kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

রূপপুর বালিশকাণ্ড

আরো সাত প্রকৌশলীকে দুদকের জেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আরো সাত প্রকৌশলীকে দুদকের জেরা

নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বালিশ কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে আরো সাত প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত দুদকের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি টিম তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।

প্রথমেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় পাবনা গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দেবাশীষ চন্দ্র সাহা ও রাজশাহী সার্কেলের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আহসানুল হককে। পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় রাজশাহী গণপূর্ত অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শফিকুর রহমান, পাবনা গণপূর্ত সার্কেলের সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম, মো. রওশন আলী এবং রাজশাহী সার্কেলের উপসহকারী প্রকৌশলী খোরশেদা ইয়াছরিবাকে।

এর আগে গত ৬ ও ৭ নভেম্বর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্তমানে ওএসডি) মাসুদুল আলমসহ ১৪ প্রকৌশলীকে  জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। গত ৩ নভেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শৌকত আকবরসহ মোট ৩৩ প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে চিঠি দেয় দুদক।

জানা গেছে, রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মাণাধীন গ্রিনসিটি আবাসন প্রকল্পের ২০ ও ১৬ তলা ভবনের আসবাব ও প্রয়োজনীয় মালপত্র কেনা ও ভবনে উত্তোলনকাজে অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে গত ১৯ মে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। দুই কমিটির তদন্তেই ৬২ কোটি ২০ লাখ ৮৯ হাজার টাকার অনিয়মের কথা উঠে আসে। হাইকোর্টের নির্দেশে গত জুলাই মাসে আদালতে জমা দেওয়া ওই তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্নীতির জন্য ৩৪ জন প্রকৌশলীকে দায়ী করা হয়।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০ তলা ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর ভবনে বালিশ উঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। প্রতিটি রেফ্রিজারেটর কেনার খরচ দেখানো হয়েছে ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা। রেফ্রিজারেটর ভবনে উঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। একেকটি খাট কেনা দেখানো হয়েছে ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা। আর খাট ওপরে উঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা। এসব দুর্নীতির ঘটনায় দুদকও অনুসন্ধান শুরু করে এবং ওই ঘটনায় জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে নোটিশ দেয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা