kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

টিআইয়ের জরিপ

বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি বাড়ছে কমেনি বাংলাদেশেও

শীর্ষ দুর্নীতির দেশ সোমালিয়া
কম দুর্নীতিতে শীর্ষ দেশ ডেনমার্ক ও নিউজিল্যান্ড
১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪৬, ভারত ৮০, পাকিস্তান ১২০তম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি বাড়ছে কমেনি বাংলাদেশেও

বিশ্বের কোনো দেশই দুর্নীতিমুক্ত নয়। সব দেশেই কিছু না কিছু দুর্নীতি রয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) বিশ্বব্যাপী ১৮০টি দেশের ওপর জরিপ করে বরাবরের মতো এবারও দুর্নীতির ধারণা সূচক প্রকাশ করেছে। এতে গতবারের তুলনায় বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি বাড়ার চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশেও দুর্নীতির প্রবণতা কমেনি। টিআইয়ের ১০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৭ নম্বর পেয়ে সবচেয়ে কম দুর্নীতির দেশের যৌথ অবস্থান পেয়েছে ডেনমার্ক ও নিউজিল্যান্ড। সর্বনিম্ন অর্থাৎ ৯ নম্বর পেয়ে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে স্থান পেয়েছে সোমালিয়া। ২৬ নম্বর পেয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৬তম (গতবার ছিল ১৪৯তম)। তবে বাংলাদেশের আরো ভালো স্কোর করার সুযোগ ছিল বলে মনে করে টিআইবি।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার ধানমণ্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে টিআই প্রকাশিত ২০১৯ সালের দুর্নীতির ধারণা সূচক প্রকাশ করা হয়। এই জরিপের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দুর্নীতির ব্যাপকতার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট দেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, সংশ্লিষ্ট খাতের গবেষক ও বিশ্লেষকদের ধারণার ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি দেশের ০ থেকে ১০০ স্কোরের মাধ্যমে দুর্নীতি ধারণা পরিমাপ করা হয়।

গতবারের সঙ্গে তুলনায় ১৮০টি দেশের মধ্যে ৬৮টি দেশে দুর্নীতি বেড়েছে, ৬০টি দেশে দুর্নীতি তুলনামূলক কমেছে। ৫২টি দেশে দুর্নীতির অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে, বলছে টিআই। প্রতিবছর বার্লিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআই দুর্নীতির ধারণা সূচক তথা সিপিআই (করাপশন পারসেপশন ইনডেক্স) প্রকাশ করে।

টিআইয়ের ২০১৯ সালের বৈশ্বিক গড় স্কোর ৪৩। এই তুলনায় এবারও বাংলাদেশের স্কোর অনেক কম। গতবারের মতোই বাংলাদেশ দক্ষিণ  এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর ও অবস্থানে

রয়েছে। এই অবস্থানকে উদ্বেগজনক বলছে টিআইবি। ২০১৮ সালেও একই স্কোর (২৬) পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে এবার স্কোর এক হলেও ওপরের দিক থেকে তিন দফা উন্নতি হয়েছে আর নিচের দিক থেকে বাংলাদেশ ধাপ উন্নতি হয়ে ১৪তম হয়েছে। এই অবস্থানে যুগ্মভাবে আরো ছয়টি দেশ রয়েছে। ১২ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ দক্ষিণ সুদান এবং ১৩ স্কোর পেয়ে তালিকার তৃতীয় দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের নাম সিরিয়া।

প্রতিবেদন প্রকাশকালে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের আরো ভালো করার সামর্থ্য ছিল। যদি রাজনৈতিক শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করা যেত, অবস্থান-পরিচয়-নির্বিশেষে আইনের কঠোর প্রয়োগ হতো, তাহলে আমাদের স্কোর ও অবস্থানে আরো উন্নতি হতে পারত।

দক্ষিণ এশিয়া : টিআইয়ের ১০০-এর মধ্যে ৬৮ স্কোর নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম দুর্নীতির দেশ ভুটান। বিপরীতে ১৬ স্কোর নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ আফগানিস্তান। ২৬ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। ভারত আগেরবারের মতো ৪১ স্কোর পেলেও দুই ধাপ পিছিয়ে স্থান হয়েছে ৮০-তে। শ্রীলঙ্কাও আগেরবারের মতো তাদের স্কোর ৩৮ ধরে রেখেছে; কিন্তু সামগ্রিক অবস্থান চার ধাপ পিছিয়ে হয়েছে ৯৩। এবারের দুর্নীতির ধারণ সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে নেপাল। তারা গতবারের চেয়ে তিন পয়েন্ট বেশি পেয়ে ৩৪ স্কোর করেছে। এতে বৈশ্বিকভাবে তাদের অবস্থান ১১ ধাপ এগিয়ে ১১৩-তে নেমে এসেছে। ৩২ স্কোর পেয়ে ১২০তম স্থানে রয়েছে পাকিস্তান, যা গতবারের চেয়ে তিন ধাপ অবনতি। বৈশ্বিক তালিকায় মালদ্বীপ ১৩০ ও আফগানিস্তান ১৭৩ নম্বরে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন টিআইবির চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের ও আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মন্জুর-ই-আলম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা