kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

হাইকোর্টের রুল

শিশু ধর্ষণের শাস্তি কেন মৃত্যুদণ্ড নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিশু ধর্ষণের শাস্তি কেন মৃত্যুদণ্ড নয়

সারা দেশে ধর্ষণ প্রতিরোধ ও ভিকটিমকে (ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশু) সহায়তা দিতে এক মাসের মধ্যে একটি কমিশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আইন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনে বিচারক, মানবাধিকারকর্মী, ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নিয়োজিত চিকিৎসক, আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজের বিশিষ্ট নাগরিককে রাখতে বলা হয়েছে। ধর্ষণের মূল কারণ উদ্ঘাটন ও তা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ তৈরি করে ছয় মাসের মধ্যে সেটি আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রুল জারি করেছেন আদালত। 

এ ছাড়া ধর্ষণ ঠেকাতে অ্যান্টিরেপ সিকিউরিটি অ্যালার্ম নামক ডিভাইসের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৯৯৯-কে সংযুক্ত করতে আইসিটি সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই কমিটিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একজন অধ্যাপককে রাখতে বলা হয়েছে। অ্যান্টিরেপ সিকিউরিটি অ্যালার্ম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৯৯৯-এর সঙ্গে সংযুক্ত করলে কতটুকু সুবিধা হবে, তা ৬০ দিনের মধ্যে আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এবং বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ গতকাল রবিবার পৃথকভাবে এসব আদেশ দেন। পৃথক দুটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রুল জারি করেছেন।

অ্যান্টিরেপ সিকিউরিটি অ্যালার্ম নিয়ে আদেশ : অ্যান্টিরেপ সিকিউরিটি অ্যালার্ম বিষয়ে আদেশ দিয়েছেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ (সিসিবি) ফাউন্ডেশনের পক্ষে অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসানের করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার মো. আব্দুল হালিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

এই আদালতের জারি করা রুলে ধর্ষণ থেকে নারী ও শিশুদের রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং অ্যান্টিরেপ সিকিউরিটি অ্যালার্ম নামক ডিভাইসটি সবার কাছে পরিচিত করে তা সহজলভ্য করার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ, আইন, স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিবসহ ১২ বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গতকাল শুনানিকালে রিট আবেদনকারীপক্ষে আদালতে বলা হয়, চাঞ্চল্যকর কিছু ঘটনা ছাড়া অন্যান্য ধর্ষণের ঘটনার বিচারে অগ্রগতি নেই। ধর্ষণের আলামত যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয় না, ধর্ষককে চিহ্নিত করা যায় না। কিন্তু এই ডিভাইস ব্যবহার করলে আপনা-আপনিই আলামত সংরক্ষিত হবে এবং সহজেই ধর্ষককে চিহ্নিত করা যাবে। আদালতে বলা হয়, চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে এই ডিভাইস ব্যবহার করা হয়।

ধর্ষণের মামলা বিচারের জন্য কেন আলাদা আদালত নয়—হাইকোর্ট : ধর্ষণ প্রতিরোধ ও ভিকটিমকে (ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশু) সহায়তা দিতে কমিশন গঠনের বিষয়ে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশ দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার খন্দকার এম এস কাউসারের করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়। রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার ড. রাবেয়া ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

এ আদালতের জারি করা রুলে ভিকটিমের বয়স ১৬ বছর বা তার নিচে হলে সে ক্ষেত্রে ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করে আইন করতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, ধর্ষণ মামলার বিচারের জন্য আলাদা আদালত গঠনের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং এই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ধর্ষকের ডিএনএ ডাটাবেইস তৈরি করে তা সংরক্ষণ করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, প্রতিটি জেলায় ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে ভিকটিমকে সহায়তা দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, ভিকটিমের ছবি গণমাধ্যমে প্রচার-প্রকাশের ক্ষেত্রে কেন সতর্কতা অবলম্বন করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আইন, স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র ও মহিলা বিষয়ক সচিব, পুলিশের আইজিসহ মামলার সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এসব রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ আদেশের আগে শুনানিতে আদালত বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হওয়ায় ধর্ষককে ধরতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশি তৎপর ছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষ হলে তার ক্ষেত্রে তো এ রকম ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা