kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন

বেশির ভাগ নেতা বাদ পড়ছেন

আবদুল্লাহ আল মামুন    

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেশির ভাগ নেতা বাদ পড়ছেন

জাতীয় শ্রমিক লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রায় সবাই কর্মস্থল থেকে অবসর নিয়েছেন। অবসরের প্রায় দেড়যুগ পেরিয়ে গেলেও সংগঠনটির সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ। শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সাত বছর আগে কর্মস্থল থেকে অবসর নিয়েছেন। শ্রম আইন অনুযায়ী তাঁরা জাতীয় শ্রমিক লীগের কমিটিতে থাকতে পারেন না। তার পরও এই বয়স্ক নেতারাই সংগঠনটি নিয়ন্ত্রণ করছেন।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম এই সংগঠনের নেই কোনো তৎপরতা। দিবসভিত্তিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে তাদের কার্যক্রম। শীর্ষ নেতাদের বেশির ভাগই গত সাত বছরে দুর্নীতিতে জড়িয়ে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অনেকের নামে দুদকে রয়েছে মামলা। তাই এই সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বেশির ভাগকে বাদ দিয়ে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অধিকারীদের কাঁধে জাতীয় শ্রমিক লীগের নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও গণভবন সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।    

আগামীকাল ৯ নভেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শ্রমিক লীগের জাতীয় সম্মেলন হবে। বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি দুই বছর মেয়াদের হলেও সম্মেলন না হওয়ায় এর বয়স দাঁড়িয়েছে সাত বছরে। এবারের সম্মেলনে শ্রমিক লীগের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন এনে কমিটির মেয়াদ তিন বছর প্রস্তাব করা হবে। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির কলেবর ৩৫ সদস্যই থাকছে। শ্রম আইন অনুযায়ী কমিটির কলেবর বাড়ানোর সুযোগ নেই। আগামীকাল সকাল ১১টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় শ্রমিক লীগের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অস্থায়ী মঞ্চে উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে বিকেলে আইইবি মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হবে। পরে ঘোষণা করা হবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি।   

২০১২ সালের ১৭ জুলাই জাতীয় শ্রমিক লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে শুক্কুর মাহমুদ সভাপতি এবং সিরাজুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে সভাপতির বয়স প্রায় ৭৫ বছর। আর সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ৭০ এর কাছাকাছি পৌঁছেছেন।

সংগঠনের বর্তমান সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ আবার নির্বাচিত হতে আগ্রহী। সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সভাপতি হতে চান। তবে এই পদে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী বর্তমান কার্যকরী সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মন্টু। এই পদে আসতে আরো আগ্রহী সহসভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ। সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে আগ্রহী বর্তমান কমিটির সহসভাপতি আমিনুল হক ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁর এই মেয়াদে শ্রমিক লীগকে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। আবার সভাপতি নির্বাচিত হলে যথাযথভাবেই সে দায়িত্ব পালন করবেন।

কার্যকরী সহসভাপতি ফজলুল হক মন্টু বলেন, ‘ঊনসত্তর-সত্তর সালে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বায়াত্তর সালে ছাত্রলীগ থেকে জাতীয় শ্রমিক লীগে যোগ দিই। মুক্তিযুদ্ধ করেছি। আমি বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার অবদান মূল্যায়ন করবেন।’           

সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সফলতার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। যদি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাখা হয় কাজ করব। সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হলেও সংগঠনের জন্য একইভাবে নিজেকে উৎসর্গ করব।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে তিনি কখনই জড়িত ছিলেন না। সম্মেলন সামনে রেখে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ফারুক বলেন, ‘১৯৮৭ সালে জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্পাদকমণ্ডলীতে দায়িত্ব পাই। এরপর সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। আমি মনে করি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার সময় আমার হয়েছে।’

অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বর্তমানে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমি একাধিকবার জাতীয় শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছি। তাই স্বাভাবিকভাবে এই পদটি প্রত্যাশা করি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা