kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ঘুষ ছাড়া কার্যাদেশ না পেয়ে মৃত্যু!

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘুষ ছাড়া কার্যাদেশ না পেয়ে মৃত্যু!

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ‘ঘুষ ছাড়া কার্যাদেশ না দেওয়ার কারণে’ হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামতকাজে দায়িত্বরত এক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ জন্য প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ধর্মপাশা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলার কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব মাহমুদুল হাসানকে দায়ী করে সমালোচনার ঝড় বইছে। 

উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. ফজলু মিয়া বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এসও মাহমুদুলের কার্যালয়ে  গিয়ে তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে মাটিতে লুটে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। 

চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে উপজেলার সোনামড়ল নামক হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামতকাজের ৩১ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি ছিলেন ফজলু মিয়া।  

এদিকে ফজলু মিয়ার  আকস্মিক মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ওই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসানকে দায়ী করে সমালোচনার ঝড় বইছে। এর মধ্যে বাবার মৃত্যুর জন্য ফজলু মিয়ার ছেলে মাসুদ মিয়ার দেওয়া বক্তব্যের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। মাসুদ মিয়া (২২) কাঁদতে কাঁদতে বারবার  বলছেন, ‘আমার বাবার মৃত্যুর জন্য এসও মাহমুদুল হাসানই দায়ী।  আমার বাবা এই বৃদ্ধ বয়সে এ কাজের কার্যাদেশ পাওয়ার আশায় এসও মাহমুদুলের কাছে দিন-রাত ঘুরে অতিরিক্ত মানসিক চাপে স্ট্রোক করে মারা গেছেন।’

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার আটটি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামতকাজের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রকৃত কৃষকদের সমন্বয়ে ১৫৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়। এর বিপরীতে পাউবো ৩০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। উক্ত প্রকল্পগুলোর কাজ গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির  মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য পাউবো কার্যাদেশ দেয়।

কিন্তু সময়সীমার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এ উপজেলার বেশির ভাগ বাঁধের  কাজ এখনো শুরু হয়নি। এমনকি অনেক পিআইসিকে এখন পর্যন্ত কার্যাদেশও দেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পিআইসি সভাপতি জানান, উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব এসও মাহমুদুল হাসানের  ঘুষ বাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারিতা ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণেই এবার বাঁধ মেরামত কাজের বিলম্ব হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহিতলাল তালুকদার মুন বলেন, ‘প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়ার কথা বলে এসও মাহমুদুল হাসান আমার উপস্থিতিতে পিআইসি ফজলু মিয়ার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার পরও আরো ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু বাকি টাকা দিতে অপারগতা জানালে এসও মাহমুদুল হাসান ফজলু মিয়ার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে থাকেন। 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘কমিটি গঠনে আমি কোনো অনিয়ম করিনি। পিআইসি কমিটি গঠনের সব কার্যক্রমই উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইউএনও স্যারের কার্যালয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে ৩১ নম্বর পিআইসি ফজলু মিয়ার সঙ্গে আমি কোনো অসদাচরণ করিনি।  শুনেছি তিনি হূদেরাগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবু তালেব বলেন, ‘একজন পিআইসি স্ট্রোক করে মারা গেছেন, বিষয়টি শুনেছি। এ নিয়ে ফেসবুকে যেসব পোস্ট দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়টিও তদন্ত করে দেখব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা