kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

‘বুলবুল’ বাড়াল পেঁয়াজ, সবজি মাছের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘বুলবুল’ বাড়াল পেঁয়াজ, সবজি মাছের দাম

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সবজির বাজারে। শীতের আগাম সবজি বাজারে এলেও দাম চড়া। বর্তমানে পেঁপে ও আলু ছাড়া কোনো সবজির দাম ৫০ টাকার নিচে নেই। গত দুই দিনের ব্যবধানে সব ধরনের সবজি কেজিতে বেড়েছে পাঁচ থেকে ১০ টাকা। কাঁচামরিচ ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ধনেপাতা ৫০ টাকা বেড়ে ৩০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মাছের দামও বাড়তি। প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখনো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ডিমের হালি। তবে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে ফার্মের মুরগির দাম।

এদিকে সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ ১৬০ টাকার নিচে মিলছে না। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১৪০ টাকা। পেঁয়াজের মতোই রসুন ও আদার দামও বাড়তি। তবে চাল, গরু ও খাসির মাংসের দাম নতুন করে বাড়েনি। গতকাল সোমবার রাজধানীর বাসাবো ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

সবজির দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে বাসাবো কাঁচাবাজারের বিক্রেতা মোসাদ্দেক কালের কণ্ঠকে বলেন, বাজারে প্রতিদিনই শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ছে। এতে কমতে শুরু করছিল সবজির দাম। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় সবজির দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও ধনেপাতার দামও বেড়েছে।

বাসাবো কাঁচাবাজারে সবজি কিনছিলেন দক্ষিণ বাসাবোর বেসরকারি একটি স্কুলের শিক্ষিকা মাছুমা বেগম। তিনি শীতের আগাম সবজি ফুলকপির দাম শুনেই আঁতকে ওঠেন। ২০০ থেকে ৩০০ গ্রামের প্রতি পিস ফুলকপির দাম চাওয়া হচ্ছিল ৪০ টাকা। মাসুমা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, এটুকু একটা ফুলকপির দাম চাওয়া হচ্ছে ৪০ টাকা। তাহলে এক কেজি ফুলকপির দামও সেই আকাশচুম্বী পেঁয়াজের চেয়ে কম নয়। অন্য সবজির দামও দেখেন ৫০ টাকার নিচে নেই। কেবল পেঁপে আর আলুই ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আসলে বাজারে সরকারের কোনো নজরদারি নেই। এ জন্য খেয়াল খুশিমতো দাম হাঁকাচ্ছে বিক্রেতারা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, আলু কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পটোল ও ভেণ্ডি ৫০ টাকা, করল্লা ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুর লতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, শিম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মুলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, ফুলকপি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা, লাউ পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা ও কাচকলার হালি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ধনেপাতা ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা যায়।  

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে গত দুই দিন চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ খালাসে ব্যাহত হয়েছে। এতে রাজধানীর বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজের পাঁশাপাশি দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ বিষয়ে কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা মোতালেব হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজ সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির কারণ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে গত দুই দিন আমদানি করা পেঁয়াজ খালাস ব্যাহত হয়েছে। ফলে আমরা পাইকার থেকে বাড়তি দামে পেঁয়াজ কিনেছি।’

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে দাম বেড়েছে মাছেরও। গতকাল সোমবার প্রতি কেজি ইলিশ ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, রুই ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতল ২০০ থেকে ২২০ টাকা, টেংরা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পুঁটি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা বিক্রি হতে দেখা যায়।

এদিকে, সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ টাকা কমেছে ফার্মের মুরগির দাম। গতকাল ফার্মের মুরগি ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও যা ছিল ১৩০ টাকা। ফার্মের মুরগির দাম কমলেও আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ডিম। প্রতি হালি ফার্মের ডিম ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা। আর দেশি মুরগির হালি ৬০ টাকা ও হাঁসের ডিম ৫৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। স্থিতিশীল রয়েছে চাল, গরু ও খাসির মাংসের দাম। গরুর মাংস ৫৩০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চালের মধ্যে মিনিকেট ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা, নাজির ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, লতা ৪২ থেকে ৪৪ টাকা ও মোটা চাল ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা