kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

১৫ জেলাজুড়ে তাণ্ডবের ক্ষত

►ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ২২ জনের মৃত্যু
►নিখোঁজ ১৫ জেলের মধ্যে ১২ জনের সন্ধান
►উড়ে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, গাছপালা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



১৫ জেলাজুড়ে তাণ্ডবের ক্ষত

উপকূলজুড়ে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন রেখে গেছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন লাগোয়া বকখালী, বসিরহাট ও সন্দেশখালীতে তাণ্ডব চালিয়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল যখন গত রবিবার ভোর ৫টায় বাংলাদেশের খুলনা-সাতক্ষীরা সুন্দরবন অংশে প্রবেশ করে, তখন ঝড়টি ছিল অনেকটা দুর্বল। শনিবার আবহাওয়া অফিস থেকে আভাস দেওয়া হয়েছিল, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার সময় ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ থাকবে ১২০ থেকে ১৪০ কিলোমিটারের মধ্যে। তবে ভারতের সুন্দরবন অংশে শক্তি ক্ষয় হওয়ায় বাংলাদেশ অংশে বাতাসের গতিবেগ নেমে আসে ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটারে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল দুর্বল হওয়ার পরও দেশের উপকূল অতিক্রম করার চার ঘণ্টা সময় তাণ্ডব চালিয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় ১৫টি জেলায়। বুলবুলের তাণ্ডবে এসব জেলায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ২২ জন। আহত হয়েছে অনেক। অন্যদিকে ভোলার রাজাপুর ও বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের মাঝামাঝি মেঘনা নদীতে চরফ্যাশনের তোফায়েল মাঝির নৌকাডুবির ঘটনায় গতকাল

সোমবার ১০ জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কৃষকের আমন ধান মাঠে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ভারি বর্ষণের পাশাপাশি তীব্র বাতাসে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে আমন ধানের। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে শীতকালীন সবজি। দেশের বিভিন্ন জেলায় উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছ। এতে সড়ক, রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় অনেক জেলা এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে কোথাও কোথাও স্বাভাবিকের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হওয়ায় ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তবে জোয়ারের সময় ঘূর্ণিঝড়টি না আসায় বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা মিলেছে।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলোতে যতটা ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা হয়নি বলে সরকারের নীতিনির্ধারকরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা বলেছেন, সুন্দরবনের কারণে এবারও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে গেছে বাংলাদেশ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সুন্দরবন একটাই। বুলবুলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষায় সুন্দরবনকে বাঁচানোর তাগিদ দিয়েছে টিআইবি।

আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা আবদুল মান্নান গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল সোমবার দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ অতিক্রম করে আরো দুর্বল হয়ে ভারতের মিজোরামে চলে গেছে। বাংলাদেশে এখন আর বুলবুলের কোনো অস্তিত্ব নেই। এতে আজ মঙ্গলবার দেশে আবহাওয়া ভালো থাকবে। তবে বিচ্ছিন্নভাবে চট্টগ্রাম ও সিলেটে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে।

ঢাকার বাইরে থেকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবের বিস্তারিত জানিয়েছেন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা

গলাচিপা (পটুয়াখালী) : বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ ১৫ জেলের মধ্যে ১২ জনের সন্ধান পেয়েছে স্বজনরা। তাঁরা দুর্যোগ পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের মধ্যে আটকে ছিলেন বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলেদের স্বজনসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

ইলিশ মাছ শিকারের জন্য সাগরে গিয়ে ফিরতে পারেননি গলাচিপার ১২ জন জেলে। তাঁদের ট্রলারের ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেলে ঘূর্ণিঝড় চলাকালে হারিয়ে যান। শনিবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় পরিবারের সদস্যদের। এরপর দুই দিন যোগাযোগ হয়নি। নিখোঁজ জেলেদের পরিবারগুলো অজানা শঙ্কায় ছিল। হারিয়ে যাওয়া ট্রলারে ছিলেন গলাচিপা পক্ষিয়া গ্রামের রিপন খলিফা। তিনিই ট্রলারের মালিক ও মাঝি। অন্যদের মধ্যে ছিলেন তাঁর ভাগ্নে তরিকুল, মনসুর, সেলিম, রিয়াজ, সাহা গাজী, চরখালী গ্রামের নিজাম মৃধা, রাজিব মৃধা, আলম হাওলাদার, মহিউদ্দিন ও মোকলেস মৃধা।

গলাচিপা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস এম দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিখোঁজ জেলেদের পরিবার সংবাদ পেয়ে এখন চিন্তামুক্ত। তাদের মধ্যে কথা হয়েছে। জেলেদের গলাচিপায় ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছি।’

বাগেরহাট : বুলবুলের আঘাতে বাগেরহাটের রামপালে ঝড়ে ঘরের ওপর গাছ পড়ে এক নারী নিহত এবং দুজন আহত হয়েছে। গত রবিবার সকাল ১০টার দিকে ঘরের ওপর গাছ পড়লে সামিয়া খাতুন (১৫) ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ সময় আরো দুজন আহত হয়েছে। নিহত সামিয়া খাতুন বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার ভরসাপুর গ্রামের আব্দুল জব্বারের মেয়ে। বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বুলবুলের প্রভাব কেটে যাওয়ায় বাগেরহাটের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ বাড়ি ফিরে যেতে শুরু করেছে। বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় তিন হাজার ৫২৯টি মত্স্যঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মত্স্য বিভাগ জানায়।

ঝড়ে বাগেরহাট সদর, রামপাল, মোরেলগঞ্জ, মোংলা, শরণখোলা, ফকিরহাট এবং কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শ কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বহু এলাকায় অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে।

পিরোজপুর : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় শনিবার মধ্যরাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে গাছচাপায় ছয় শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত এবং অর্ধশতাধিক গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে। ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে আমন ফসলের মাঠ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঝড়ের তাণ্ডবে গ্রামীণ সড়ক ও মহাসড়কের দুই পাশের কয়েক হাজার গাছ উপড়ে পড়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পিরোজপুরে বুলবুলের তাণ্ডবে প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের তথ্য জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবু আলী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। তিনি জানান, জেলার নাজিরপুরে ননী মণ্ডল নামের এক বৃদ্ধ গাছচাপায় নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে ১৫ জন। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আড়াই হাজার ঘরবাড়ি, ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ, ৯২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৭০ কোটি টাকার কৃষি, অকৃষিসহ মাছের ঘের, পাঁচ কোটি টাকার গবাদি পশু ও খামার।

সাতক্ষীরা : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে সাতক্ষীরার উপকূল এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপকূলবর্তী শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সীগঞ্জ, রমজাননগর, কাশিমাড়ি ও আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা ও শ্রীউলা এলাকার বেশির ভাগ কাঁচা ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে। ঝড়ের সঙ্গে ভারি বর্ষণে একাকার হয়ে গেছে মত্স্যঘের, ধানের ক্ষেত। বুলবুল উপকূলে আঘাত হানলে শ্যামনগরের ভেটখালী ইউনিয়নের তারাণীপুর গ্রামে দেয়ালচাপা পড়ে ভ্যানচালক পলাশ ও তাঁর স্ত্রী আহত হন। অন্যদিকে গত রবিবার সকালে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার পথে গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা গ্রামের আবুল কালাম (৬০) হৃদেরাগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মেঘনা নদীর চর আবদুল্লাহ ইউনিয়নে পানিতে ডুবে ৩৭৫টি ভেড়া মারা গেছে। গত রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ইউনিয়নের নতুন চর এলাকায় নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। এদিকে টানা বর্ষণে আমন ধান ও শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরক্তি উপপরিচালক কিশোর কুমার মজুমদার জানান, বৃষ্টিতে আমন ধান ও শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে।

গোপালগঞ্জ : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে গোপালগঞ্জে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত রবিবার কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ী গ্রামে গাছচাপা পড়ে সেকেন হাওলাদার (৭০) নামের এক বৃদ্ধ এবং সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের খাটিয়াগড় গ্রামের বাবন কাজীর স্ত্রী মাজু বিবি (৬৫) নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল ১১টায় কোটালীপাড়ার কান্দি গ্রামে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ভেঙে গিয়ে ঝুলে থাকা গাছের ডাল পড়ে সাথী বৈদ্য (৬) নামের এক শিশু নিহত হয়েছে। সে ওই গ্রামের সুখরঞ্জন বৈদ্যর মেয়ে। এ নিয়ে গোপালগঞ্জ জেলায় বুলবুলের আঘাতে শিশু ও নারীসহ তিনজন প্রাণ হারাল।

নিহতদের দাফনের জন্য এরই মধ্যে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গোপালগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। হাজার হাজার গাছপালা ভেঙে গেছে।  

কাশিয়ানী : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে উপজেলার কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার রসময় মণ্ডল জানান, এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পাওয়া যায়নি। তবে রবিশস্য, সবজি, আমন ধান চাষিরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

শরীয়তপুর : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে শরীয়তপুর জেলায় ঘরের ওপর গাছ পড়ে নড়িয়া ও ডামুড্যায় দুজন নিহত হয়েছে। এ সময় ঝড়ে পাঁচ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ও শত শত গাছপালা বিধ্বস্ত এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া দুই হাজার ৭৬০টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ত্রাণ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফনের জন্য প্রতিটি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

মাদারীপুর : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝিতে রবিবার দুপুর ৩টার দিকে বসতঘরের ওপর গাছ পড়ে ঘরের ভেতর আলমারির নিচে চাপা পড়ে সালেহা বেগম (৪০) নামের এক নারী মারা গেছেন। অন্যদিকে সদর উপজেলার চৌহদ্দি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ক্লাসরুম ভেঙে গেছে।

বামনা (বরগুনা) : বুলবুলের তাণ্ডবে বরগুনার বামনা উপজেলায় গাছ উপড়ে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপজেলার উত্তর কাকচিড়া গ্রামে ঝড়ের আতঙ্কে শিশির বিশ্বাস (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

খুলনা : বুলবুলের আঘাতে খুলনার উপকূলীয় এলাকাসহ জেলার ৯টি উপজেলায় কমবেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়রা ও দাকোপ উপজেলা।

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, জেলায় দুই লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ মানুষ কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে ৪৭ হাজার ২৭৫টি। এর মধ্যে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ৩৭ হাজার ৮২০টি। আর ঝড়ে গাছচাপা পড়ে নিহত হয়েছেন দুজন। তাঁরা হলেন দাকোপ উপজেলার দক্ষিণ দাকোপ গ্রামের সুভাষ মণ্ডলের স্ত্রী প্রমিলা মণ্ডল (৫২) ও দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি গ্রামের আলমগীর হোসেন (৩৫)।

ভোলা  ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ভোলা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘরবাড়ি ও ফসলের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছপালা উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শনিবার রাতের ঘূর্ণিঝড়ে লালমোহন, চরফ্যাশন ও ভোলা সদর উপজেলায় বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি। আহত হয়েছে কমপক্ষে ২০ জন।

অন্যদিকে ভোলার রাজাপুর ও বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের মাঝামাঝি মেঘনা নদীতে চরফ্যাশনের তোফায়েল মাঝির নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ১০ জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল রাত ৯টার দিকে ভোলার রাজপুর ও বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের মাঝামাঝি মেঘনা নদী থেকে ১০ জেলের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় বাসিন্দারা। নিহতদের সবার বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট এলাকায়। নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলো মফিজ, কামাল ও বিল্লাল।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা