kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন

জমে উঠেছে প্রচার বাকি আর দুই দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



জমে উঠেছে প্রচার বাকি আর দুই দিন

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণের বাকি আর মাত্র দুই দিন। আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হবে ভোট। এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সব ধরনের প্রকাশ্য প্রচার শেষ হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে। ফলে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছেন মেয়র পদে বড় দুই দলের চার প্রার্থী। তাঁদের পক্ষে আওয়ামী লীগ, বিএনপির কেন্দ্রীয় ও নগরের জ্যেষ্ঠ নেতা, চলচ্চিত্রশিল্পী ও আত্মীয়রা নেমেছেন মাঠে। গতকাল মঙ্গলবার মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের প্রচার সরেজমিনে অনুসরণ করে এমন চিত্র দেখা গেছে।  

জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকনের কাছে ছুটে গেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। ওই সময় একে ওপরকে ভাই বলে সম্বোধন করেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জোরেশোরেই প্রচারে নেমেছেন নৌকার পক্ষে। ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন তাপসের পক্ষে। ভোট প্রার্থনা ছাড়াও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সকলকে অনুরোধ করেছেন তাপস।

গতকাল রাজারবাগ এলাকায় গণসংযোগের সময় তাপস বলেন, ‘আমরা চাই, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ যাতে কোনোভাবে নষ্ট না হয়, কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে কেউ যাতে পরিবেশ বিঘ্নিত করতে না পারে। নির্বাচন কমিশনসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আমি অনুরোধ করব, কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে তাঁরা যেন ব্যবস্থা নেন।’

এদিকে রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় একটি উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে যান ডিএসসিসির বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন। সেখানে গণসংযোগে গেলে মেয়রের সঙ্গে দেখা করেন তাপস। এরপর সাঈদ খোকনকে ভাই বলে সম্বোধন করে পরস্পর কোলাকুলি করেন। ওই সময় তাপস বলেন, ‘আমরা দুই ভাই। সব সময় আমরা একসঙ্গে আছি। তবে নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে একসঙ্গে গণসংযোগ করতে পারছি না।’

এদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইশতেহার ঘোষণার পরপরই মাঠে নামেন ডিএসসিসি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেন। ওই সময় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পুরোদমে মাঠে নেমেছেন ভোট চাইতে। ধানমণ্ডি এলাকায় গতকাল গণসংযোগের সময় বক্তব্যে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘ধানের শীষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা এক হয়েছে। এবার গণতন্ত্রের বিজয় কেউ আটকাতে পারবে না। কোনো ষড়যন্ত্রে এ জোয়ার রোধ করা যাবে না। তবে দলের কর্মী-সমর্থকরা কোনো ষড়যন্ত্রের ফাঁদে যাতে না পড়ে সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। ১ ফেব্রুয়ারি বিজয় আমাদেরই হবে।’

ওই সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীর, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম মঞ্জু, কামরুজ্জামান রতন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষ করেই মিরপুর এলাকায় গণসংযোগে যান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। পল্লবীতে গণসংযোগ শেষে বিহারি ক্যাম্পে যান আতিকুল। তাঁর পক্ষে মাঠে নেমেছেন শত শত নেতাকর্মী, সমর্থক এবং জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতারা। পল্লবী থানা মাঠে বক্তব্য দেওয়ার সময় আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকায় অনেক সমস্যা রয়েছে। কিন্তু আমি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই এগিয়ে যেতে চাই। মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করলে দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে সিটি করপোরেশনের সব সেবা অটোমেন করব।’

একই সিটিতে মেয়র পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালও থেমে নেই। ভোটের দিন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রচারের কৌশলেও নতুনত্ব এনেছেন তিনি। একই সঙ্গে গণসংযোগে বেড়েছে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভিড়। ছেলের জন্য ভোটের মাঠে প্রচারে নেমেছেন তাবিথ আউয়ালের মা নাসরিন ফাতেমা আউয়াল।

গতকাল মোহাম্মদপুরে জাকির হোসেন রোড, কাজী নজরুল ইসলাম রোড, নূরজাহার রোড, তাজমহল রোড, কৃষি মার্কেট, শম্পা মার্কেট, আদাবর বাজার, মনসুরাবাদ এবং মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন তাবিথ। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও ডিএনসিসি নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মো. শাহজাহান, ডা. এ জে এম জাহিদ হোসেনসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘দুই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এ পর্যন্ত ১০৪টি অভিযোগ এলেও কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই ১০২টি নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়েছে। সরকার ভয় পাচ্ছে। কারণ বিএনপির প্রচারে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। গণজোয়ারের কারণে ব্যাপক ভোট পড়বে। ভোট পড়লেই ধানের শীষ জয়ী হবে।’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্বাভাবিক ও নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করলে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া সম্ভব নয়।’

প্রচার শেষ কাল মধ্যরাতে : স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার ৩২ ঘণ্টা আগে প্রচারকাজ বন্ধ করতে হয়। ভোটগ্রহণ শুরু হবে ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টায়। এ ক্ষেত্রে প্রচার বন্ধ করতে হবে ৩০ জানুয়ারি মধ্যরাত ১২টায়। বিধি অনুযায়ী কোনো নির্বাচনী এলাকার ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পূর্ববর্তী ৩২ ঘণ্টা, ভোটগ্রহণের দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা এবং ভোট গ্রহণের দিন রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে ওই নির্বাচনী এলাকায় কোনো ব্যক্তি কোনো জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান করা এবং কোনো মিছিল বা শোভাযাত্রা সংঘটিত বা তাতে যোগদান করতে পারবেন না।

কিছুটা উদ্বেগও : শেষ মুহূর্তে প্রচার এখন তুঙ্গে। ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে রাজধানী শহরে। একই সঙ্গে কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নিয়ে কিছুটা সংশয়ে রয়েছেন অনেক ভোটার। এরই মধ্যে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বেশ কয়েকজন প্রার্থী।

র‌্যাব, বিজিবিসহ বিপুলসংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকার পরও ভোটের দিন নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত হতে পারছেন না ইসির ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারাও। দুই রিটার্নিং অফিসার জানান, এক ধরনের আশঙ্কা থাকায় নির্বাচন থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিতে প্রতিনিয়ত উচ্চ মহল থেকে তদবির করেছেন প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা। বিষয়টি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুসারে এবারে ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থী ১৩ জন। ডিএনসিসিতে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ৫৪টি পদে ২৫১ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ১৮টি পদে ৭৭ জন ভোটের লড়াইয়ে আছেন। ডিএসসিসিতে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ৭৫টি পদে ৩৩৫ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ২৫টি পদে ৮২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা