kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

শাস্তি দিয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে হবে

ড. ইফতেখারুজ্জামান

২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শাস্তি দিয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে হবে

লবণের গুজব ছড়িয়ে যা ঘটে গেল, আমার ধারণা পেঁয়াজসংকটের বিষয়টি এর পেছনে কাজ করেছে। একটা সংকটের ফলে কিংবা সংকট তৈরি করে যারা পেঁয়াজের ব্যবসায়ী—তারা বিপুল মুনাফা অর্জন করেছে। তাদের দেখাদেখি গুজব ছড়িয়ে আজকে লবণ, কালকে চাল, পরশু অন্য কিছু—যারা সুযোগসন্ধানী-

মুনাফাখোর গোষ্ঠী তাদের মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা অস্বাভাবিক নয়। সাধারণ মানুষের সরলতা ও সচেতনতার ঘাটতির সুযোগ নেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছে এই গোষ্ঠী। এতে সাধারণ মানুষই প্রতারিত হয়েছে।

আরেকটি প্রবণতা লক্ষ করা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের অপব্যবহার। বিশ্বব্যাপী এ অপতত্রতা লক্ষ করা গেছে। ভুয়া খবরভিত্তিক ক্ষমতার অপব্যবহার, গণমাধ্যমের অপব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকে পুঁজি করে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এটি সাম্প্রতিককালের উদ্বেগজনক একটি বিষয়।

এসব গুজবের ব্যাপারে সর্বত্র সচেতনতা, সজাগ দৃষ্টি প্রয়োজন। বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে যারা গুজব রটনার সঙ্গে জড়িত সেসব সুযোগসন্ধানী মহল যাতে সুযোগ নিতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখা জরুরি। যারা গুজব রটানোর সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে না পারলে এ ধারা বন্ধ করা যাবে না।

সাম্প্রতিক সময়ে পরিবহন আইন নিয়ে গুজব সৃষ্টি ও মিথ্যা প্রচার চালিয়ে সড়কে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রণ কিন্তু সরকারের হাতে নেই। সরকারের সঙ্গে পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট একটি মহল আছে, যারা এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এদের মধ্যে পরিবহন মালিক সমিতির একটি অংশ আছে, চালক সমিতি আছে। এরা এত বেশি প্রভাবশালী হয়ে গেছে যে তাদের হাতে পরিবহন জগতের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে। তারা তাদের প্রভাব খাটিয়ে আইন প্রয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এটা এক ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক তত্পরতা এবং আইনের শাসন পরিপন্থী বিষয়। কিন্তু আমরা জানি সরকারের হাত সবচেয়ে বেশি লম্বা। সরকার যদি সচেষ্ট হয়, সক্রিয় হয় এবং অঙ্গীকারবদ্ধ থাকে তাহলে সড়কে নৈরাজ্য বন্ধ করা অসম্ভব হবে না।

লেখক : নির্বাহী পরিচালক, টিআইবি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা