিরা’। ঘটনাটি ২০১৬ সালের। তবে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ডিএমপি কমিশনার বরাবর অভিযোগ করেন হাসান। তাঁর দাবি, তিন লাখ টাকা না দেওয়ায় ভুয়া মামলায় থাকে ফাঁসিয়েছেন ডিবির এসআই তপন কুমার ঢালী, এসআই দেওয়ান উজ্জ্বল হোসেন, এএসআই জিয়াউর রহমান, সোহেল মাদমুদসহ একটি দল। এ অভিযোগ তদন্তে পুলিশ তিনটি কমিটিও করে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও মেলে অভিযোগের সত্যতার চিত্র। এর পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

উল্টো অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে এখনো হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি মেহেদী শেখ নামে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে এক কোটি ২৫ লাখ টাকার চেকে সই করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান, ধানমণ্ডি থানার এসআই জিল্লুর রহমান ও হাজারীবাগ থানার এএসআই রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মেহেদী শেখ। ডিএমপি কমিশনার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সাংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেহেদীর অভিযোগ, ডিসি সাজ্জাদুর রহমান তাঁর সঙ্গে ব্যবসায় ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। নিয়মের বাইরে টাকা ফেরত পেতেই এই কাণ্ড ঘটান তিনি। তবে সাজ্জাদুর রহমান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সাজ্জাদুর রহমানের শ্যালক মাসুদ হোসেন শুভ্র দাবি করেন, ‘ফাইভ ওয়ান বিডি নামে একটি প্রতিষ্ঠানে আমার সঙ্গে আর্থিক বিরোধ ছিল মেহেদী শেখের। আমি টাকার জন্য মামলাও করেছিলাম।’

কক্সবাজারের মহেশখালী থানা এলাকার বাসিন্দা মরিয়ম বেগম ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেন ওই থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাসের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, টাকা না পেয়ে ওসি প্রায় ১০ লাখ টাকার লবণ লুট করে নিয়ে গেছেন। মন্ত্রণালয় প্রদীপ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি এখন টেকনাফ থানার ওসি।

এভাবেই সামনে আসছে একের পর এক ঘটনা। পুলিশের অসাধু সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রতিদিনই চাঁদা দাবি, ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া, আটকে রেখে টাকা আদায়, কথিত অভিযোগে ঘুষ দাবি করে হয়রানি, মাদক কারবারে সম্পৃক্ততা, জমি দখলে সহায়তা, অবৈধভাবে ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করা, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টা, অপহরণ, ছিনতাই, নির্যাতন, যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

গত ছয় মাসের আলোচিত অর্ধশতাধিক ঘটনার বিশ্লেষণ করে এবং অভিযোগ গ্রহণের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য মতে, এখন পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, হুমকি, হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ আর্থিক অপরাধ বা দুর্নীতির অভিযোগ বেশি উঠছে। এসব অপরাধের বেশি শিকার হচ্ছে সাধারণ ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিগত প্রতিপক্ষ। বিশ্লেষকরা বলছেন, গুরুতর অপরাধ করেও পুলিশ সদস্যরা নামমাত্র শাস্তিতে রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন। এ কারণেই পুলিশে অপরাধ কমছে না। এমনকি অপকর্মে জড়িতরা প্রভাব খাটিয়ে বহালও থেকে যাচ্ছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য মতে, গত ৯ বছরে এক লাখ ২০ হাজার ১৯১টি ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই হিসাবে বছরে গড়ে ১৩ হাজার ৩৫৪টি ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তবে এর মধ্যে ১ শতাংশ সদস্যেরও চাকরি যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশ সদস্যদের আর্থিক অপরাধ বাহিনীর ভাবমূর্তিতে মারাত্মক খারাপ প্রভাব ফেলছে। অভিযোগের দায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে আইজিপি, কমিশনারসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের।

গত বছর রাজধানীর ওয়ারীতে সম্পত্তি দখলে আট থেকে ১০ কোটি টাকার আর্থিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে ওয়ারী বিভাগের সাবেক ডিসি মোহাম্মদ ইব্রাহিম খানের বিরুদ্ধে। এই দুর্নীতিতে সহায়তার অভিযোগ ওঠে বংশাল থানার সাবেক ওসি সাহিদুর রহমান ও নবাবপুর ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ এসআই জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধেও।

গত বছরের ৩ নভেম্বর এক শিল্পপতির পরিবারকে ৪০ লাখ টাকার জন্য হয়রানির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের তখনকার পুলিশ সুপার হারুন উর রশিদকে পুলিশ সদর দপ্তরে (ট্রেনিং রিজার্ভ) সংযুক্ত করা হয়। পুলিশের এই আলোচিত এসপির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী, শিল্পপতিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের নভেম্বর মাসে ১০ লাখ টাকা ছিনতাই করতে গিয়ে ধরা পড়েন বংশাল থানার কনস্টেবল মামুন। সম্প্রতি ঘুষের বিনিময়ে নিরপরাধ এক ব্যক্তিকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার এএসআই আলমগীরকে ক্লোজ করা হয়। এক বছর আগে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমানের আর্থিক ও নারী কেলেঙ্কারি ছিল ব্যাপক আলোচনায়।

পুলিশ প্রবিধান (পিআরবি-১৮৬১) অনুযায়ী, কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে দুই ধরনের বিভাগীয় শাস্তির (লঘু ও গুরু) বিধান আছে। গুরুদণ্ডের আওতায় চাকরি থেকে বরখাস্ত, পদাবনতি, পদোন্নতি স্থগিত, বেতন বৃদ্ধি স্থগিত ও বিভাগীয় মামলা হয়। মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হলে বরখাস্ত করা হয়। গুরুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ আছে। ছোট অনিয়ম বা অপরাধের জন্য দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার, অপারেশনাল ইউনিট থেকে পুলিশ লাইনস বা রেঞ্জে সংযুক্ত করে লঘুদণ্ড দেওয়ার বিধান আছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ১৪ হাজার ২৫৯ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানামুখী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আসে সদর দপ্তরে। এর মধ্যে লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন ১৩ হাজার ৬৫৫ জন। গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে ৬০৪ জনকে। ৬৯ জনকে করা হয়েছে চাকরিচ্যুত। আর পাঁচজনকে পাঠানো হয়েছে বাধ্যতামূলক অবসরে। ২০১৭ সালে ১৬ হাজার ২৫৮ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৩৯৫ জনকে (কনস্টেবল থেকে এসআই পদবির) লঘুদণ্ড, ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার ৩৫৭ জনকে গুরুদণ্ড ও ২৯ জনকে লঘুদণ্ড, সাতজনের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় শাস্তি এবং ২৫ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর ‘আইজিপি কমপ্লেইন সেল’ চালু করে পুলিশ সদর দপ্তর, যেখানে এসএমএস (০১৭৬৯৬৯৩৫৩৫ ও ০১৭৬৯৬৯৩৫৩৬) এবং মেইলে ([email protected])  প্রতি মাসে প্রায় ৩০০ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এসব অভিযোগের মধ্যে ঘুষ নেওয়া থেকে শুরু করে নানাভাবে হয়রানি, বিয়ের পর স্ত্রীকে ভরণ-পোষণ না দেওয়া ও যৌতুকের জন্য নির্যাতন, মামলা দায়েরের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া, জমিজমাসংক্রান্ত এবং পুলিশ সদস্যের হুমকির মুখে জীবনের নিরাপত্তা চাওয়ার মতো বিষয় থাকে। সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ‘কমিউনিটি পুলিশ, কমপ্লেইন সেল চালু করে পুলিশকে স্বচ্ছতা ও জনগণের কাছে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। পুলিশের দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ করা না গেলে আধুনিক জনতার পুলিশ হওয়া সম্ভব নয়।’

অভিযোগ উঠলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে থাকে বহাল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৫৩ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও বেশির ভাগই আছেন এখনো বহাল। কনস্টেবল থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার (এসপি) পর্যন্ত পুলিশের এসব সদস্যের কারো কারো বিরুদ্ধে খুনের আসামিকে না ধরা এবং টাকা খেয়ে হত্যা মামলার তদন্ত অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও আছে। পেশাদার অপরাধীর মতোই মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন তাঁরা। দ্রুত তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত বছরের ১০ এপ্রিল আইজিপির কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই তালিকায় নাম থাকা টেকনাফের ওসি প্রদীপ কুমার দাসের মতোই ঢাকার মিরপুরের ওসি দাদন ফকির আছেন বহাল তবিয়তে।

গত বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ৩৫ লাখ টাকার চেক সংগ্রহ করে স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে গ্রেপ্তার হন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের পরিদর্শক মীর আবুল কালাম আজাদ ও এএসআই মোস্তাফিজুর রহমান। বিভাগীয় তদন্তে ওই দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আরো দুর্নীতির তথ্য মিলেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ দুর্নীতির দায়ে আরো চারবার দণ্ডিত হন। এর পরও ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তার আশীর্বাদ পেয়ে তিনি চাকরিতে বহাল থাকেন। পেয়েছিলেন দায়িত্বও।

মানবাধিকারকর্মী এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির উপদেষ্টা নূর খান লিটন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ উঠত। তবে গত কয়েক বছরে টাকা-পয়সা নেওয়া, জমির দখল, এমনকি ব্যক্তিগত বিরোধে পড়ার মাত্রা বেড়েছে। অনেক ঘটনা ঘটছে, যার কোনোটিরই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখানে পুলিশের আইজি, কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতনদের নজরদারির বা কমান্ডের দুর্বলতা দেখছি। আঞ্চলিকতার বা রাজনৈতিক দোহাই দিয়ে অভিযুক্তরা শীর্ষ পর্যায়ের ছাড় পেতে পারে না। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’      

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘পুলিশের কাছে মানুষ নিরাপত্তা চায়। সেই পুলিশই যদি জনগণকে জিম্মি করে তাহলে আর যাওয়ার জায়গা থাকে না। অবৈধ টাকা উপার্জনের মানসিকতা থেকে বের না হতে পারলে জনতার পুলিশ সম্ভব নয়। এ জন্য যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’  

এ ব্যপারে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। প্রথমে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়। এরপর সত্যতা পাওয়া গেলেই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এটা চলমান প্রক্রিয়া।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা