kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঝড়ের ছোবল আজ রাতেই!

♦ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের হুমকিতে সুন্দরবন ♦ ৫-৭ ফুট জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা ♦ ৭ নম্বর বিপত্সংকেত ♦ উপকূলে আতঙ্ক ♦ ব্যাপক নিরাপত্তা-প্রস্তুতি ♦ সেন্ট মার্টিনসে ১৫০০ পর্যটক আটকা ♦ রাস উৎসব স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



ঝড়ের ছোবল আজ রাতেই!

গত রাত ৯টায় স্যাটেলাইট থেকে তোলা ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের অবস্থান। ছবি : আক্কুওয়েদার

পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তত্সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর থেকে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। সেটি আজ শনিবার রাতে ১৪৪ কিলোমিটার গতিবেগে বাংলাদেশের খুলনা-বরিশাল অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। আজ বিকেলের পর বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের প্রভাব অনুভূত হতে পারে এবং মধ্যরাতে খুলনা অঞ্চল দিয়ে বুলবুল উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তবে উপকূলে আঘাত হানার আগে ঘূর্ণিঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বুলবুল আরো শক্তি সঞ্চয় করে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ায় সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। গতকাল সন্ধ্যায় খুলনা ও বরিশাল উপকূলীয় অঞ্চলে ৭ নম্বর এবং চট্টগ্রামের উপকূলে ৬ নম্বর বিপত্সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নৌযানগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

গতকাল সকাল থেকেই দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ বেশির ভাগ এলাকায় বিরাজ করছে মেঘলা আবহাওয়া। কোথাও কোথাও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। রাজধানীতেও গতকাল দুপুরের পর থেকে মেঘলা আবহাওয়াসহ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়।

প্রতিবছরের নভেম্বর মাস এলেই বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করে। কেননা ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় এবং ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ‘সিডরে’র আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় উপকূলীয় জনপদ। এবারও ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আঘাত হানছে সেই নভেম্বর মাসে।

গতকাল রাত ৯টায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। এটি আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর/উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ সন্ধ্যা নাগাদ সুন্দরবনের কাছ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে সমুদ্রবন্দরগুলো, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আজ ভোর থেকেই দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় গতকাল গোপালগঞ্জের মানুষও পড়ে বৃষ্টি-দুর্ভোগে। ছবি : কালের কণ্ঠ

মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপত্সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং সংশ্লিষ্ট অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে একই বিপত্সংকেত থাকবে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপত্সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং সংশ্লিষ্ট অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৬ নম্বর বিপত্সংকেতের আওতায় থাকবে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলো এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার দ্বীপগুলো স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পাঁচ থেকে সাত ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণে মনে হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়টি খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় অঞ্চলে শনিবার রাতে আঘাত হানতে পারে। আমাদের ধারণা, সে সময় বাতাসের গতিবেগ সর্বোচ্চ ১৪৪ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে উপকূলে চলে আসার আগে ঘূর্ণিঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে বাতাসের গতিবেগ ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত থাকতে পারে।’

বিআইডাব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর এম মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আজ (গতকাল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ঢাকা-চাঁদপুর রুটে লঞ্চ চলবে। আবার বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে লঞ্চ ছেড়ে আসতে পারবে। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।’

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এনামুর রহমান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২২টি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও ছুটি বাতিল করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মনিটরিং সেলের সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।

এনামুর রহমান বলেন, ‘ইতিমধ্যে সাইক্লোন সেন্টারসহ উপকূলের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সাইক্লোন সেন্টারে দুই হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার ও নগদ পাঁচ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে এবং ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলবর্তী এলাকার জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। সাতটি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হলো—খুলনা, সাতক্ষীরা, বরগুনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ভোলা।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে খুলনায় গুমট আবহাওয়া বিরাজ করছে। গতকাল সারা দিনে সূর্যের দেখা মেলেনি। সকাল থেকেই সুন্দরবনসংলগ্ন দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছা উপজেলাসহ শহরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষেতে আধাপাকা ধান নিয়ে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

খুলনার জেলা প্রশাসক হেলাল হোসেন বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এরই মধ্যে সরকারি-বেসরকারি ৩৪৯টি সাইক্লোন সেন্টার প্রস্তুত করা হয়েছে। উপকূলীয় দাকোপ ও কয়রা উপজেলায় ২৪ হাজার ৬০ জন সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মোংলা বন্দরে সব ধরনের জাহাজ আগমন-বহির্গমন বন্ধ রয়েছে। বন্দরে অবস্থানরত সব জাহাজে মালপত্র ওঠানামার কাজও বন্ধ রাখা হয়েছে। ট্রলার ও নৌকা নিয়ে দুই শতাধিক জেলে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে আশ্রয় নিয়েছে।

সুন্দরবন বিভাগের দুবলা ক্যাম্পের ফরেস্টার মো. হামিদুল গতকাল রাত ৯টার দিকে জানান, দুবলা এলাকায় ঝোড়ো বাতাস বইছে। স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্যাম্পের স্টাফরা অস্ত্র ও মালপত্র নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে এসেছে।

রাস উৎসব স্থগিত : ঘূর্ণিঝড় উপকূলের দিকে ধেয়ে আসার খবরে সাগর মোহনায় সুন্দরবনের দুবলারচরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন রাস উৎসব স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাস উৎসব কমিটির সহসভাপতি বাবুল সরদার জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দুবলারচরে আসন্ন রাস উৎসব স্থগিত করা হয়েছে। দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের উৎসবে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে। তবে সেখানে পূজা-অর্চনা চলবে।

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর আঘাত হানা সিডরে ক্ষতবিক্ষত বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার মানুষ এবার ঘূর্ণিঝড় বুলবুল নিয়ে চরমভাবে আতঙ্কিত। সিডরে এই উপজেলায় ৬৯৫ জন মারা যায়। আজও ৭৬ জনের খোঁজ মেলেনি। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকেই এলাকায় দমকা বাতাস আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। শরণখোলাসহ উপকূলজুড়ে সিডরের আগমুহূর্তের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গতকাল সকাল থেকে সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকরা মাইকিং করে সতর্কতামূলক প্রচারণায় নেমেছে। নদীতীরবর্তী বেড়িবাঁধের বাইরে ও বাঁধের কাছাকাছি বসবাসকারীরা গতকালই আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

পটুয়াখালী উপকূলের ঘরবাড়িতে সাগর থেকে ফিরে আসছে জেলেরা। জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী গতকাল জানান, জেলায় মোট ৪০৩টি সাইক্লোন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১০০ টন চাল, দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ১৬৬ বান্ডিল টিন ও তিন হাজার ৫০০ কম্বল মজুদ রাখা হয়েছে।

পায়রা সমুদ্রবন্দরের কর্মকর্তা মহিউদ্দিন খান জানান, বন্দরের সব কর্মকাণ্ড বন্ধ রেখে শ্রমিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কলাপাড়ার আন্ধারমানিক নদসহ সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। উত্তাল সাগর থেকে ফেরার পথে ঢেউয়ের তাণ্ডবে ‘এফবি মা কুলসুম’ ট্রলার থেকে সাগরে পড়ে গিয়ে বেল্লাল নামের (৪০) এক জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে গলাচিপায় হালকা দমকা বাতাসের সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল সকাল থেকে বৃষ্টির সঙ্গে হালকা দমকা বাতাস বইতে শুরু করেছে। জেলেরা ঘূর্ণিঝড়ের বার্তা পেয়ে গভীর সাগর থেকে তীরে ফিরতে শুরু করেছে। 

ভোলায় গতকাল সকাল থেকেই বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আটটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। চরবাসীকে নিরাপদে রাখতে ৬৬৮টি স্কুলকে সাইক্লোন সেন্টার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ১২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। ৯২টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।

সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য স্থানান্তর (লাইটারিং) বন্ধ রয়েছে। গতকাল সকাল থেকে চট্টগ্রাম উপকূল ছেড়ে যায়নি কোনো লাইটার বা ছোট জাহাজ; ছেড়ে যায়নি মাছ ধরার ট্রলার বা কাঠের নৌকাও।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গতকাল বিকেলে বন্দর ভবনে জরুরি বৈঠক করে দুটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে। সকাল থেকে চট্টগ্রাম শহরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সাইক্লোন সেন্টারে সরে যেতে অনুরোধ করেছে জেলা প্রশাসন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘূর্ণিঝড় আতঙ্ক : কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ক্যাম্পগুলোতে দুর্যোগকালীন নিরাপদ আশ্রয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় রোহিঙ্গাদের মাঝে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা ছাবের আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশে আসার পর থেকে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়তে হয়নি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ঘূর্ণিঝড়ে বড় ধরনের আঘাতের পূর্বাভাস না থাকলে আপাতত ক্যাম্পেই থাকব।’

সেন্ট মার্টিনসে আটকা পড়েছে দেড় হাজার পর্যটক : ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে উঠায় টেকনাফ-সেন্ট মার্টিনস নৌ রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে দ্বীপটিতে প্রায় দেড় হাজার পর্যটক আটকা পড়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে সতর্কতা সংকেত থাকায় সেন্ট মার্টিনস নৌ রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। দ্বীপে হাজারের বেশি পর্যটক আটকা পড়েছে বলে জানতে পেরেছি। তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।’

প্রসঙ্গত, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আট দেশের আবহাওয়া দপ্তরের নির্ধারিত তালিকা থেকে ধারাবাহিকভাবে এই অঞ্চলে সৃষ্ট ঝড়গুলোর নাম দেওয়া হয়ে থাকে। বুলবুল নামটি নেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে।

[কালের কণ্ঠ’র স্থানীয় নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা এই প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য জোগান দিয়েছেন।]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা