kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পলিথিনে রুদ্ধ নগরীর খাল-জলাশয়

মাটি-পানির মারাত্মক দূষণ

শাখাওয়াত হোসাইন   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পলিথিনে রুদ্ধ নগরীর খাল-জলাশয়

মুগদা খাল যেন প্লাস্টিক-পলিথিনের বর্জ্যের ভাগাড়। ছবি : কালের কণ্ঠ

পলিথিন ব্যাগে সয়লাব রাজধানীর সব এলাকা। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সংগৃহীত বর্জ্যের বড় অংশই পলিথিন ব্যাগ। নগরবাসীর ব্যবহৃত এসব পলিথিনের বড় একটা অংশ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় সিটি করপোরেশন। ফলে এসব ব্যাগ যত্রতত্র পড়ে থেকে দূষণ ঘটাচ্ছে মাটিতে। এ ছাড়া নগরবাসীর ব্যবহৃত পলিথিনের চূড়ান্ত স্থান ঢাকার খাল ও নদীতে হওয়ায় মারাত্মক দূষণ ছড়াচ্ছে পানিতে। হাতিরঝিল ব্যতীত অন্য কোনো জলাশয়ে পলিথিন বাছাইয়ের ব্যবস্থা না থাকায় পানিপ্রবাহে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ভয়াবহ এ বস্তুটি নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা। সরকারের তদারকি ও সদিচ্ছার অভাবে আইন থাকা সত্ত্বেও পলিথিন বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে মনে করেন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা ওয়াসার নিয়ন্ত্রণে খাল রয়েছে ২৬টি। এসব খালের মধ্যে বাইশটেকী, সাংবাদিক কলোনি, বাউনিয়া, ইব্রাহিমপুর, কসাইবাড়ী, আব্দুল্লাহপুর, শাহজাদপুর, মহাখালী, রূপনগর, রামচন্দ্রপুর এবং সুতিভোলা খালে পানির প্রবাহ নেই পলিথিনের কারণে। এ ছাড়া কল্যাণপুরের ছয়টি খাল, কাটাসুর খাল, দিগুণ খাল, জিরানি খাল, সবুজবাগ বাসাবো খাল, রূপনগর খাল, রূপনগর ব্রাঞ্চ (আরামবাগ) খাল এবং দেবধোলাই খালও পলিথিনদূষণে বিপর্যস্ত। নগরবাসী সরাসরি খালে নিক্ষেপ করে পলিথিনসহ অন্যান্য বর্জ্য। এসব খাল পরিষ্কার করার মাসখানেকের মধ্যেই আবারও পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্যে অচল হয়ে যায় বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আমিন বাজারের ল্যান্ডফিল উপচে পলিথিন গিয়ে পড়ছে পাশের খাল ও নদীতে। ফলে জেলেরা মাছ ধরার জন্য এসব জলাশয়ে জাল ফেললেও উঠে আসে পলিথিন। জলাশয়ে পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্যের কারণে হুমকিতে রয়েছে জলজ প্রাণী।

আমিন বাজারের নগরকুণ্ডা গ্রামের জেলে জ্যোদিষ্টি রাজবংশী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুরো এলাকা পলিতিন ব্যাগে ভইরা গেসে। জাল ছাড়লে মাছের বদলে উইটা আহে পলিতিন। একসময় মাছের কোনো অভাব আছিল না এইহানে। কিন্তু এহন মাছও পাওয়া যায় না।’

ঢাকা ওয়াসার পরিচালক (কারিগরি) শহীদ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পলিথিন সলিড বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। কিন্তু এই পলিথিনের মতো সলিড বর্জ্য দিয়ে ওয়াসার খাল ভরাট করে রাখা হয়। পলিথিনের কারণে খালগুলো পরিষ্কার ও সচল রাখা যায় না। পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য খালে না ফেলার জন্য ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা উচিত।’

জানা গেছে, পলিইথাইলিন ও পলিপ্রপাইলিন বা এদের যৌগ দ্বারা উৎপাদিত পণ্যের ব্যবহার সরকার আইন করে নিষিদ্ধ করেছে। ২০০২ সালে পলিথিন নিষিদ্ধ করার পর বছর দুয়েক ব্যাপক হারে অভিযানও পরিচালনা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে সেই আইন বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

পরিবেশবাদীদের মতে, রাষ্ট্রে পলিথিন উৎপন্ন, বিপণন ও ব্যবহার হচ্ছে; কিন্তু রাষ্ট্র নীরব। বিক্ষিপ্তভাবে পলিথিন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বিভিন্ন সময়; কিন্তু অভিযান সব খুচরা বাজারকেন্দ্রিক। পলিথিন বন্ধ করতে হলে অবশ্যই কারখানা বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। খাল, বিল, নদী, এমনকি সাগরের দূষণের অন্যতম কারণ পলিথিন ও প্লাস্টিক। সরকার উদ্যোগ না নিলে পুরো দেশের মাটি ও পানি দূষিত হবে। কৃষির উৎপাদনও বিনষ্ট হবে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পলিথিন বন্ধ করতে হলে ব্যাপক হারে অভিযান পরিচালনা করতে হবে। কারখানা তো বটেই, কোনো দোকান বা ব্যক্তির কাছে পলিথিন পাওয়া গেলে তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে কারখানাগুলো সিলগালা করতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা