kalerkantho

রবিবার । ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩ ফাল্গুন ১৪২৬। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

ইশতেহার বাস্তবায়ন অনেক ক্ষেত্রেই সাধ্যের বাইরে

এম হাফিজউদ্দিন খান

৩০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ইশতেহার বাস্তবায়ন অনেক ক্ষেত্রেই সাধ্যের বাইরে

ঢাকার দুই সিটির এবারের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, ইশতেহারে ঘোষণা করেছেন, তার বাস্তবায়ন অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের সাধ্যের বাইরে। এই সাধ্য অর্জনের জন্য তাঁদের উচিত নগর সরকারের দাবি জানানো।

নির্বাচনের পরও এ দাবিতে তাঁরা সোচ্চার হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আমরা সমর্থন জানাব।

যাঁরা নির্বাচিত হবেন, সিটির ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা, স্ট্রিট লাইট, পার্কগুলো মেইনটেন—এগুলো তাঁদের ঠিকমতো করতে হবে। ঢাকা উত্তরে যখন আনিসুল হক মেয়র ছিলেন তখন মনে হয়েছিল আমাদের একজন নগরপ্রধান রয়েছেন। অতীতে এ ধরনের নগরপ্রধান আমরা পাইনি। আমার বাসা উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে। এখানে রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কবে তা ঠিক হবে বুঝতে পারছি না। এ ধরনের অবস্থা ঢাকার অনেক এলাকাতেই। নাগরিক দুর্ভোগের বিষয়টি চিন্তা করার কেউ আছেন বলে মনে হয় না।

সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব তো অনেক। সে দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করলেই নাগরিকরা খুশি হতে পারেন। নগরীর পরিবেশ ঠিক রাখার সাধ্যমতো চেষ্টা করতে বাধা কোথায়? কিন্তু তা করা হয় না। যেটুকু করার ক্ষমতা আছে সেগুলোই করার চেষ্টা করতে হবে। প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবায়ন যোগ্যতার সমন্বয় থাকতে হবে। কিন্তু আমরা এখন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, এমন প্রতিশ্রুতির কথা শুনছি। নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁরা নগর উন্নয়ন নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত চেষ্টাতে এ নগরের উন্নয়ন সম্ভব। বর্তমান বাস্তবতায় একক প্রচেষ্টায় কোনো সফলতা আসবে না। সরকার তথা সরকারের বিভিন্ন সংস্থাগুলো নিজেদের ক্ষমতা কমিয়ে সিটি করপোরেশনকে শক্তিশালী করবে না। এবারের নির্বাচনে যাঁরা পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার কথা বলছেন, তাঁদের নির্বাচনী প্রচার এর উল্টোটা বলছে। আদালতের নির্দেশনার পরেও পলিথিনমোড়া পোস্টারে ছেয়ে আছে ঢাকা। নির্বাচন কমিশনও এ ক্ষেত্রে কিছুই করছে না। সব মিলিয়ে মনে হয় না মেয়র প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এ নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে।

লেখক : এম হাফিজ উদ্দিন খান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা