kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

ঢাবির ছাত্রী ধর্ষণ

আদালতে মজনুর ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আদালতে মজনুর ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য

রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার আসামি মজনু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সে একাই ওই ঘটনায় জড়িত ছিল বলে স্বীকার করেছে। তবে এটাকে সে অপরাধ মনে করে না। তার ভাষায়, এটা সাধারণ ঘটনা। জবানবন্দিতে মজনু বলেছে, মেয়েটিকে মেরে না ফেলা তার ভুল হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের কাছে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় মজনু।

রিমান্ড শেষে গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মজনুকে আদালতে হাজির করে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন জানান। মহানগর হাকিম মজনুকে যথেষ্ট সময় দেওয়ার পর খাসকামরায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

জবানবন্দির বিষয়টি বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, এ ঘটনায় মজনু একটুও অনুতপ্ত নয়। সে আদালতকে বলেছে, ঘটনার আগে সে ওই এলাকায় ওত পেতে ছিল। মেয়েটি বাস থেকে নেমে হাঁটা শুরু করলে সে তাঁর পিছু নেয়। নিরিবিলি রাস্তার পাশে গিয়েই সে মেয়েটিকে আক্রমণ করে। মেয়েটি এতটাই ভয় পেয়ে যান যে তিনি

চিৎকার-চেঁচামেচিও করতে পারেননি। এরপর ঝোপের ভেতর নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে সে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। একসময় তাঁকে গলাটিপে ধরে হত্যারও চেষ্টা করে। একপর্যায়ে মেয়েটি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর মজনু মেয়েটির ব্যাগ, মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায়।

মজনু আদালতকে আরো জানায়, সে ওই এলাকায় কখনো মালামাল নিয়ে যাওয়া রিকশা, ভ্যান, ঠেলাগাড়ি ঠেলার কাজ করে। কখনো রেলস্টেশনে কুলিগিরি করে। কখনো রিকশা চালায়। এসব কাজ করে আয়ের টাকা সে ভিখারি বা রাস্তায় থাকা মেয়েদের পেছনে খরচ করত। তাদের সঙ্গে খারাপ কাজ করত। আবার কখনো ওই স্থানে যাতায়াত করা প্রতিবন্ধী বা ভিক্ষুক নারীকে ধর্ষণ করত। যে স্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে, সেই স্থানে আরো কয়েকজনকে এভাবে সে ধর্ষণ করেছে।

মজনু তার জীবনের নানা কাহিনি বর্ণনা করেছে আদালতের কাছে। সে বলেছে, অনেক আগে তার মা-বাবার মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। তখন থেকেই সে বিপথে চলে যায়। মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। একসময় সে ভারতে গিয়েছিল। সেখানে গিয়েও সে অপরাধে জড়িয়ে তিন বছর জেল খেটেছে। সেখান থেকে দেশে ফেরার পর আর গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায় যায়নি সে। ঢাকাতেই থাকে।

আসামি আদালতকে বলেছে, বিভিন্ন যৌন রোগে ভুগছে সে। নিয়মিত চিকিৎসা নেয়। ঘটনার দিনও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিল সে।

গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে শেওড়ায় এক বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভুল করে কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে নামেন তিনি। এরপর ফুটপাত ধরে শেওড়ার দিকে যাওয়ার সময় ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করেন।

গত ৮ জানুয়ারি ভোরে মজনুকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা