kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

প্রধানমন্ত্রী বললেন

পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে, আর চিন্তা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে, আর চিন্তা নেই

পেঁয়াজ কার্গো বিমানে উঠে গেছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তা নিরসনে কার্গো বিমান ভাড়া করে আমরা পেঁয়াজ আনা শুরু করেছি। আগামীকাল বা পরশুর মধ্যে বিমানে পেঁয়াজ এসে পৌঁছাবে। পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে, কাজেই আর চিন্তা নাই।’ গতকাল শনিবার দুপুরে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব দেশে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এটা ঠিক, কিন্তু আমাদের দেশে কী কারণে এত অস্বাভাবিকভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে তা জানি না। এটি রুখতে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। যারা পেঁয়াজ হোল্ডিং করে দুই পয়সা কামাতে চায়, তাদের এটাও চিন্তা করতে হবে—পেঁয়াজ তো পচে যাবে। সেই পচা পেঁয়াজও এখন শুকানোর চেষ্টা হচ্ছে। মানুষকে এই কষ্ট দেওয়া কেন? কারা এর পেছনে আছে, সেটা আমাদের দেখতে হবে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘যখন আমরা এগিয়ে যাই, তখন একটা ইস্যু তৈরি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। সবাইকে অনুরোধ করব, এই চেষ্টা যেন করা না হয়। এর পেছনের কারণ কী, তা খুঁজে বের করতে হবে।’ তিনি বলেন, মানুষ যখন ভালো থাকে, সুস্থ থাকে; তখন একটি শ্রেণি আছে তারা মনঃকষ্টে ভোগে, অসুস্থতায় ভোগে। তাদের এই রোগ কিভাবে সারানো যায় সেটা জনগণই বিবেচনা করবে, তারা দেখবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ইন্ডিয়াতেও পেঁয়াজের দাম অনেক বেশি। সেখানে ১০০ রুপিতে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। শুধু একটি স্টেটে একটু দাম কম। কারণ ওই স্টেটের পেঁয়াজ বাইরে যেতে দেওয়া হয় না।

কেউ অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না : সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারী একটি মহলের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশ দারিদ্র্যমুক্ত হলে যারা দারিদ্র্য বিক্রি করে চলত, তাদের আঁতে ঘা লাগে। তাই তারা বারবার বাগড়া দেওয়ার চেষ্টা করে এবং অপপ্রচার চালায়। কেউ যেন এই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না, আমি সেটাই বলব। আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে জনগণের যে সেবা দিচ্ছে এই কথাগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এই গতি আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।’

অভিযান অব্যাহত রাখব : প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই দেশ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি দূর করতে চাই। এর বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে, সেই অভিযান আমরা অব্যাহত রাখব। কারণ বাংলাদেশের মানুষের জীবনে শান্তি নিরাপত্তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। আর একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেই উন্নতি সম্ভব। সেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আমরা চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেন দুর্নীতি করে, চুরি করে টাকা বানাতে হবে? আর ওই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন করে সেটা দিয়ে আবার বিলাসবহুল জীবন যাপন করা, ওই টাকা দিয়ে ফুটানি করা, এটা কখনো দেশের মানুষ বরদাশত করবে না। ...অসৎ পথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বিরিয়ানি খাওয়ার থেকে সৎ পথে নুন ভাত খাওয়া অনেক মর্যাদার।’

খুঁজতে গেল আমাদের দুর্নীতি, ধরা পড়ল নিজেরাই : বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট হত্যা করে থেমে যায়নি। তাদের চক্রান্ত অনেক দূর পর্যন্ত। তারা খুঁজতে গেল আমাদের দুর্নীতি, ধরা পড়ল নিজেরাই। আর যখন তারা জয়কে (সজীব ওয়াজেদ) কিডন্যাপ করার পরিকল্পনা নিল, সেখানেও ধরা পড়ল। তাদের ওই দুই নেতার নাম চলে আসল জাজমেন্টে। এই চক্রান্তকারী তারাই যারা খুনিদের মদদ দিতে পারে, অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে পারে, পুরস্কৃত করতে পারে। যুদ্ধাপরাধীদের যারা কাছে টেনে নিয়ে মন্ত্রী বানায়, যারা জনগণের ভোট চুরি করে জাতির পিতার খুনিদের এমপি বানায়, আজকে তারা অনেক কথা বলে। তাদের সময়েই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি, গ্রেনেড হামলা হয়েছে। তারাই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড শুরু করে। সেই জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে খালেদা জিয়া পর্যন্ত। তাদের এই স্বভাব কোনো দিন যাবে না। ওই খুনি, দুর্নীতিবাজরা যেন আর কোনো দিন এই দেশে ক্ষমতায় আসতে না পারে, বাংলাদেশের জনগণকে সে ব্যাপারে সচেতন করতে হবে। এরা আসা মানেই মানুষের দুর্ভোগ, এরা ক্ষমতায় থাকা মানেই দেশকে একেবারে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া।’

বক্তব্যের আগে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে এবং পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক নির্মল রঞ্জন গুহ। সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসচিব গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা