kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

সময় বৃদ্ধির চক্রে নতুন সড়ক আইন

অসংগতিই বাধা

পার্থ সারথি দাস   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সময় বৃদ্ধির চক্রে নতুন সড়ক আইন

নতুন সড়ক পরিবহন আইনে নানা অসংগতি ধরা পড়েছে। এসব অসংগতিই আইনটি বাস্তবায়নে বড় বাধা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এবং আইন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গাড়ির নিবন্ধন নির্দেশক চিহ্ন, ফিটনেস সনদের মেয়াদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অসংগতি রয়েছে। এ ছাড়া আইন অনুমোদনের ১৪ মাসেও বিধিমালা হয়নি। অংশীজনদের অবহিতকরণেও দুর্বলতা প্রকট।

এ অবস্থায় শুরুতেই আইনটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সংশ্লিষ্টরা বাধার মুখে পড়েছেন। প্রজ্ঞাপন জারি করে বাস্তবায়নের তারিখ ঘোষণার পর তাই প্রথম দফায় এক সপ্তাহ সময় নেওয়া হয়েছিল। সব শেষ গত বৃহস্পতিবার আরো এক সপ্তাহ সময় নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতি গত বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে আইনটি বাস্তবায়নে এক মাস সময় বাড়াতে চিঠি দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, দফায় দফায় সময় নেওয়ার কারণ নতুন আইনের অসংগতিসহ বিভিন্ন দুর্বলতা।

বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনরা বলছেন, নতুন আইন প্রণয়নে আট বছর ধরে সংযোজন-বিয়োজন করার পরও অসংগতি থাকায় শেষ পর্যন্ত এটি একটি বিতর্ক সৃষ্টিকারী আইন হয়েছে। এসব অসংগতি দূর করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মুখে সরকার ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস করে। গত ১ নভেম্বর থেকে আইনটি কার্যকর হয়েছে। মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর চাপে এটি কার্যকর করতে এক বছরের বেশি সময় লেগে যায়।

পুরনো আইনে জরিমানা ও শাস্তি কম, নতুন আইনে তা বাড়ানো হয়েছে। নতুন আইনের আওতায় মামলা করার জন্য পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে আইন খতিয়ে দেখতে গিয়ে তাদের অনেকের চোখ কপালে উঠছে। কারণ আইনে এমন সব অসংগতি রয়েছে যা আইন বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ট্রাফিক পুলিশকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তাদের আইনের বই দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু অসংগতি আছে। বিধিমালা করাও জরুরি।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গাড়ির ফিটনেসের মেয়াদ (মোটরসাইকেল ছাড়া) এক বছর ছিল পুরনো আইনে। তবে নতুন আইনে ফিটনেস সনদ নেওয়ার পর তার মেয়াদের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। গাড়ির রুট পারমিটের ক্ষেত্রেও নির্দেশনা নেই। আগের আইনে রুট পারমিটের মেয়াদ তিন বছর ছিল। পুরনো আইনে থাকলেও নতুন আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়ার জন্য পরীক্ষার সিলেবাস বা তফসিল দেওয়া হয়নি। তাতে পরীক্ষা পদ্ধতি কেমন হবে তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। এ ছাড়া নতুন আইনে গাড়ি চালানোর নিয়মের ব্যাপারে তফসিল বা সিলেবাস অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পুরনো আইনে ট্রাফিক সাইন ও সিগন্যালের বিবরণ ছিল। নতুন আইনে বলা হয়েছে, মোটরযানের মালিক বা প্রতিষ্ঠান বীমা করবেন, ক্ষতি বা নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ পাবেন। তবে বীমা না করার শাস্তির বিষয়টিই রাখা হয়নি। নতুন আইনে বলা হয়েছে, বীমা না থাকলে কোনো মামলা বা জরিমানা গুনতে হবে না। অথচ পুরনো আইনে এর জন্য ৭৫০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান ছিল। গাড়ি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নিবন্ধন নম্বর নির্দিষ্ট এলাকার কোন তফসিলে ও বর্ণমালায় হবে, তা বলা ছিল পুরনো আইনে। তাতে সর্বোচ্চ চার অঙ্কের নম্বর থাকে। নতুন আইনে এ বিষয়ে তফসিল নেই। তাতে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতউল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন আইনে কন্ডাক্টর লাইসেন্স, চালকের লাইসেন্সে পয়েন্ট রাখার বিষয়টি আছে। তবে এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা নেই। এ জন্য বিধিমালা জরুরি। আমরা দেশের সব মালিক সমিতির কাছে আইনের বই পাঠিয়েছি।’

বিআরটিএর চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিধিমালা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে আছে।’

বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিধিমালা তৈরির আগে আইন প্রয়োগে সরকারের নির্বাহী আদেশ জারি করতে হবে। এ জন্য বিআরটিএ বিষয়টি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখাকে অবহিত করেছে।

এদিকে পথচারী ও চালকরা জরিমানার আতঙ্কে আছেন। পুলিশ ও বিআরটিএ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিকভাবে মাঠপর্যায়ে আইন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সহনীয় পর্যায়ে জরিমানা করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, লাইসেন্স না থাকলে ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে আইনে। তবে প্রথম দিকে এ হারে জরিমানা না নিয়ে হয়তো পাঁচ হাজার টাকা আদায় করা হবে। তবে একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে পুরো ২৫ হাজার টাকাই জরিমানা আদায় করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা