kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব আজ শুরু

দুই দিনে দুজনের মৃত্যু

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব আজ শুরু

নজিরবিহীন কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাবলিগ জামাত আয়োজিত ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ ফজর মুফতি শাহজাদ হোসেনের আমবয়ানের মধ্য দিয়ে মূলত তিন দিনের কার্যক্রমের সূচনা ঘটে। রবিবার আখেরি মোনাজাতে শেষ হবে এবারের দুই পর্বে ছয় দিনের ইজতেমা। দ্বিতীয় পর্বের আয়োজনে রয়েছেন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা।

এর আগে আমলি শূরার তত্ত্বাবধানে মাওলানা যোবায়ের অনুসারীদের উদ্যোগে প্রথম পর্বের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিতে দুই দিন ধরে দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা টঙ্গী আসছেন। তুরাগ পারের বিশাল চত্বরে নির্মিত চটের শামিয়ানায় এসে অবস্থান নিচ্ছেন পুণ্যার্থীরা। আন্তর্জাতিক নিবাসে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ কক্ষে উপস্থিত হচ্ছেন। দিন-রাত বিভিন্ন আমল ও জিকির-আজকারে সময় অতিবাহিত করছেন সমবেত ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। এদিকে ট্রেনের ধাক্কা ও বাধ্যর্কজনিত কারণে গত দুই দিনে ইজতেমায় আগত দুই পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল বাদ ফজর থেকে বাদ মাগরিব পর্যন্ত মূল মঞ্চ থেকে আমবয়ান পেশ করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন খিত্তা ও লোকাল গেস্ট কামরায় পেশাভিত্তিক ও ছোট ছোট জামাতে খাসবয়ান অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল আমবয়ান পেশ করেন মাওলানা ইকবাল হাফিজ, ওয়াসেফুল ইসলাম ও মাওলানা মোহাম্মদ শামীম। উর্দু ভাষার মূল বয়ান তাত্ক্ষণিক বাংলা, ইংরেজি, আরবি, তামিল, মালয়, চীনা, ফারসি ও হিন্দি ভাষায় অনুবাদ করে শোনানো হচ্ছে।

বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের জন্য ইজতেমার বয়ান মঞ্চের নিচে তিন দিকে চাটাই বিছিয়ে বসার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ইজতেমার রেওয়াজ অনুসারে এবারও কাঠ, লোহার পাইপ ও চট দিয়ে অনাড়ম্বরভাবে মূল বয়ান মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে কোনো ডায়াস, ব্যানার ও অতিথিদের আসন রাখা হয়নি এবং বয়ানের আগে বক্তার নাম ও কোনো পরিচয় ঘোষণা করা হয় না। বাদ এশা ছাড়া চার নামাজের পর ছয় উছুলের আলোকে কুরআন ও হাদিসের ব্যাখ্যাসংবলিত বয়ান করা হচ্ছে।

আজ শুক্রবার ইজতেমা ময়দানে প্রতিবারের মতো উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ জুমার জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিতে আগের মতোই টঙ্গীর শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের বাড়িঘরে আত্মীয়-স্বজন ও মেহমানদের উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। ইজতেমাকে উপলক্ষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে সমবেত হচ্ছেন টঙ্গীবাসীর স্বজন-বন্ধুরা। বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রতিবছর বেড়েই চলছে। এ কারণে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ৩২ জেলা করে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। বর্তমানে এ অবস্থা আর নেই। কিছু মতভেদের কারণে বাংলাদেশে তাবলিগ জামাত মাওলানা সাদ ও মাওলানা যোবায়েরপন্থী দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এরপর প্রশাসনের নির্দেশনায় গত বছর থেকে বিশ্ব ইজতেমা পৃথকভাবে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এবারের ইজতেমায় সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি সর্বত্র দৃশ্যমান। প্রথম পর্ব থেকেই সমগ্র টঙ্গী এলাকাকে পাঁচ স্তরের কঠিন নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। বিশাল প্যান্ডেলের ভেতরে বিভিন্ন খিত্তায় সাদা পোশাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এ ছাড়া ময়দানের চারপাশে প্রায় দশ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পাঁচটি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের মাধ্যমে চার শতাধিক সিসি ক্যামেরায় পুরো এলাকার ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। র‌্যাব ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে ওয়াচ টাওয়ার থেকে ইজতেমার সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ব্যস্ত রয়েছে।

দুই জনের মৃত্যু

ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে যোগ দিতে এসে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার রাতে গাইবান্ধা থেকে ট্রেনে তাবলিগের একটি জামাত টঙ্গী রেলস্টেশনে পৌঁছায়। এ সময় গোলজার হোসেন (৪৮) নামে একজন পুণ্যার্থী পড়ে যাওয়া তাঁর একটি জিনিস ওঠাতে লাইনের পাশে যান। তত্ক্ষণাৎ ওই লাইন দিয়ে যাওয়া একটি ট্রেনের ধাক্কায় তিনি ছিটকে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। গোলজার হোসেনের বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানার টেংড়াকান্দি গ্রামে। এ ছাড়া গতকাল বৃহস্পতিবার ইজতেমা ময়দানে বার্ধক্যজনিত কারণে আনসার আলী (৬৫) নামে অপর একজনের মৃত্যু হয়। তাঁর ঠিকানা জানা যায়নি।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা