kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

যেভাবে বদলাল সিঙ্গাপুরের বিচার প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যেভাবে বদলাল সিঙ্গাপুরের বিচার প্রশাসন

প্রতীকী ছবি

সমন্বিত সংস্কার পদক্ষেপ নিয়ে একটি দক্ষ বিচার প্রশাসন তৈরি করেছে সিঙ্গাপুর। দেশের ৯৭ শতাংশ মানুষ মনে করে, আদালত থেকে তারা সুবিচার পাচ্ছে। বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা সম্পর্কে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সূচকে সিঙ্গাপুরের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের ওপরে। সিঙ্গাপুরে বিচার বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন সরকারি কর্মীদের গড় বেতনের ১৮ গুণ বেশি। আদালতের ব্যবস্থাপনার উন্নতি ও বাজেট বাড়ানোর সুফল পেয়েছে সে দেশের জনগণ, যার প্রভাব পড়েছে বিদেশি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে।

জানা যায়, সংস্কারের প্রথম পাঁচ বছরে (১৯৯২-৯৭) মামলা নিষ্পত্তির হার দাঁড়ায় ৯৭ শতাংশে। মামলাজট কমানোর জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগের ফলে ওই সময়ের মধ্যে ঝুলে থাকা মামলা অর্ধেক কমে যায়। সিঙ্গাপুরের আদালত এখন বিশ্বের দ্রুততম আদালতগুলোর একটি। ২০০০ সালে ঢাকায় এক সেমিনারে এসে সিঙ্গাপুরের এক আইনজীবী বলেছিলেন, ‘আমাদের আদালতেও মামলাজট ছিল। এখন বিচারকরা কোর্টে বসে থাকেন মামলার অপেক্ষায়।’

আদালতে মামলার স্রোত কমাতে ১৯৯২ সালে প্রি-ট্রায়াল কনফারেন্স চালু করে সিঙ্গাপুর। এতে বাদী-বিবাদীর শুনানি বেড়েছে, তবে কমেছে মামলার সংখ্যা ও বিচারপ্রক্রিয়ার সময়।

চাইলেই বিচারের বা আপিল করার সময় বাড়ানো যায় না সিঙ্গাপুরে। বাদী-বিবাদী পক্ষ যাতে বারবার সময় চেয়ে বিচার দীর্ঘায়িত করার সুযোগ না পায় সে জন্য বাড়ানো হয়েছে কোর্ট ফির পরিমাণ। একই সঙ্গে শুনানির জন্য ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে বিচার পরিচালনার খরচ ২৩ শতাংশ বেড়েছে, তবে এ ব্যয়ের ফলে সার্বিকভাবে লাভবান হয়েছে বিচারপ্রার্থীরা। সংস্কারপ্রক্রিয়ার শুরুতে সরকারকে বাড়তি বিনিয়োগ করতে হলেও পর্যায়ক্রমে তা কমে এসেছে।  

দেশটিতে আদালতের দৈনন্দিন কার্যকাল বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনে দিনের কাজ আগেই শুরু করতে পারেন বিচারকরা। কর্মদিবস বাড়িয়ে সপ্তাহে ছয় দিন করা হয়েছে। রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে কঠোরভাবে সময় তদারকি করা হয়, যা আইনজীবীদেরও মেনে চলতে হয়।

নিবন্ধিত আইনজীবীরা ১৯৯৭ সাল থেকেই ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে মামলা দায়ের করতে পারছেন। আদালতও তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর। বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে সাক্ষীদের জেরা করতে পারেন আইনজীবীরা।

সিঙ্গাপুরে আদালতের খরচ ও আইনজীবীর ফি বেঁধে দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে আদালতকে। বিচারিক প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের কারণে বাড়তি খরচ হলে তার দায় নিতে হয় আইনজীবীকে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা