kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

ট্রেন দুর্ঘটনা

সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ট্রেনের চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয়ে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) গভর্নর বোর্ডের ৩৪তম সভায় এ নির্দেশ দেন। 

গত সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় মন্দবাগ এলাকায় আন্ত নগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও আন্ত নগর তূর্ণা নিশীথার মধ্যে সংঘর্ষে ১৬ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। এ ব্যাপারে আমাদের রেলে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের সতর্ক করা উচিত। সেই সঙ্গে যাঁরা রেলের চালক, তাঁদেরও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। আমরা বুলবুলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারলাম; কিন্তু দুর্ভাগ্য যে এখানে দুর্ঘটনা ঘটে গেল।’ তিনি বলেন, ‘ঠিক জানি না কেন, এই শীত মৌসুম আসলেই কিন্তু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই রেলের দুর্ঘটনা ঘটতে থাকে।’

প্রধানমন্ত্রী নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। উদ্ধার তৎপরতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের রেলমন্ত্রী ইতোমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থলে চলে গেছেন। উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় সব কিছু করা হচ্ছে। আমাদের পক্ষ থেকে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’

রেল যোগাযোগটা সবচেয়ে নিরাপদ এবং তাঁর সরকার এর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রেলের বহরে নতুন নতুন ট্রেন যোগ করে রেলকে সম্প্রসারিত করে দিচ্ছি। কারণ মানুষ এবং পণ্য পরিবহনে রেল সব থেকে নিরাপদ যান।’

কৃষি নির্ভরশীলতা কমাতে শিল্পায়নে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

শুধু কৃষির ওপর নির্ভরশীল না থেকে কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ব্যাপক শিল্পায়নের পথে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর; কিন্তু এককভাবে এই কৃষিনির্ভর না থেকে কৃষির সাথে সাথে আমাদের শিল্পের উন্নয়ন করা অপরিহার্য। আর সে উন্নয়ন করতে পারলে আমাদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হবে।’

বেপজার সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে খাদ্য উৎপাদন যেন কোনোভাবে হ্রাস না পায়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাও আমাদের লক্ষ্য। কারণ পৃথিবীতে খাদ্য চাহিদা কোনো দিন কমবে না, এটা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা শিল্পাঞ্চলগুলো (বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল) বিশেষভাবে করে দিচ্ছি; যাতে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে। কেননা পরিবেশ রক্ষার দিকেও আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বৈঠকে অংশ নেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা