kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

অবৈধভাবে ভর্তি হওয়া ৬৩ শিক্ষার্থী স্থায়ী বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



অবৈধভাবে ভর্তি হওয়া ৬৩ শিক্ষার্থী স্থায়ী বহিষ্কার

ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি ও অবৈধ পন্থায় ভর্তি হওয়া ৬৩ জন শিক্ষার্থীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র ও মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগে আরো চারজনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তাদের পাশাপাশি ডিজিটাল জালিয়াতি ও অবৈধ পন্থায় ভর্তির অভিযোগে আরো ৯ জন এবং ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১৩ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না—সাত কার্যদিবসের মধ্যে জানাতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের এক সভায় বহিষ্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

সভা সূত্রে জানা যায়, স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের এর আগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় শৃঙ্খলা পরিষদের সুপারিশক্রমে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদের বৈঠকে ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগে ৬৩ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি হওয়া এসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অভিযোগপত্র দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদের সভায় সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা যায়, গত বছরের ৩০ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস মামলায় ১২৫ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন এবং পাবলিক পরীক্ষা আইনে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। আসামিদের মধ্যে ৮৭ জনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এর আগে ১৫ জনকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়। এ আসামিদের মধ্যে গতকাল স্থায়ী বহিষ্কার করা শিক্ষার্থীরাও রয়েছে। এ ছাড়া বাকি ৯ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে শহীদুল্লাহ হল থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক মহিউদ্দিন রানা ও আবদুল্লাহ আল মামুন নামের এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তাদের কাছ থেকে এটিএম কার্ডের মতো দেখতে ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। পরদিন তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৬৩ ধারা এবং ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনের ৯(খ) ধারায় মামলা করে সিআইডি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদের প্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রাব্বানী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্মরণীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই একমাত্র জায়গা, যেখানে কেউ অপরাধ করলে পার পায় না। আমরা গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্লেষণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচ্চতর তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভর্তি জালিয়াতি করে যে বা যারাই ভর্তির চেষ্টা করবে তাদের জন্য এই বহিষ্কার একটি বড় বার্তা।’ তিনি আরো বলেন, ‘যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগ আসে, সে যদি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বেরিয়েও যায়, তাহলেও তদন্ত সাপেক্ষে সার্টিফিকেট বাতিল করা হবে।’

ওই অভিযোগপত্রে যাদের নাম ছিল : মো. ইব্রাহিম, অলিপ কুমার বিশ্বাস, মো. মোস্তফা কামাল, মো. হাফিজুর রহমান, মো. মাসুদ রহমান তাজুল, মো. রিমন হোসেন, মো. মহিউদ্দিন রানা, মো. আইয়ুব আলী বাঁধন, আবদুল্লাহ আল মামুন, ইশরাক হোসেন রাফি, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. মামুন মিয়া, অসীম বিশ্বাস, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. নুরুল ইসলাম, মো. হাসমত আলী সিকদার, হোসনে আরা বেগম, গোলাম মো. বাবুল, টি এম তানভির হাসনাইন, সুজাউর রহমান সাম্য, রাফসান করিম, মো. আখিনুর রহমান অনিক, নাজমুল হাসান নাঈম, ফারজাদ ছোবহান নাফি, আনিন চৌধুরী, রকিবুল হাসান, বনি ইসরাইল, মো. মারুফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, খান বাহাদুর, কাজী মিনহাজুল ইসলাম, নাহিদ ইফতেখার, রিফাত হোসেন, মো. বায়জিদ, ফারদিন আহম্মেদ সাব্বির, তানভির আহম্মেদ মল্লিক, প্রসেনজিত দাস, মো. আজিজুল হাকিম, নাভিদ আনজুম তনয়, সালমান এফ রহমান হৃদয়, সজীব আহাম্মেদ, শিহাব হোসেন খান, এনামুল হক আকাশ, মোশারফ মোসা, মোহায়মেনুল ইসলাম বাঁধন, সাইদুর রহমান, আবদুর রহমান রমিজ, গোলাম রাব্বী খান জেনিথ, উৎপল বিশ্বাস, বেলাল হোসেন বাপ্পী, মো. মশিউর রহমান সমীর, মো. আবু জুনায়েদ সাকিব, মোস্তাফিজ-উর-রহমান মিজান, আবুল কালাম আজাদ, শরমিলা আক্তার আশা, মাসুদ রানা, জেরিন হোসাইন, শেখ জাহিদ বিন হোসেন ইমন, তাজুল ইসলাম সম্রাট, আবির হাসান হৃদয়, মোর্শেদা আক্তার, সালমান হাবিব আকাশ, আলামিন পৃথক, শাহ মেহেদী হাসান হৃদয়, অনিকা বৃষ্টি, ফিওনা মহিউদ্দিন মৌমি, সিনথিয়া আহম্মেদ, শাবিরুল ইসলাম সনেট, মো. লাভলুর রহমান লাভলু, মো. ইছাহাক আলী ইছা, মো. আবদুল ওয়াহিদ মিশন, তানজিনা সুলতানা ইভা, ইশরাত জাহান ছন্দা, মো. আশেক মাহমুদ জয়, নাফিসা তাসনিম বিন্তী, প্রণয় পাণ্ডে, নুরুল্লাহ নয়ন, জিয়াউল ইসলাম, মো. আশরাফুল ইসলাম আরিফ, জাকিয়া সুলতানা, মো. শাদমান শাহ, সাদিয়া সিগমা, মো. রবিউল ইসলাম রবি, মেহেজাবীন অনন্যা, মো. রাকিবুল হাসান, এম ফাইজার নাঈম সাগর, সাদিয়া সুলতানা এশা, সামিয়া সুলতানা, ফাতেমা আক্তার তামান্না।

অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় সংবাদ সম্মেলন করে সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই চক্রের মূল হোতা মূলত দুজন। তাঁরা হলেন নাটোর জেলার ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান এছামী ও বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাস। তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, গতকালের সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ও ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) গত বছরের ২৫ অক্টোবর সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দুজন শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় বিভিন্ন সময়ে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ৩০ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে পিএইচডি থিসিস জালিয়াতির অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় তাঁকে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা