kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩০ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

দেখতে হবে মেধাবীরা আসছে কি না

ড. সা’দত হুসাইন

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেখতে হবে মেধাবীরা আসছে কি না

 

সরকারি চাকরিতে বেতন অনেক বেড়েছে। অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ভালো। যেমন-প্রশাসনের উপসচিব হলে বিনা সুদে গাড়ি পায়। আবার গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাসে ৫০ হাজার টাকা পায়। কম সুদে গৃহঋণ পায়। কিন্তু আমাদের সময় আমরা তা কল্পনাও করতে পারিনি। উপসচিবরা আমাদের সময় বাসে চলাফেরা করতেন। তাই বর্তমানে সরকারি চাকরির জন্য আগ্রহ অনেকটাই বেড়েছে।

আর সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) তদবিরের সুযোগ কম। এ জন্য সবাই মনে করে এটা একটা সুযোগ। এ ছাড়া ক্যাডার পদ না পেলেও প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার পদেও চাকরির সুযোগ আছে। ফলে বিসিএস পরীক্ষায় আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়ছে।

আমি যখন পিএসসির চেয়ারম্যান ছিলাম তখন (২০১০ সাল) থেকেই বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নন-ক্যাডার পদে চাকরির সুপারিশ চালু করি। দেখলাম, অনেক ছেলে-মেয়ে পাস করে; কিন্তু পদের স্বল্পতার কারণে চাকরি পায় না। আবার অনেক সরকারি দপ্তরের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার পদের চাহিদা রয়েছে। সেগুলো শেষ করতে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগে। তাই যারা বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে আছে অথচ ক্যাডার পদে সুপারিশ করতে পারিনি, তারা যদি আসে তাহলে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। সেটি এখন প্রার্থীদের মধ্যে একটা অতিরিক্ত সুযোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

আমাদের সময় দেখতাম, কিছু মেধাবী পররাষ্ট্র ক্যাডারে আসত। তবে প্রশাসন ও পুলিশেও প্রার্থীদের চাহিদা থাকত। এ ছাড়া খুব বেশি মেধাবী আসত না। এখন কী অবস্থা সেটাও বিচার-বিবেচনা করতে হবে। আবেদনকারী বাড়লেও মেধাবীরা আসছে কি না সেটা দেখতে হবে।

এ ছাড়া পিএসসিতে প্রশ্ন করা, খাতা দেখার অনেক উন্নতির সুযোগ আছে। আমাদের সময় প্রশ্নের স্ট্যান্ডার্ড খুব লো ছিল। গণিতে দেখা যেত অষ্টম শ্রেণির মানের। আবার ৯টা প্রশ্ন থাকত, পাঁচটার উত্তর দিতে হতো। এতে অনেকেই এক ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা শেষ করে ফেলত। এরপর আবার খাতা দেখাদেখি চলত। এতে ৮০ শতাংশ প্রার্থী ৯০ শতাংশ নম্বর পেত। ফলে অন্য বিষয়ে খারাপ করলেও গণিত দিয়ে কাভার করে ফেলত। আর আগে যারা প্রশ্ন করত তারা সাধারণত এক বছর বাদ দিয়ে আগের বছরের প্রশ্ন অনেকটা হুবহু তুলে দিত। আমি চেষ্টা করেছি, এসএসসি মানের স্বতন্ত্র প্রশ্ন করার এবং ৯টা থেকে কমিয়ে সাতটা প্রশ্ন করার। কিন্তু সবটা পারিনি।

আমাদের সময় ছিল গড় পাস। কিন্তু এটা থাকা উচিত না। এক বিষয়ে ফেল করলে তাকে ফেল হিসেবেই দেখা উচিত। যে ক্যাডার পদে আসবে তাকে প্রত্যেক বিষয়েই পাস করে আসা উচিত।

আর পিএসসিকে আরো ক্ষমতায়িত করা উচিত। এখন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মতো পিএসসিও যদি পরীক্ষা নেয় আর প্রার্থী সিলেকশন করে তাহলে তো হবে না। হায়ার পোস্টে পদোন্নতির ক্ষমতাও পিএসসিকে দিতে হবে। সরকারি চাকরির টার্মস অব কন্ডিশনের ব্যাপারেও পিএসসির মতামত নিতে হবে।

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ হলেও ভারতের কমিশন অনেকটাই আলাদা। সেখানে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কিন্তু অনিয়ম হয় না। এরপর কমিশন লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিলেও ক্যাডার সিলেকশন করে মানবসম্পদ বিভাগ। কিন্তু কোনো তদবির হয় না। এ ছাড়া ভারতে কমিশনের সিনিয়র সদস্যই চেয়ারম্যান হন।

ড. সা’দত হুসাইন : সাবেক চেয়ারম্যান, পিএসসি

অনুলিখন : শরীফুল আলম সুমন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা