kalerkantho

সোমবার । ২৯ আষাঢ় ১৪২৭। ১৩ জুলাই ২০২০। ২১ জিলকদ ১৪৪১

করোনাভাইরাস

সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

চীনে আটকে পড়াদের ফেরাতেও নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

চীনের উহান প্রদেশ থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস যাতে কোনোভাবেই বাংলাদেশে আসতে না পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে দেশের সব বিমান, নৌ ও স্থলবন্দরে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ভাইরাস পরীক্ষাসংক্রান্ত সব পদক্ষেপ নিতে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নির্ধারিত এজেন্ডার বাইরে করোনাভাইরাস নিয়ে আলোচনায় উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহিরয়ার আলম জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের কারণে চীনে আটকে পড়া যেসব বাংলাদেশি ‘দেশে ফিরতে চান’, তাঁদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিসভার ওই সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে, তা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী উল্লিখিত নির্দেশনা দেন। একজন মন্ত্রী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভাইরাসটি যেভাবে ছড়াচ্ছে তাতে তো আমাদেরও একটু শঙ্কা আছেই। তবে ইতিবাচক দিক হলো এ বিষয়ে বাংলাদেশের বড় প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন।’

মন্ত্রিসভার বৈঠকের বিষয়ে করা ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে। চীন হয়ে যাঁরা আসছেন, তাঁদেরকেও বিশেষভাবে দেখাশোনা করতে হবে। সবাইকে কেয়ারফুল থাকতে হবে। বিশেষ করে এয়ারপোর্ট এবং পোর্টে স্পেশাল কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে আমাদের মধ্যে বিস্তার না ঘটতে পারে। চীন বা হংকং থেকে থেকে যেসব প্লেন আসবে সেগুলোতে বিশেষ নজর রাখতে হবে। চীনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ হয়, এমন পোর্টে বিশেষ নজর রাখতে হবে।’

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, চীনের উহান প্রদেশে এই রোগটি ছড়িয়েছে। ওখানে যাতায়াত চায়নিজরা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। উহান প্রদেশে বাংলাদেশের যারা আছে তাদের অনেকে দেশে আসার জন্য আবেদন জানাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ওই প্রদেশের বিষয়টি চায়নিজ কর্তৃপক্ষ দেখাশোনা করছে। সেখানে আমাদের কিছু করার নেই।’ অন্য এক প্রশ্নের বিষয়ে তিনি বলেন, চীনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মন্ত্রিসভায় কোনো আলোচনা হয়নি।

এদিকে এক ফেসবুক পোস্টে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ ব্যাপারে আমরা চীন সরকারের সাথে আলোচনা শুরু করেছি।’ তিনি বলেন, তাদের ফিরিয়ে আনার উপায় বের করার জন্য পররাষ্ট্র দপ্তর করোনাভাইরাস আক্রান্ত অঞ্চলে চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনা করেছে। কারণ, সেখানে লোকজনের প্রবেশ এবং বেরিয়ে আসা বন্ধ করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘যাঁরা দেশে ফিরতে চান আজকের (গতকাল) মধ্যেই তাঁদের তালিকা তৈরির প্রাথমিক নির্দেশনা দেওয়া হবে। আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জরুরি সহায়তা প্রদানের প্রয়োজনে বেইজিংয়ের বাংলাদেশি দূতাবাস প্রবাসী বাংলাদেশিদের যোগাযোগের জন্য এরই মধ্যে ২৪ ঘণ্টা হটলাইন চালু করেছে। হটলাইন নম্বর হচ্ছে +৮৬১৭৮-০১১১-৬০০৫। নম্বরটি চীনে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের, বিশেষত শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা