kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

পারভেজ মোশাররফের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বাতিল হাইকোর্টে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পারভেজ মোশাররফের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বাতিল হাইকোর্টে

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে পাকিস্তানের সাবেক সেনা শাসক পারভেজ মোশাররফের ফাঁসির আদেশ বাতিল হয়ে গেছে দেশটির লাহোর হাইকোর্টে। গতকাল সোমবার হাইকোর্টের এই আদেশে বলা হয়েছে, যে বিশেষ আদালত রাষ্ট্রদ্রোহের জন্য তাঁকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন, সেই আদালত গঠন করাই ছিল অসাংবিধানিক।

নির্বাসনে থাকা পারভেজ মোশাররফের অনুপস্থিতিতে গত ১৭ ডিসেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিলেন ওই বিশেষ আদালত, যাতে তাঁর মৃতদেহ তিন দিন ঝুলিয়ে রাখার অভিনব আদেশও দেওয়া হয়েছিল। এর রায় ঘোষণার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও হতাশা ব্যক্ত করা হয়েছিল। এর এক মাসের কম সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণাকারী আদালতকেই অবৈধ ঘোষণা করলেন হাইকোর্ট।

২০০৭ সালের ৩ নভেম্বর সংবিধান স্থগিত করে জরুরি অবস্থা জারি এবং সংবিধান স্থগিত করায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলার বিচার শুরু হয়েছিল।

বিশেষ আদালত গঠনকে হাইকোর্ট অবৈধ বললেও মৃত্যুদণ্ডের আদেশটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে কি না তা তাত্ক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পারভেজ মোশাররফের আইনজীবীরা বলছেন, তাঁরা মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বাতিলের ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী। তাঁর আইনজীবী আজহার সিদ্দিক রয়টার্সকে বলেন, লাহোর হাইকোর্ট ওই রায়কেও বাতিল করে দিয়েছেন। আরেক কৌঁসুলি বলেন, হাইকোর্টে সাজা বাতিল হওয়ার অর্থ হচ্ছে মোশাররফের মুক্তি। তবে বিবিসি উর্দুতে বলা হচ্ছে, আরেকটি কোর্টে এখনো এ মামলার পুনর্বিচার হতে পারে।

মূলত পারভেজ মোশাররফের পক্ষে ওই বিশেষ আদালতের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদনটি করা হয়েছিল। আবেদনটির শুনানি শেষে তিন সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল আদেশে বলেছেন, যেভাবে ওই মামলা করা হয়েছে, তা-ও আইনসম্মত হয়নি। মোশাররফ কেবল তাঁর দেশদ্রোহের অভিযোগের বিচারের জন্য বিশেষ আদালত গঠনকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।

১৯৯৯ সালে এক সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন পারভেজ মোশাররফ। পরে ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সূত্র : আলজাজিরা, রয়টার্স।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা