kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

কলারোয়া

’৬১-তে শুরু হয় অস্থায়ী বেদিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

মোশাররফ হোসেন, সাতক্ষীরা   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



’৬১-তে শুরু হয় অস্থায়ী বেদিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

মায়ের মুখের ভাষার দাবিতে ঢাকার রাজপথে সালাম, বরকত, জব্বার, রফিকদের আত্মত্যাগ আলোড়িত করে সাতক্ষীরার কলারোয়াকেও। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির সেই স্মৃতি বহন করে এখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ মিছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৬১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কলারোয়া কলেজের প্রবেশপথের উত্তর কোণে নির্মাণ করা হয় প্রথম শহীদ মিনার। কলাগাছ পুঁতে তাতে কালো কাপড় বেঁধে নির্মিত বেদিতে ভাষাশহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে অর্পণ করা হয় শ্রদ্ধার অর্ঘ্য।

শহীদ মিনার নির্মাণ না হলেও বায়ান্নর পর থেকে প্রতিবছরই একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করা হতো কলারোয়া জিকেএমকে পাইলট হাই স্কুল চত্বরে। কলারোয়ার একমাত্র ভাষাসৈনিক উপজেলার ঝাপাঘাট গ্রামের শেখ আমানুল্লাহর ডাকে এলাকার ছাত্র, শিক্ষক ও রাজনীতিকদের উপস্থিতিতে ভাষাশহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠিত হতো স্মরণসভা ও সমাবেশ।

কলারোয়ার ইতিহাস গ্রন্থের লেখক প্রবীণ ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আবু নসর বলেন, ‘ভাষার দাবিতে ঢাকায় ছাত্ররা শহীদ হওয়ার খবর দেরিতে হলেও পৌঁছে যায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল সাতক্ষীরার কলারোয়ায়। আমরা অনেকে একত্র হয়ে তৎকালীন সাতক্ষীরা মহকুমা শহরে প্রতিবাদ মিছিল করি। এর পর থেকে প্রতিবছরই সাদা কাগজে কালো কালিতে লিখে পোস্টার বানিয়ে পদযাত্রা ও সমাবেশের মাধ্যমে একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করা হতো।’

আবু নসর জানান, কলারোয়ায় কলেজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেখানে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয় ১৯৬১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। তৎকালীন ন্যাপ নেতা ভাষাসৈনিক শেখ আমানুল্লাহর পৃষ্ঠপোষকতায় কলারোয়া কলেজের (বর্তমানে সরকারি) তৎকালীন অধ্যক্ষ প্রয়াত আব্দুস ছোবাহানের নেতৃত্বে কলাগাছ পুঁতে তাতে কালো কাপড় বেঁধে নির্মাণ করা হয় শহীদ মিনার।

সময় পরিক্রমায় ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগের কথা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার তাগিদ অনুভূত হয়। স্বাধীনতাযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে কলারোয়া কলেজের ছাত্রসংসদ ভবনের পাশে গাঁথুনি দিয়ে নির্মাণ করা হয় শহীদ মিনারটি। এই উদ্যোগে এগিয়ে আসেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব এম সি এ মমতাজ আহম্মেদ, বি এম নজরুল ইসলাম, কেরামত আলী, মুসলিম লীগ নেতা আজিজুল হক চৌধুরী, অধ্যাপক নজরুল ইসলামসহ অনেকে।

সাতক্ষীরা জেলার ইতিহাস গ্রন্থের রচয়িতা অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, ‘জেলার ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব ভাষাসৈনিক প্রয়াত আলহাজ শেখ আমানুল্লাহ তাঁর জীবদ্দশায় ভাষাশহীদদের স্মরণে কলারোয়ায় শহীদ মিনার নির্মাণের পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেন। অধ্যাপক আবু নসরসহ এলাকার গুণীজনরা তাঁর পাশে থেকে এই উদ্যোগে শক্তি জোগান।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা