kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

গণতন্ত্র সূচকে ৮ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গণতন্ত্র সূচকে ৮ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ

ব্রিটেনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) বার্ষিক গণতন্ত্র সূচকে এবার আট ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ১৬৫টি দেশ ও দুটি ভূখণ্ড নিয়ে তৈরি করা এ বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশ ৮৮তম স্থান থেকে এবার ৮০তম স্থানে উঠে এসেছে। তবে বাংলাদেশ এখনো সংকর শাসনের (হাইব্রিড রেজিম) মধ্যেই রয়েছে।

গত মঙ্গলবার গণতন্ত্র সূচক ২০১৯ প্রকাশ করে ব্রিটিশ গণমাধ্যম কম্পানি দি ইকোনমিস্ট গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। তবে গত এক বছরে বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের অবনমন হয়েছে বলে এবারের সূচকে উল্লেখ করা হয়েছে, যা ২০০৬ সালে গণতন্ত্র সূচক প্রণয়নের পর থেকে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি। এবার বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ খ্যাত ভারতও ১০ ধাপ পিছিয়েছে।

বাংলাদেশ সম্পর্কে মূল্যায়ন : প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে সংক্ষিপ্তসারে (সামারি) বলা হয়, ‘আওয়ামী লীগ পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় থাকতে তার বজ মুষ্টি অব্যাহত রেখেছে, পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। দলটির তৃণমূলের পৃষ্ঠপোষকতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর ওপর শক্ত কমান্ড বজায় রাখতে পারায় তার শাসনকে আরো শক্তিশালী করবে। এর পরও দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশ সামাজিক আন্দোলনের কারণে ক্রমাগত পরিবর্তন ঘটবে। তবে এসব পরিস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্ষতি করবে না এবং ২০১৯-২০ সালে দেশটির সম্ভাব্য জিডিপি হবে ৭.৮ শতাংশ।’

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এর আগের বছর, অর্থাৎ গণতন্ত্র সূচক ২০১৮-তে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫ দশমিক ৫৭ এবং অবস্থান ছিল ৮৮তম। এবার ৫ দশমিক ৮৮ স্কোর নিয়ে আট ধাপ এগিয়ে ৮০তম স্থানে উঠে আসে বাংলাদেশ। বাংলাদেশসহ আরো কয়েকটি দেশের এমন উন্নতিকে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ বলে মন্তব্য করেছে ইআইইউ।

পাঁচটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে একটি দেশের গণতন্ত্র পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইআইইউ। এগুলো হলো নির্বাচন ব্যবস্থা ও বহুদলীয় পরিস্থিতি, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক অধিকার। প্রতি সূচকের পূর্ণমান ধরা হয় ২ এবং মোট স্কোর হলো ১০। ফলে ০ থেকে ১০ স্কোরের মধ্যে দেশগুলোর গণতন্ত্র তথা শাসনব্যবস্থার চিত্র উঠে আসে।

এর মধ্যে কোনো দেশের গড় স্কোর ৮-১০ হলে ‘পূর্ণ গণতন্ত্র’, স্কোর ৬ থেকে ৮ এর মধ্যে ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র’, স্কোর ৪ থেকে ৬-এর মধ্যে হলে ‘মিশ্র শাসন’ (সংকর বা হাইব্রিড রেজিম) ১ স্কোর ৪-এর নিচে হলে ‘কর্তৃত্বপরায়ণ শাসন’ (স্বৈরশাসন)-এর দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এই নিয়ম অনুযায়ী দেখা যায়, আট ধাপ অগ্রগতি সত্ত্বেও সূচকে এবারও বাংলাদেশের অবস্থান গতবারের মতোই সংকর ক্যাটাগরিতে। মূল্যায়নের ১০ পয়েন্টের মধ্যে এবার বাংলাদেশের স্কোর ৫ দশমিক ৮৮। ফলে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার আরেকটু উন্নতি ঘটলেই ‘সংকর শাসন’ থেকে ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র’ ক্যাটাগরিতে উঠে আসতে পারত।

শীর্ষ পাঁচ ও সর্বনিম্ন পাঁচ দেশ : এবারও সূচকে বিশ্বের সর্বোচ্চ গণতন্ত্রের দেশ হয়েছে নরওয়ে (স্কোর ৯.৮৭)। এরপর দ্বিতীয় স্থানে আইসল্যান্ড (৯.৫৮), তৃতীয় সুইডেন (৯.৩৯), নিউজিল্যান্ড (৯.২৬) ও পঞ্চম ফিনল্যান্ড ((৯.২৫)।

আর সর্বনিম্ন পাঁচ দেশ হলো আফ্রিকার চাদ (১.৬১), সিরিয়া (১.৪৩), সেন্ট্রাল আফ্রিকা (১.৩৯), কঙ্গো (১.১৩) ও উত্তর কোরিয়া (১.০৮)। সূত্র : ইআইইউ ওয়েবসাইট।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা