kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

প্রধানমন্ত্রী বললেন

চাই পেশাদার ও প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী গড়তে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চাই পেশাদার ও প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী গড়তে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে কেক কাটেন। ছবি : আইএসপিআর

সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে সক্ষম একটি আধুনিক, পেশাদার ও সুদক্ষ বাহিনীতে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর আলোকে একটি আধুনিক, পেশাদার ও প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র জোগাড় এবং প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’

গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স

(এনডিসি) ২০১৯ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডাব্লিউসি কোর্স) ২০১৯-এর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী পরিচালনার যে নীতিমালা করে যান তারই আলোকে আমরা ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করেছি। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আরো শক্তিশালী এবং যুগোপযোগী করতে সেটাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ।’ পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাটা জরুরি আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্যই আমরা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নতুন নতুন অস্ত্রশস্ত্র জোগাড় থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং বিভিন্ন জায়গায় নতুন করে সেনানিবাসও গড়ে তুলেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের জন্য যখন যেটা প্রয়োজন সে ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সচেতন এবং সেই পদক্ষেপ নিচ্ছি। কারণ আমরা একটা পেশাদার এবং প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে শান্তি রক্ষা মিশনে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যাচ্ছে এবং সে ক্ষেত্রেও আমাদের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হচ্ছে। আবার শান্তি রক্ষা মিশনে গিয়ে আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে যেন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা চলতে পারেন, যুদ্ধ সরঞ্জামের সঙ্গে যেন তাঁদের পরিচিতি থাকে এবং তাঁরা যেন যেকোনো ক্ষেত্রে ভূমিকা পালনে কোনো ধরনের দ্বিধাগ্রস্ত না হন সে জন্য প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের বিষয়ে আমরা সচেতন।’ যত দূর সম্ভব সীমিত সম্পদের মধ্যেও সরকার তার জোগান দিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি সব সময় এটা মনে করি প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রতিটি মানুষের মাঝেই এ চিন্তাটা থাকা উচিত। দেশমাতৃকার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারেই আপনারা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এখানে এসেছেন। এই দেশ আপনাদের এবং আমাদের সকলের এই চিন্তা থেকেই এ দেশকে আমরা আগামীর পথে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

তিনি এ সময় প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘যাঁরা অন্যান্য দেশ থেকে এসেছেন তাঁরা পরবর্তীতে নিজ নিজ দেশের কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাবেন। আমি আপনাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাই হবেন আমাদের গুডউইল অ্যাম্বাসাডর। কারণ আপনারা একটি বছর এখানে থেকে বাংলাদেশকে চিনেছেন, জেনেছেন, সকলের সঙ্গে মিশেছেন এবং আপনারা দেখেছেন যে বাংলাদেশের মানুষ সাধারণভাবে খুব আন্তরিক এবং বন্ধুসুলভ। কাজেই আপনারা আমাদের শুভবার্তা নিয়ে যাবেন নিজ দেশে।’

তিনি বলেন, “আপনারা আপনাদের অভিজ্ঞতা দেশ ও দেশের মানুষের কাজে লাগাবেন। সেটাই আমি কামনা করি এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ‘সিকিউরিটি থ্রু নলেজ’ অর্থাত্ ‘জ্ঞানেই নিরাপত্তা’—ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের এই মূলমন্ত্রে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশকে স্থিতিশীল, টেকসই উন্নয়ন, আত্মনির্ভরশীলতা এবং সর্বোপরি গৌরবময় অবস্থানের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব সময় একটা কথাই মনে রাখবেন, অনেক রক্ত দিয়ে এই স্বাধীনতা অর্জন। কোনোক্রমেই আমরা একে ব্যর্থ হতে দিতে পারি না। বাংলাদেশ হবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।’ তিনি কলেজের কমান্ড্যান্ট, ফ্যাকাল্টি সদস্য, রিসোর্স পারসনস ও স্টাফ অফিসারদেরও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদ অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন। ৮৫ জন সশস্ত্র বাহিনী, জনপ্রশাসন এবং বিদেশি সামরিক কর্মকর্তা ‘এনডিসি কোর্স ২০১৯’-এ এবং সশস্ত্র বাহিনীর ৩৮ জন কর্মকর্তা ‘এএফডাব্লিউসি কোর্স ২০১৯’-এ অংশ নেন। ১৬টি দেশের সামরিক কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। দেশগুলো হচ্ছে—চীন, মিসর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, মালয়েশিয়া, নেপাল, নাইজেরিয়া, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, তানজানিয়া, যুক্তরাজ্য, মালি ও নাইজার। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা