kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভূমিকা

নিরপেক্ষ হয়েছে ভারত, বিচারে অনাগ্রহী চীন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নিরপেক্ষ হয়েছে ভারত, বিচারে অনাগ্রহী চীন

ফাইল ছবি

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রতিবেশী ভারতকে ‘নিউট্রালাইজড’ (নিরপেক্ষীকরণ) করতে পেরেছে বাংলাদেশ। গত মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্যাংককে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে, বিশেষ করে রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে চীন ও জাপান।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ভারত, চীন, জাপান—সবাই চায় রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান। তাদের সবার প্রত্যাশা, রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন। কিন্তু রোহিঙ্গা নিপীড়নের জবাবদিহির আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নিয়ে তাদের অবস্থানগত পার্থক্য আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক কালের কণ্ঠকে, “আমরা ভারতকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে অন্তত ‘নিউট্রালাইজড’ করতে পেরেছি। আমরা মনে করি, জবাবদিহির ক্ষেত্রে চীনের বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল ও আছে। বিশেষ করে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের জবাবদিহির ক্ষেত্রে এখনো বড় বাধা চীন।”

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ভারত ও জাপানের নেতারা সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে সুরে কথা বলেছেন তা বাংলাদেশের অবস্থানের প্রায় কাছাকাছি। তবে জবাবদিহির উদ্যোগ নিয়ে একেক দেশের অবস্থান একেক রকম। কেউ কেউ করে মনে করে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আজ মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জবাবদিহি করতে হলে ভবিষ্যতে অনেক ইস্যুতে তাদেরও জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। তবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বরাবরই বাংলাদেশের পাশে জোরালোভাবে আছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) পশ্চিমা দেশগুলো। জবাবদিহির আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে তোলা প্রস্তাবগুলোর সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষক হয়েছে ইইউ। যুক্তরাজ্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ‘পেন হোল্ডারের’ ভূমিকা পালন করছে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে কানাডা মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত নিয়োগ দিয়েছে। কানাডার হাইকমিশনার বেনওয়া প্রিফনটেইন গত শনিবার ঢাকায় বলেছেন, তাঁর দেশ মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

কানাডা মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সম্মানসূচক নাগরিকত্বও বাতিল করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দুটি ইউনিটের সবার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি সামরিক সম্পর্ক সীমিত করেছে। কানাডা ও ইইউও মিয়ানমারের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর ফলে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বৈশ্বিক বিচরণক্ষেত্র ছোট হয়ে আসছে। পাশাপাশি তাঁদের জবাবদিহি করার উদ্যোগও চলমান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা