kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

জুতার বদলে ক্যাসিনো সরঞ্জাম আমদানি

তিনজনের বিরুদ্ধে মুদ্রাপাচার মামলা হচ্ছে

ফারুক মেহেদী   

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিনজনের বিরুদ্ধে মুদ্রাপাচার মামলা হচ্ছে

জুতার কাঁচামাল ও গাড়ির ব্রেক প্যাড আমদানির আড়ালে ক্যাসিনো সরঞ্জাম আমদানির মাধ্যমে মুদ্রাপাচারের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করবে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সংস্থার পক্ষ থেকে আমদানিকারক এ এম ইসলাম অ্যান্ড সন্সের মালিক জাহিদুল ইসলাম মণ্ডল, সরবরাহকারী মো. কাউছার এবং পণ্যের গ্রাহক মো. রাজুর নামে মুদ্রাপাচার মামলা করতে এনবিআরের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। সংস্থাটির সম্মতি পেলে শিগগিরই এই তিনজনের বিরুদ্ধে  মামলা করা হবে। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখনই বিস্তারিত বলা যাবে না। তবে আমরা বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জুতার কাঁচামাল আমদানির আড়ালে ক্যাসিনো সরঞ্জাম আমদানি করে মুদ্রাপাচারের উচ্চতর তদন্ত করছি। কারো কারো বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. জাহিদুল ইসলাম মণ্ডল চীনের গুয়াংজোর ওয়্যারহাউস ব্যবসায়ী মো. কাউছারের মাধ্যমে ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট সাউথইস্ট ব্যাংকের উত্তরা শাখায় মোটর পার্টস, বাল্ক টোনার, মোবাইল অ্যাকসেসরিজ, কপিআর পার্টস, কম্পিউটার পার্টস, সিএনজি স্পেয়ার্স পার্টস আমদানির জন্য ৪০ হাজার ডলারের ঋণপত্র খোলেন। অথচ একই বছরের ৭ ডিসেম্বর পণ্য খালাসের সময় নথিপত্রে সাড়ে তিন হাজার ডলারের ৯৮ কেজি জুতার কাঁচামাল আনার ঘোষণা দেন। পরে কায়িক পরীক্ষার সময় দেখা যায়, জুতার কাঁচামাল ৫৩ কেজি আর ক্যাসিনো চিপস ৪৫ কেজি। তদন্তে মিথ্যা ঘোষণায় ক্যাসিনো সরঞ্জাম আমদানি, পাঁচ হাজার ২০৮ ডলার বা চার লাখ ৫৬ হাজার টাকা পাচার, দুই লাখ ৭৭ হাজার টাকার শুল্ক ফাঁকির বিষয়টি ধরা পড়ে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শুল্ক গোয়েন্দা আমদানিকারক, সরবরাহকারী এবং ক্যাসিনোতে এই সরঞ্জাম গ্রহণকারীর বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশ করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে, শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ক্যাসিনো সরঞ্জাম আমদানি সন্দেহে গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪৫টি চালান শনাক্ত করা হয়। এখন যাচাই-বাছাই চলছে। এর মধ্যে বেশ কিছু চালান পাওয়া গেছে যাঁরা শুল্ক ফাঁকি ও মুদ্রাপাচারে জড়িত। পর্যায়ক্রমে জড়িত সবার বিরুদ্ধে মামলা হবে।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই সময়ই ক্যাসিনো সরঞ্জাম আমদানির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে মাঠে নামে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা