kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

‘ডিকাব টক’-এ চীনের রাষ্ট্রদূত

কিছু কর্মকর্তা চীনে, প্রকল্পের কাজে বিঘ্ন

► ১৭১ বাংলাদেশিকে এখনই না আনার পরামর্শ
► চীনফেরত শিক্ষার্থী হবিগঞ্জ হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কিছু কর্মকর্তা চীনে, প্রকল্পের কাজে বিঘ্ন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, চীনের হুবেই প্রদেশে থাকা আরো ১৭১ বাংলাদেশিকে এখনই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে না। গতকাল সোমবার ওই ১৭১ জনকে এখনই বাংলাদেশে না আনার পরামর্শ দিলেন বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংও। সেই সঙ্গে তিনি জানান, চীনে থাকা কোনো বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ডিকাব টক’-এ চীনের রাষ্ট্রদূত এ তথ্য জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে কর্মরত চীনের প্রায় আট হাজার নাগরিকের মধ্যে অল্প কিছুসংখ্যক চীনা নববর্ষ পালন করতে দেশে চলে যান। পরিস্থিতির মুখে তাঁরা না আসতে পারায় সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজে কিছু সমস্যা হতে পারে। তবে তা কাটিয়ে উঠার পথ খোঁজা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে চীনকে গ্লাভস, মাস্ক, ড্রেস, স্যানিটাইজারসহ আরো কিছু সামগ্রী পাঠানোর জন্য ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রদূত। একইভাবে চীন সরকারের পক্ষ থেকে ৫০০ টেস্ট কিট (স্বাস্থ্য পরীক্ষার উপকরণ) শিগগিরই বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে চীনফেরত এক শিক্ষার্থীকে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশি পাহারায় বিশেষ ওয়ার্ডে তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রদূত গতকাল বলেন, চীনে বাংলাদেশের যাঁরা আছেন তাঁরা সেখানে সংরক্ষিত ব্যবস্থাপনার মধ্যেই আছেন। তাঁরা কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন। তবে দেশে এলে মানুষের মধ্যে তাঁদের নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। যে ফ্লাইটে তাঁরা আসবেন তার পাইলট ও ক্রুদের অন্য দেশে যাতায়াতেও সমস্যা হয়। তাই সব দিক বিবেচনায় তাঁদের না ফেরানো ভালো হবে।

এদিকে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, গতকাল সকাল পর্যন্ত ৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের কারোরই করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি। আর এখন পর্যন্ত দেশে কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়নি। আবার চীন কিংবা সিঙ্গাপুরের যাত্রী মানেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা রোগী নয়। চীনের সব প্রদেশেই কিন্তু করোনাভাইরাস ছড়ায়নি। এ ছাড়া সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত পাঁচ বাংলাদেশির ব্যাপারেও সার্বক্ষণিক খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। একজন এখনো আইসিইউয়ে আছেন। পাঁচজন আছেন কোয়ারেন্টাইনে।

করোনাভাইরাস নিয়ে গুজবের ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান ড. ফ্লোরা। তিনি বলেন, চীন বা সিঙ্গাপুর থেকে যাঁরা আসছেন তাঁদের নিয়ে পরিবার কিংবা এলাকাবাসীর মধ্যেও উৎকণ্ঠার কিছু নেই। উদ্বেগ বা আতঙ্ক নয়, সবারই সতর্ক থাকা দরকার।

এদিকে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ চায়না বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে করোনাভাইরাস বিষয়ে এক সেমিনার হয়।

এ ছাড়া স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের পাবলিক হেলথ বিভাগের আয়োজনে করোনাভাইরাস নিয়ে প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়ে এক সেমিনার হয়। অধ্যাপক ডা. নওজিয়া ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে ওই সেমিনারে বক্তব্য দেন আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেনসহ অন্যরা।

চীনফেরত শিক্ষার্থী হবিগঞ্জে হাসপাতালে ভর্তি : আমাদের হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে চীনফেরত এক মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এতে চিকিৎসক-নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি চীনের উহান থেকে দেশে ফেরা ৩১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ওই শিক্ষার্থীও ছিলেন। দেশে ফেরার পর অন্য সবার মতো তিনিও আশকোনা হজ ক্যাম্পে ছিলেন। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৫ ফেব্রুয়ারি অন্যদের সঙ্গে তাঁকেও শর্ত সাপেক্ষে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। গত রবিবার দুপুরে তিনি অসুস্থ বোধ করলে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। ওই সময় চিকিৎসক-নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। তবে ওই শিক্ষার্থী বারবার দাবি করছিলেন, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন। একপর্যায়ে তিনি আতঙ্ক কমাতে চিকিৎসা না নিয়েই বাসায় ফিরে যান। পরে রাতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ তাঁকে বাসা থেকে আবার হাসপাতালে নিয়ে যায়।

হবিগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ওই শিক্ষার্থীকে সদর হাসপাতালের বিশেষ ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পরীক্ষা সরঞ্জাম না থাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না, নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাঁর রক্তের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যেহেতু তাঁকে আশকোনা হজ ক্যাম্পে দীর্ঘদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে, সেহেতু তাঁর শরীরে করোনাভাইরাস থাকার আশঙ্কা নেই।’

আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান বরগুনা স্বাস্থ্য বিভাগের : বরগুনা প্রতিনিধি জানান, করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বরগুনার স্বাস্থ্য বিভাগ। গতকাল দুপুর ২টায় নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মো. হুমায়ূন শাহীন খান এ আহ্বান জানান।

সিভিল সার্জন বলেন, চীনফেরত বাংলাদেশি ১৬ ফেব্রুয়ারি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। এ ঘটনা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় আইইডিসিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁকে জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে এবং পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাঁর শরীরে রোগের কোনো লক্ষণ পাওয়া গেলে তিনি হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি থাকবেন আর না পাওয়া গেলে তাঁর বাড়িতে পর্যবেক্ষণে থাকবেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা