kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

উদ্বৃত্ত উৎপাদন-আমদানি

অরক্ষিত নিত্যপণ্য বাজার, সক্রিয় মুনাফালোভীরা

ফারুক মেহেদী   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



অরক্ষিত নিত্যপণ্য বাজার, সক্রিয় মুনাফালোভীরা

চাল, পেঁয়াজ, লবণ, ভোজ্যতেল, চিনিসহ প্রধান কয়েকটি নিত্যপণ্যের চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন, কয়েকটির ক্ষেত্রে পরিমিত আমদানির পর বাজারে এসবের যথেষ্ট সরবরাহ থাকার পরও দামের ক্ষেত্রে রীতিমতো নৈরাজ্য চলছে। ঘাটতি তো নয়ই, বরং পর্যাপ্ত উৎপাদনের ফলে চাল রপ্তানির প্রক্রিয়া যেমন আছে, তেমনি চিনি ও ভোজ্যতেলের পরিমিত আমদানির পর নিজেদের জন্য রেখে, একটি অংশ প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানিরও অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

অথচ একেক দিন একেক পণ্যের হু হু করে দাম বাড়ানো এবং পণ্যটির সংকট তৈরির মধ্য দিয়ে পুরো বাজারব্যবস্থা তছনছ করে ফেলা হয়েছে। একটি অতিমুনাফালোভী অসাধুচক্রের বিরুদ্ধে এখন পণ্যের সংকট তৈরি করে ফায়দা লোটার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার বাজারব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়েও। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বিশ্লেষক, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারকরা অবিলম্বে বাজারে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছরে দেশে চাল উৎপাদন হয়েছে তিন কোটি ৮৬ লাখ টন। এটা বলা যায়, বাংলাদেশে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদন। এর পাশাপাশি জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে আমদানিও হয়েছে এক লাখ ৮৪ হাজার টন। উৎপাদন বেশি হয়েছে, আবার আমদানিও হয়েছে, তাহলে চালের মোট চাহিদা কত? এর সঠিক কোনো হিসাব না থাকলেও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. মনজুর হোসেনের একটি গবেষণা বলছে, একজন মানুষ দৈনিক গড়ে ৪৫৭ গ্রাম চাল খায়। অর্থাৎ আধা কেজির কম। বাংলাদেশে কর্মরত জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা-এফএওর পভারটি অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন পলিসি অ্যাডভাইজর অধ্যাপক ড. মিজানুল হক কাজল কালের কণ্ঠকে জানান, যদি তা আধা কেজি হিসাবেও ধরা হয়, তবে ১৭ কোটি মানুষের বছরে চাল লাগার কথা তিন কোটি ১৯ লাখ টনের মতো। তাহলে দেখা যাচ্ছে, বিপুল পরিমাণ চাল উদ্বৃত্ত রয়েছে। অথচ চালের বাজারেও অস্থিরতা। তিনি বলেন, চালসহ প্রধান প্রায় সব কটি নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক এবং কিছু ক্ষেত্রে উদ্বৃত্ত আছে। তার পরও একটি চক্র পুরো বাজারব্যবস্থাকে তছনছ করে দিয়েছে। এখানে আইনের কার্যকর প্রয়োগ না থাকা, ব্যবসায়ীদের নীতিনৈতিকতার অভাব, রাজনৈতিক দীনতা, বিশেষ করে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ব্যর্থতায় বাজারে এ নৈরাজ্য চলছে। তদারকির সময় যখন ব্যবসায়ীদের কাছে নথিপত্র পাওয়া যাচ্ছে না, তখন তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? এগুলো এখন দেখা হোক। তাঁর মতে কৃষি, অর্থ, বাণিজ্য, খাদ্য, শিল্প ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পদক্ষেপই একমাত্র বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে পারে।

চালের এমন উদ্বৃত্তের মধ্যেও গেল সপ্তাহ থেকে পণ্যটির দাম কেজিতে পাঁচ থেকে সাত টাকা পর্যন্ত বাড়তির মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ অটো, মেজর ও হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকার নিজেই ৩৬ টাকা ধরে কৃষকের কাছ থেকে চাল কিনছে। এতে বাজারে কিছুটা দাম বাড়তি। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগও অন্যতম কারণ। এ সময় হাট-বাজারে ধান না ওঠায় মোটা চালের দাম বেড়েছে দুই টাকা। আর মিনিকেট বেড়েছে পাঁচ টাকা। তবে সামনে  চালের দাম বাড়বে না জানিয়ে তিনি বলেন, এখন নতুন ধান উঠছে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত মজুদও রয়েছে। ফলে আর বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

রাজধানীর বাবুবাজারের চাল আড়তদার মেসার্স শুভ রাইস এজেন্সির হাজি মো. আবুল কালাম বলেন, চালের সংকট না থাকলেও শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা বলে মিল মালিকরা প্রতি কেজি মিনিকেটে পাঁচ থেকে ছয় টাকা এবং মোটা চাল আটাশ আট থেকে ১০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে নতুন ধান আসার ফলে সামনে দাম বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। 

পেঁয়াজ নিয়ে নৈরাজ্য হয়েছে চূড়ান্ত। ৩০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ আমদানি করে বিক্রি করা হয়েছে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। অথচ পরিসংখ্যান বলছে, দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টন। আর চাহিদাও ২৩-২৪ লাখ টনের মতো। এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমদানি হয়েছে পাঁচ লাখ ১৬ হাজার ৩২১ টন। নভেম্বরেও প্রায় ৫০ হাজার টনের মতো আমদানি হয়েছে। আরো আছে পাইপলাইনে। মিসর, পাকিস্তান, চীন, তুরস্ক থেকেও পেঁয়াজ আসছে। দেশীয় পেঁয়াজও স্বল্প পরিসরে উঠতে শুরু করেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, এ বছরে পেঁয়াজসহ আদা, রসুন, ধনিয়া, হলুদ, মরিচের উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ টন। অর্থাৎ পেঁয়াজের পাশাপাশি অন্যান্য মসলাজাতীয় নিত্যপণ্যেরও উৎপাদন হয়েছে পর্যাপ্ত, যা থেকে নিজেদের চাহিদা ভালোভাবেই মেটানো সম্ভব। শুধু তাই নয়, উদ্বৃত্ত উৎপাদনের কারণে এ বছর হলুদ ও হলুদের গুঁড়া রপ্তানি হয়েছে ৮৭৫ টন, ধনিয়ার গুঁড়া ৪৬৭ টন, মরিচের গুঁড়া ৩৫৮ টন।

পেঁয়াজের বাজারে নৈরাজ্য চলার মধ্যেই তুলকালাম হলো লবণের বাজারে। কমবেশি ১৫ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে ১৮ লাখ টন লবণ উৎপাদন হওয়ার পরও গুজব ছড়ানো হলো যে লবণের সংকট হচ্ছে। আর ক্রেতারাও হামলে পড়ল বাজারে। অথচ শীর্ষ লবণ উৎপাদকরা বললেন, বাজারে কোনো সংকট নেই, বরং উদ্বৃত্ত। অথচ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাজার থেকে একটি চক্র বিপুল অঙ্কের মুনাফা করে নিয়ে গেল। এ ব্যাপারে এসিআই কনজ্যুমার ব্র্যান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আলমগীর বলেন, ‘বাজারে এক শ্রেণির ফড়িয়া ও অখ্যাত সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ী ঢুকে গেছে। তারাই বাজারটাকে অস্থির করে অল্প সময়ের মধ্যে মুনাফা করে নিয়ে গেছে। বরং আমাদের লোকসান হয়েছে। হুজুগে লোকজন দোকানে যে ব্র্যান্ডেরই লবণ পেয়েছে কিনেছে। আমরা মনে করি, যারা বাজারে এভাবে কারসাজির পাঁয়তারা করছে তাদের ধরে শাস্তির আওতায় আনলে সব ঠিক হয়ে যাবে।’

বাজারে যে লবণের ঘাটতি নেই তা গুজবের পরদিনই বোঝা গেছে। যারা একসঙ্গে বেশি লবণ কিনেছিল তারা আবার দোকানে ফেরত দেওয়ারও চেষ্টা করেছে। গুজবের দিন সুপারশপ ‘স্বপ্ন’ উল্টো লবণের মোড়কে যে দাম তার চেয়ে কমিয়ে লবণ বিক্রি করা শুরু করে। স্বপ্নের সিইও সাব্বির হাসান নাসির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে যখন দামের নৈরাজ্য দেখলাম, তখনই আমরা এটা যে গুজব তা প্রথমে ফেসবুকে জানিয়ে দিলাম। পরে আমরা এর দাম মোড়কের দামের চেয়েও কমিয়ে দিলাম। আসলে আমরা চাই একটি সংগঠিত বাজার। যে বাজার চলছে, তা এক শ্রেণির অসাধু চক্রের অতি মুনাফার নৈরাজ্য ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা সরকারকে বলে আসছি যে বাজারকে সংগঠিত করতে হবে। যাতে ভোক্তারা প্রতারিত না হয় সে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

লবণ ও পেঁয়াজের বাজারে নৈরাজ্যের বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা পেঁয়াজের আমদানি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছি। আর লবণের বিষয়টিও নজরে আছে। কোনোটিরই ঘাটতি নেই, উদ্বৃত্ত আছে। আর কিছু লবণ আমদানি হয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণ হিসেবে। এ নিয়ে বিতর্ক আছে। আমরা এ লবণ আমদানি করার সুযোগ রাখব কি না, ওই বিষয়টিও ভেবে দেখছি।’

ভোজ্য তেল ও চিনির বাজারও স্বাভাবিক নয়। কিছুটা বাড়তির দিকেই রয়েছে এসব নিত্যপণ্যের দামও। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, এ বছর সয়াবিন, সরিষা, তিল, তিসিসহ বিভিন্ন তেলজাতীয় পণ্যের উৎপাদন হয়েছে ১০ লাখ ৬৮ হাজার টন। রাইস ব্র্যান তেলের উৎপাদন  ক্ষমতাও প্রায় দুই লাখ ৭০ হাজার টন, যদিও এর পুরোটা এখনো উৎপাদন করা যাচ্ছে না কাঁচামালের অভাবে। তার পরও একটি অংশ যোগ হচ্ছে বাজারের সরবরাহব্যবস্থায়। শুল্ক বিভাগের তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে ক্রুড ও রিফাইন্ড মিলিয়ে সয়াবিন ও পাম অয়েল আমদানি হয়েছে ২৩ লাখ ৯৩ হাজার টন। চাহিদার চেয়ে এসব ভোজ্য তেলেরও পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মজুদ রয়েছে বলে এসবের কিছু রপ্তানিও হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ বছর সরিষা, তিল, রাইসব্রানসহ বিভিন্ন জাতের ভোজ্য তেল রপ্তানি হয়েছে ৪১ হাজার ২৭০ টন। শুধু তা-ই নয়, ভোজ্য তেল ও চিনি উৎপাদন ও প্রক্রিয়ায় ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে দেশে। বেশ কয়েকটি বড় গ্রুপ এসব পণ্যের প্রক্রিয়াকরণ কারখানা করেছে। তারা দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানিও শুরু করছে। এরই মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুন শিং এডিবল অয়েল লিমিটেডের আবেদনে সাড়া দিয়ে পাঁচ হাজার টন সয়াবিন ও পাম অয়েল রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে।

একইভাবে চিনি উৎপাদনও চাহিদার চেয়ে বেশি হচ্ছে। সরকারি চিনিকলে কম উৎপাদন হলেও বেসরকারি খাতের বেশ কয়েকটি কম্পানি চিনি পরিশোধন কারখানা করেছে। ওই সব কারখানায় অশোধিত চিনি এনে প্রক্রিয়া করে দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি শুরু করতে যাচ্ছে। ভোজ্য তেলের মতো বেসরকারি সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৪৭ হাজার টন চিনি রপ্তানির অনুমোদন নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে। শিগগিরই তারা এসব চিনি রপ্তানি শুরু করবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এসব পণ্যের বাইরে আরো কয়েকটি নিত্যপণ্যের উৎপাদনও পর্যাপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে এ বছর আলু উৎপাদিত হয়েছে এক কোটি ৯ লাখ ৪৯ হাজার টন। চাহিদার তুলনায় তা বেশি বলে রপ্তানিও হচ্ছে কিছুটা। এ বছর সরাসরি আলু রপ্তানি হয়েছে ৩৪ হাজার ৭৯৪ টন; যদিও বাংলাদেশের আলুতে আর্দ্রতা বেশি বলে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রপ্তানি হয় না। তার পরও একটি বড় অংশ রপ্তানি হচ্ছে চিপস ও অন্য প্রক্রিয়াজাত খাবার হিসেবে।

গম উৎপাদিত হয়েছে ১১ লাখ ৪৮ হাজার টন। তা পরিমাণে কম হলেও চাহিদাও কম। বাড়তি যেটুকু প্রয়োজন, তা আমদানি করা হয়। জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে গম আমদানি হয়েছে ৫৫ লাখ ২২ হাজার ৭২১ টন।

বিভিন্ন ডাল ও ডালজাতীয় পণ্যের উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানিও হয়েছে ব্যাপক। এ বছর উৎপাদিত হয়েছে ৯ লাখ ৩৭ হাজার টন। আর আমদানি হয়ে এসেছে সাত লাখ ৫৫ হাজার ৭৭৮ টন। ভুট্টা উৎপাদিত হয়েছে ৪৬ লাখ ৯৯ হাজার টন। বলা যায়, প্রায় সব কটি প্রধান নিত্যপণ্যেরই পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।

রাজধানীর মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি গোলাম মাওলা বলেন, তেল ও চিনির বাজারে কোনো সংকট নেই। দামও খুব একটা বাড়েনি। প্রতিবছর শীত এলে চাহিদা বাড়লে দামও কিছুটা বাড়ে। সেই হিসাবে খোলা তেল লিটারে তিন থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া চিনি বিক্রি হয় মিলগেটের দাম অনুসারে ৫৩ টাকা এবং সরকারি চিনি ৬০ টাকা কেজি হিসাবে।

মৌলভীবাজারের উজ্জল স্টোরের আশরাফুল গতকাল জানান, প্রতিটি কম্পানির তেল পাঁচ থেকে ছয় টাকা বেড়েছে। আট লিটার ও পাঁচ লিটারের কার্টনে গত এক সপ্তাহে ৮০ থেকে ৯০ টাকা বেড়েছে। খোলা তেলে লিটারে চার থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে।

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আজিজুর রহমান বলেন, দাম বাড়াটা কয়েকটি অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের কারসাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। এরা পুরো বাজারকে অস্থির করে একদিকে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে নিজেরা বিপুল অঙ্কের মুনাফা করে বাজার থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। অথচ এদের ধরা কোনো কঠিন কাজ নয়। কারা উৎপাদক, আমদানিকারক, ব্যবসায়ী ও মজুদদার, এটি সরকারি বিভিন্ন সংস্থা জানে। তারা যদি সমন্বিত উপায়ে পুরো বিষয়টি নজরদারি করে অতিমুনাফালোভীদের ধরে, তাহলে বাজারে অনেকটাই শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবুল কুমার সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, সারা দেশে প্রতিদিন শতাধিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অনেককেই অতিমুনাফা ও মজুদদারির জন্য শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন দুই হাজারের বেশি ব্যবসায়ীকে পেঁয়াজের বাজারে কারসাজির অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ সংখ্যা এখন বাড়লেও বাজারে সত্যিকার অর্থে কোনো শৃঙ্খলা ফেরেনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা