kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

গুজব রটিয়ে লবণ নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



গুজব রটিয়ে লবণ নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড

গুজব আর হুজুগে লবণের জন্য যেন ঝাঁপিয়ে পড়ছে মানুষ। ‘মরিয়া’ ভোক্তাদের সরিয়ে দিয়ে দোকান বন্ধের নির্দেশ দিচ্ছে পুলিশ। গতকাল বিকেলে কারওয়ান বাজার থেকে তোলা। ছবি : শেখ হাসান

পেঁয়াজ নিয়ে কেলেঙ্কারি দূর না হতেই দেশে হঠাৎ লবণ নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড শুরু হয়েছে। লবণ পাওয়া যাবে না—এমন গুজবে সাধারণ মানুষ বেশি বেশি লবণ কিনতে শুরু করায় তৈরি হয় সংকট। আর এই সংকটকে আরো গভীর করার জন্য একটি মহলের তৎপরতা লক্ষ করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সব মিলিয়ে সারা দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে।

এই গুজব রোধে সরকারের মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর মাঠে রয়েছে। এরই মধ্যে দেশের কয়েকটি স্থান থেকে গুজব সৃষ্টিকারীদের আটক করা হয়েছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত দণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন। সরকার প্রেস নোট দিয়ে জানিয়েছে, দেশে লবণের কোনো সংকট নেই। লবণ ব্যবসায়ী সমিতির নেতারাও জানিয়েছেন, দেশে কোনো লবণসংকট নেই। তাঁদের হাতে পর্যাপ্ত লবণ রয়েছে। অস্থিতিশীল অবস্থা কাটিয়ে তুলতে মন্ত্রণালয়ে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। 

গতকাল মঙ্গলবার কোনো কোনো এলাকায় ক্রেতাদের মধ্যে লবণ নিয়ে কাড়াকাড়ির চিত্রও পাওয়া গেছে। কোন কোন ব্যবসায়ী ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। গতকাল রাত ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে দুই শতাধিক ক্রেতা-বিক্রেতাকে আটক করা হয়েছে। অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ীকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গুজবের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতে রাজধানীসহ সারা দেশে মাইকিং করা হচ্ছে। যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, যারা লবণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। যাদের এরই মধ্যে চিহ্নিত করা গেছে তাদের গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে। গুজবের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। দেশে লবণের কোনো সংকট নেই। কোনো একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ গুজব ছড়াচ্ছে। প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সিলেট থেকে গুজবের উৎপত্তি হয়েছে। এরপর তা সারা দেশে ছড়িয়ে যায়। সব বিষয়ই আমরা দেখছি।’

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন গতকাল বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশে লবণের কোনো সংকট নেই। কিছু অসাধু ব্যক্তি গুজব ছড়িয়ে লবণের বাজার অস্থির করার চেষ্টা করছে। আমরা কঠোর হস্তে বাজার স্থিতিশীল করব।’

জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যার পর সিলেটের বিয়ানীবাজার এলাকায় লবণসংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পৌর শহর ও গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে সেই খবর। রাতের মধ্যেই সেই গুজব পুরো সিলেট জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। রাত পোহাতেই ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। আর শুরু হয় লবণকাণ্ড। ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবাই লবণ কেনায় নেমে পড়ে। ফলে সেই সুযোগ গ্রহণ করা শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। যে কারণে গতকাল সন্ধ্যার দিকে ঢাকাসহ দেশের অনেক জায়গায় বাজারে লবণসংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিটি সার্ভিস) মো. জেদান আল মুসা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লবণের দাম বাড়ার গুজব ফেসবুক থেকেই ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা কয়েকটি আইডি শনাক্ত করেছি। তবে প্রথমে কোন আইডি থেকে কে বা কারা এই গুজব ছড়িয়েছে সেটি চিহ্নিত করতে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।’

রাতেই একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের লোকজন এই গুজব প্রতিরোধে মাঠে নামেন। গুজবে কান না দিতে মাইকিং করা হয়। সোমবার রাতে সিলেট শহরের পাইকারি বাজার কালিঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রি করায় মেসার্স শিমুল স্টোরকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া লবণ স্থানান্তরের জন্য তিনটি ঠেলাগাড়িতে রাখা ৬০০ কেজি লবণ মালিক না পাওয়ায় জব্দ করা হয়। এ ছাড়া রাত ১২টার দিকে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন ব্যবসায়ীকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে : লবণসংক্রান্ত বিষয়ে তদারকির জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ ক্ষদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) প্রধান কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এর নম্বর হচ্ছে : ০২-৯৫৭৩৫০৫ (ল্যান্ড ফোন), ০১৭১৫-২২৩৯৪৯ (সেল ফোন)। লবণসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের জরুরি হেল্পলাইন ৯৯৯-এ ফোন করে জানাতে বলা হয়েছে। 

রাজধানীর চিত্র : গুজবে কান দিয়ে গতকাল দুপুরে কারওয়ান বাজারে আসেন আরমান শেখ নামের এক বয়স্ক ব্যক্তি। তাঁর ব্যাগে কী জানতে চাইলে বলেন, ‘পাঁচ কেজি লবণ।’ একসঙ্গে এত লবণ কখনো কেনেননি জানিয়ে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি রাজাবাজারে থাকি। শুনলাম পেঁয়াজের মতো লবণের দাম বেশি হবে। রাজাবাজারের গলির দোকানে কোনো লবণ না পেয়ে কারওয়ান বাজারে এসে পাঁচ কেজি কিনেছি।’  তিনি যখন এ কথা বলছিলেন তখন কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেটের সামনে শত শত মানুষের ভিড়। তাদের বেশির ভাগ গুজবে কান দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দেশের এই বড় মার্কেটে লবণ কিনতে এসেছে। তবে এর আগেই সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে কারওয়ান বাজারের অন্তত ৩০টি পাইকারি দোকানের শতাধিক বস্তা লবণ বিক্রি হয়েছে বলে দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এই গুজব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত নামিয়ে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করেছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে কারওয়ান বাজার ঘুরে জানা যায়, সকাল থেকে কারওয়ান বাজারে কার্যত অন্যান্য পণ্যের চেয়ে লবণ বিক্রি হয়েছে বেশি। খবর পেয়ে তেজগাঁও থানার ওসি শামীম শিকদারের উপস্থিতিতে পুলিশ সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে সবাইকে লবণের ব্যাপারে অভয় দিতে থাকেন। মাইকিং করে পুলিশ সদস্যরা বলছিলেন, কেউ গুজবে কান দেবেন না। দেশে লবণের কোনো সংকট নেই। যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের ধরিয়ে দিন। ওসি শামীম শিকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা স্রেফ গুজব ছাড়া আর কিছু নয়। বাজারে লবণের কোনো সংকট নেই। এর পরও মানুষ গুজবে কান দিয়ে আতঙ্কে বেশি লবণ কিনে সংকট তৈরি করছে। যারা এই গুজব ছড়িয়েছে তাদেরকে ধরার চেষ্টা চলছে।’

জানা গেল, মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে মুদি দোকানের সাপ্তাহিক বন্ধ। এর পরও অন্তত ৩০টি পাইকারি মুদি দোকান কেন খোলা ছিল সে প্রশ্ন অনেকের। তারা অন্য মালপত্র বিক্রি বাদ দিয়ে শুধু লবণ বিক্রি করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দোকানদারদের সঙ্গে সরকারবিরোধী সংঘবদ্ধ চক্রের যোগসাজশ আছে কি না সেটাও দেখা হচ্ছে।

ডিএমপি সদর দপ্তরের নির্দেশে নগরীর ৫০টি থানার পুলিশ কারওয়ান বাজারসহ সব মার্কেট, গলির দোকানপাটের ওপর নজরদারি করতে থাকে। একই সঙ্গে মাইকিংও চলে। যারা বেশি লবণ কিনে বাসায় মজুদ করার চেষ্টা করছে তাদেরও খোঁজ করা হয়।  

সিলেটের পর পাশের জেলা হবিগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়ে গুজব। রংপুরের পীরগাছায়ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়। সেখানে আগের দিন লবণের কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল বিকেলে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। দিনাজপুরে শহরে গতকাল ১২০ টাকা কেজি লবণ বিক্রি হয়েছে। এক শ্রেণির মুনাফালোভী দোকান থেকে লবণ সরিয়েও ফেলেছে। এ কারণে লবণ পাওয়াও যাচ্ছিল না। মহল্লার দোকানে ১৬০ থেকে ২০০ টাকাও লবণ বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।

পটুয়াখালীর গলাচিপায় লবণ কেনার জন্য মানুষের ঢল নামে। এতে নারী-পুরুষ সবাই যোগ দেয়। অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রি করায় গৌতম পাল নামের এক ব্যবসায়ীকে ১৬ বস্তা লবণসহ আটক করে পুলিশ। পাবনার আতাইকুলায় চড়া দামে লবণ বিক্রি করায় সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নওগাঁর রানীনগরেও গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এতে লবণের দোকানের সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ। ৩০ টাকার লবণ এক লাফে ৮০ টাকা হয়ে যায়। কোনো কোনো দোকানি ১০০ টাকা কেজিতেও বিক্রি করেন। কোনো কোনো দোকানিকে দোকান বন্ধ করে চলে যেতেও দেখা যায়। দুর্গাপুর গ্রামের পিন্টু জানান, গুজব শুনে বাজারে গিয়ে তিনি দুই কেজি লবণ ১৯০ টাকা দিয়ে কেনেন। গতকাল দুপুর থেকে নওগাঁর বদলগাছী মহাদেবপুর এলাকায় লবণ নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে কাড়াকাড়ি হতে দেখা যায়। 

একই চিত্র দেখা গেছে বরগুনা, বামনা, আমতলী, ফরিদপুর, ঝালকাঠি, জয়পুরহাট, খুলনা, ময়মনসিংহের গফরগাঁও, ত্রিশাল, পিরোজপুর, মানিকগঞ্জ, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, পাবনা, নাটোর, টাঙ্গাইলের সখীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট, নাচোল, বগুড়ার ধুনট, গাইবান্ধা, হবিগঞ্জের মাধবপুর, নীলফামারীর ডোমার, শেরপুরের নকলা, বরগুনার বেতাগী, নীলফামারী, মুন্সীগঞ্জ, দিনাজপুর, কুড়িগ্রামের উলিপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ, নাটোর, ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল, বগুড়ার শাজাহানপুর, শরীয়তপুরের ডামুড্যা, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, মধুপুর, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া, কাশিয়ানী, নেত্রকোনার বারহাট্টা, নওগাঁর ধামইরহাট, নেত্রকোনার কেন্দুয়া, নড়াইলের লোহাগড়া, সুনামগঞ্জের সুন্দরগঞ্জ, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, যশোর, রাজশাহী, মাদারীপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ঢাকার ধামরাই এলাকায় একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে।

সরকারের প্রেস নোট : তথ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস নোটে বলা হয়েছে, ‘একটি মহল পরিকল্পিতভাবে দেশে গুজব ছড়ানোতে লিপ্ত রয়েছে। সম্প্রতি দেশে লবণের প্রাপ্যতা নিয়েও গুজব ছড়ানোর একটি অপচেষ্টা চলছে। এরইমধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে যে প্রকৃতপক্ষে দেশে লবণের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং ডিসেম্বর মাসেই দেশে নতুন লবণ উৎপাদিত হয়ে বাজারে আসবে। বর্তমান মজুদের সঙ্গে যোগ হবে নতুন উৎপাদিত লবণ। ফলে দেশে লবণের কোনো সংকট নেই বা এমন কোনো সম্ভাবনাও নেই।’

লবণ ব্যবসায়ীরা যা বললেন : বাংলাদেশ লবণ সমিতির সভাপতি মো. নুরুল কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে। আমাদের কাছে এখনো সাড়ে চার লাখ টন লবণ মজুদ আছে। এই লবণ দিয়ে আরো তিন মাসের চাহিদা মেটানো যাবে। এ ছাড়া প্রত্যেক পাইকার ও লবণ ব্যবসায়ীর কাছে প্রচুর লবণ মজুদ আছে। এ ছাড়া অপরিশোধিত আছে সাড়ে সাত লাখ টন।’ তিনি আরো জানান, দেশে ২৪ লাখ টন লবণ লাগে। এর মধ্যে অধিকাংশই দেশে উৎপাদন হয়। ২০১৮-১৯ মৌসুমে ১৮ লাখ মেট্রিক টন লবণ  উৎপাদন হয়েছে। 

রাজধানীর শান্তিনগর বাজারের মতলব স্টোরের মো. শাহিন বলেন, বাজারে লবণের কোনো সংকট নেই। ভালো মানের লবণ ৩৪ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করছি। আজ বিক্রি কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজ হঠাৎ করেই লবণের চাহিদা বেড়ে গেছে। কেউ কেউ তিন থেকে পাঁচ কেজি পর্যন্ত কিনছেন।

বিসিকের ঘোষণা : বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) গণমাধ্যমে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে জানিয়েছে, দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমানে দেশে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি লবণ মজুদ রয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের লবণ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রেকর্ড পরিমাণ ১৮ দশমিক ২৪ লাখ টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে লবণের মজুদের পরিমাণ ৬ দশমিক ৫০ লাখ টন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সারা দেশে লবণ কম্পানির ডিলার, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণ মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি চলতি নভেম্বর মাস থেকে লবণের উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া ও মহেশখালী উপজেলায় উৎপাদিত নতুন লবণও বাজারে আসতে শুরু করেছে।

প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা