kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

নিউজটোয়েন্টিফোরের সাংবাদিকের ওপর হামলা

গ্রেপ্তার ৪, তিনজন রিমান্ডে একজনের স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গ্রেপ্তার ৪, তিনজন রিমান্ডে একজনের স্বীকারোক্তি

গ্রেপ্তার চার হামলাকারী । ছবি : কালের কণ্ঠ

বেসরকারি টিভি চ্যানেল নিউজটোয়েন্টিফোরের গাড়ি ভাঙচুর ও সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে বংশাল থানার পুলিশ। তাঁরা হলেন গোলাম মোস্তফা ওরফে সুমন (৩৮), ইলিয়াস কবির ওরফে জনি (২৭), সাব্বির (২৯) ও মেহেদী হাসান নয়ন (২৫)। তাঁরা চারজনই বন্ড সুবিধায় আনা কাগজের চোরাকারবারি বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে তাঁরা নয়াবাজারে কাগজের ব্যবসাও করেন। এই বন্ড চোরাকারবারিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছিলেন। গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান নয়ন গতকাল বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এই স্বীকারোক্তি দেন। তাঁদের মধ্যে সুমন নিউজটোয়েন্টিফোরের কর্মীদের ওপর হামলার জন্য লোকজন জড়ো করেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।

নয়নসহ অন্য চারজনকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) নুর আলম মিয়া আসামি নয়নের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেন। ভারপ্রাপ্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করার জন্য মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের কাছে পাঠান। মহানগর হাকিম যথেষ্ট সময় দিয়ে আসামি নয়নের জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করেন।

পুলিশ জানায়, গতকাল বুধবার সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর কোতোয়ালি ও কেরানীগঞ্জ থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যে খোয়া যাওয়া ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করেছেন। তাঁদের জড়িত থাকার প্রমাণও পুলিশ পেয়েছে বলে জানায়। গতকালই তাঁদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বংশাল থানার ওসি শাহীন ফকির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই আমরা জড়িতদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামি। অবশেষে চারজনকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি। আরো যাদের নাম পাচ্ছি তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁরা সবাই নয়াবাজারের কাগজের দোকানদার। তাঁদের মধ্যে সুমন হামলার জন্য অন্য দোকানিদের জড়ো করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনার পেছনে কার কার হাত রয়েছে সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে বংশালের নয়াবাজার এলাকায় কাস্টমস কতৃর্পক্ষ অবৈধ বন্ডের পেপার কার্টিসের ওপর অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান নিউজটোয়েন্টিফেরের সাংবাদিক ফখরুল ইসলাম ও ক্যামেরাপারসন শেখ জালাল। অভিযানের চিত্র ধারণের সময় শতাধিক সন্ত্রাসী রড, লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে চ্যানেলের গাড়ি ভাঙচুর করে। এতে ফখরুল ইসলাম ও শেখ জালাল আহত হন। পরে তাঁদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ফখরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ৭০-৮০ জনকে অভিযুক্ত করে বংশাল থানায় একটি মামলা করেছেন।

তিনজন রিমান্ডে, একজনের স্বীকারোক্তি গ্রেপ্তারকৃত মেহেদী হাসান নয়ন গতকাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের কাছে জবানবন্দি দেওয়ার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। বাকি তিন আসামি সাব্বির, জনি ও গোলাম মোস্তফার এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হয়। তাঁদের রিমান্ড শুনানি হয় মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালতে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আসামি নয়ন সাংবাদিকদের ওপর হামলার দায় স্বীকার করেছেন। নয়ন আদালতকে জানান, তিনি নিজেও বন্ড সুবিধায় আনা কাগজের ব্যবসা করেন। বেশ কিছুদিন ধরে বন্ড সুবিধায় আনা কাগজের কেনাবেচা নিয়ে সাংবাদিকরা বিভিন্ন নিউজ করছে। এই বিষয়টিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হন। গত মঙ্গলবার কাস্টমস কমিশনারেট নয়াবাজার এবং এর আশপাশের এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সাংবাদিকরা আসতে পারে—এটা জেনেই ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন স্থানে পাহারা বসায়। সাংবাদিকরা এলে হামলা করা হবে এই পরিকল্পনা হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নয়ন ও তাঁর সঙ্গীয় অনেকে নয়াবাজারের পার্শ্ববর্তী বাবুবাজার মাজারের কাছে অবস্থান নেন। দুপুরের দিকে নিউজটোয়েন্টিফোরের একটি গাড়ি দেখেই তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েন। গাড়ি থেকে দুজন সাংবাদিককে টেনেহিঁচড়ে বের করে তাঁরা এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। এ সময় টিভি চ্যানেলের গাড়িটিও ভাঙচুর করেন তাঁরা। এ ছাড়া কেড়ে নেওয়া হয় ক্যামেরা।

সূত্র আরো জানায়, নয়ন তাঁর স্বীকারোক্তিতে হামলার সঙ্গে জাড়িতদের নাম বলেছেন। পরিকল্পনায় ছিলেন বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী, যাঁরা বন্ড সুবিধায় আনা কাগজের ব্যবসা করেন। যাঁরা হামলায় অংশ নেন তাঁরা ওই সব ব্যবসায়ী নেতার নির্দেশে এই কাজ করেছেন। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল অভিযানস্থলে সাংবাদিকদের ঢুকতে না দেওয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা