kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ধীরলয়ের ব্যাটিংয়ে হারল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১৪১/৫
পাকিস্তান : ১৯.৩ ওভারে ১৪২/৫
ফল : পাকিস্তান ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা : শোয়েব মালিক।

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ধীরলয়ের ব্যাটিংয়ে হারল বাংলাদেশ

এই সিরিজের আবহ সুর কী? অত্যন্ত শিশুতোষ প্রশ্ন। কারণ বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের আবহে ‘ক্রিকেট’ যতটুকু, তার চেয়ে ঢের বেশি যে ‘নিরাপত্তা’!

সন্ত্রাসবাদীদের সেই শঙ্কা কাটিয়ে লাহোরের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি হয়ে গেল দিব্যি। তবে তাতেও ভিন্ন এক নিরাপত্তাহীনতার জুজুতে কাঁপতে দেখা গেল বাংলাদেশকে। পার্থক্য বলতে, সে আতঙ্ক হয়ে আবির্ভাব পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান-বোলারদের। তাঁদের মুখোমুখিতে তামিম-আফিফ-মাহমুদ উল্লাহর ব্যাটিং কিংবা মুস্তাফিজ-আমিনুল-সৌম্যদের বোলিং সামর্থ্যের পুরোটাই অরক্ষিত।

পাঁচ উইকেটের পরাজয় সে সাক্ষ্যই দিচ্ছে।

সত্যের শতভাগ সাক্ষ্য অবশ্য লাহোরের এ ম্যাচের স্কোরকার্ডে নেই। তাতে লেখা পাকিস্তান মাত্র তিন বল হাতে রেখে ম্যাচ জিতেছে। ওই শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে মাহমুদ উল্লাহর থ্রো স্টাম্পে সরাসরি লাগলে রান আউট হতে পারত। পরের বলে মোহাম্মদ মিঠুন সহজতম ক্যাচ নিতে পারলে আরেক উইকেট পড়তে পারত। কে জানে, তখন হয়তো বাংলাদেশের অলৌকিক জয়ও অসম্ভব হতো না!

কিন্তু সত্যটা হচ্ছে, এ ম্যাচে বাংলাদেশ জয়ের মতো অবস্থায় যেতে পারেনি কখনো। সে কারণেই অলৌকিকতার কাছে হাত পাতা। মাঠের ক্রিকেটে পাকিস্তান যে পিষে ফেলেছে বাংলাদেশকে। সেটি আবার ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে নয়, রীতিমতো তিলে তিলে। প্রথম টি-টোয়েন্টি হারের কষ্টটা হয়তো সে কারণেই বেশি।

ম্যাচের প্রথম ভাগ দেখুন না। ব্যাটিংয়ে প্রথম ১০ ওভার নির্বিঘ্নে ক্রিজে কাটিয়ে দেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও নাঈম শেখ। তবু সফরকারীদের ড্রেসিংরুমে কারো মুখে নেই চওড়া হাসি। ২২ গজ যত মন্থরই হোক, প্রথম ৬০ বলে ৬২ রান টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় নিশ্চয়ই। বরং বাংলাদেশের উইকেট না পেয়েও পাকিস্তান তখন তুলনামূলক স্বস্তিতে।

একাদশ ওভারে তামিম মাত্র হাত খোলা শুরু করেন। শাদাব খানকে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কাও মারলেন প্রথম বলে। কিন্তু শেষ বলে রান আউটের আত্মহত্যায় শেষ ৩৪ বলে ৩৯ রানের ইনিংস। অন্য ওপেনার নাঈম ১৫তম ওভার পর্যন্ত ক্রিজে থাকা সত্ত্বেও হতে পারেন না সাবলীল। বরং ধুঁকতে থাকা লিটন দাসের (১৩ বলে ১২) রান আউটের পরের বলে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন লং অনে। প্রথম দুই রান আউটের পর ওই ১৫তম ওভারের চতুর্থ বলে প্রথম উইকেট পান পাকিস্তানি বোলাররা। ওই ওভারেই হাঁচড়ে-পাঁচড়ে দলীয় রান পৌঁছায় এক শতে। হাতে গাদা গাদা উইকেট থাকা সত্ত্বেও ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪১ রানের বেশি তুলতে পারে না বাংলাদেশ।

টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার জন্য এ স্কোর নিশ্চয় কল্পনায় ছিল না মাহমুদ উল্লাহর।

পাকিস্তানের প্রথম উইকেটের জন্য অপেক্ষা ছিল ১১ ওভার পর্যন্ত; সেটিও রান আউট। সেখানে বাংলাদেশের শফিউল ইসলাম ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই করেন শিকার। যেনতেন নয়, রীতিমতো ‘বিগ ফিশ’ বাবর আজম। কট বিহাইন্ড হয়ে রিভিউ নেন পাকিস্তান অধিনায়ক, আল্ট্রা এজের সংকেতে নিশ্চিত হয় তাঁর প্যাভিলিয়ন ফেরত হাঁটা। ১৪১ রান নিয়ে জয়ের চেষ্টায় বাংলাদেশের রীতিমতো স্বপ্নের শুরু।

কিন্তু সেটিকে আর টেনে নিতে পারলেন কই বোলার-ফিল্ডাররা!

এখানে আবারও দুই দলের তুলনার বিভ্রান্তি। প্রথম পাঁচ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর বিনা উইকেটে ২৯; ওই পঞ্চম ওভারে শেষ বলে মুস্তাফিজ হাফিজকে (১৭) ফেরালে পাকিস্তানের স্কোর দুই উইকেটে ৩৫। ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশ ৬২/০, পাকিস্তান ৬৮/২। ১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশ ১০০/৩, পাকিস্তান ১০৬/৩। মনে হতে পারে, কী সমানে সমান লড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আসলে লবডঙ্কা! কারণ স্বাগতিকদের সামনে নিম্ন-মাঝারি লক্ষ্য থাকায় ধীরেসুস্থে এগোনোর বিলাসিতা ছিল। সফরকারীদের মতো লক্ষ্যহীন ব্যাটিং করেনি।

সে কারণেই আমিনুল, শফিউল, আল-আমিনদের শিকারগুলো ম্যাচে ন্যূনতম রোমাঞ্চ ছড়াতে পারে না। এক প্রান্ত আগলে শোয়েব মালিক (৪৫ বলে ৫৮) বরং নিশ্চিত করেন পাকিস্তানের জয়। ফিফটির বলটিতে তাঁর ক্যাচ ছাড়া, বেশ কয়েকটি রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া করা এবং এক্কেবারে শেষ মুহূর্তে মিঠুনের ওই মাখন-আঙুল গড়িয়ে বলের পড়ে যাওয়া—বাংলাদেশের পরাজয় নিশ্চিত করার এত প্রভাবক থাকলে ম্যাচে অন্য ফল হয় কী করে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা