kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্যাংকে রাজীবের মাত্র কোটি টাকা আলামত উধাও

► অস্ত্র ও মাদকের ২ মামলা
► যুবলীগ থেকে বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্যাংকে রাজীবের মাত্র কোটি টাকা আলামত উধাও

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভিযোগ পাওয়া গেলেও অভিযানে টাকার হদিস পাচ্ছে না র‌্যাব। গত শনিবার রাতে আটক করার পর গতকাল রবিবার সকাল পর্যন্ত তাঁকে নিয়ে মোহাম্মদপুরে তাঁর বাসা ও কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়। ওই অভিযানে শুধু পাঁচ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার স্লিপ ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাত্র এক কোটি টাকা আছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

আটক করার সময় বাসা থেকে সাতটি বিদেশি মদের বোতল, একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় রাজীবের বিরুদ্ধে গতকাল ভাটারা থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা করেছে র‌্যাব। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, আগে থেকেই সতর্ক থাকায় কাউন্সিলর রাজীব তাঁর অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সব আলামত সরিয়ে ফেলেছেন।

এদিকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গতকাল রাজীবকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

গত শনিবার রাতে বারিধারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করার পর র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম সাংবাদিকদের বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং দখলদারিত্বের মতো সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রাজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় সাতটি বিদেশি মদের বোতল, একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি, নগদ ৩৩ হাজার টাকা ও একটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতেই মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ এলাকার মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটির ১ নম্বর রোডে ৩৩ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। রাজীবের ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কিছুই পায়নি র‌্যাব। তাঁর কার্যালয়েও মেলেনি তেমন কিছু। এরপর সাদেক নামে তাঁর এক সহযোগীর বাসায় তল্লাশি চালিয়ে পাঁচ কোটি টাকা জমার স্লিপ পাওয়া গেছে। জমার বইটিতে দেখা গেছে, ব্র্যাক ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে এক দিনে (তিনটি চেকের মাধ্যমে) পাঁচ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে এক কোটি টাকা আছে বলেও তথ্য মিলেছে। অবৈধ চাঁদাবাজি ও দলখদারিত্বের মাধ্যমে আয় করা বাকি টাকা কোথায় গেল এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি রাজীব। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে হয়রানিসহ সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে রাজীবের সহযোগী সাদেককে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অভিযানে মনে হয়েছে আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত যেসব ডকুমেন্ট ছিল সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা হচ্ছে। পরবর্তী তদন্তে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, কয়েক ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে রাজীবের বৈধ আয়ের কোনো উৎস পাওয়া যায়নি। রাজীবের অভিজাত বাড়িটির বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। বাড়ির আসবাব থেকে শুরু করে প্রতিটি জিনিস তিনি দেশের বাইরে থেকে আমদানি করেছেন। এসব জানা আয়ের বহির্ভূত হতে পারে। কাউন্সিলর হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁর দৃশ্যমান কোনো ধরনের ব্যবসা বা পেশা ছিল না। বর্তমানে সিটি করপোরেশন থেকে যে সম্মানী পান সেটা তাঁর একমাত্র প্রধান আয়।

রাজীবের অপকর্ম নিয়ে সম্প্রতি কালের কণ্ঠে প্রধান শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ২০১৫ সালে ডিএনসিসির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত রাজীব ছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। দলীয় প্রার্থী ও মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি শেখ বজলুর রহমানকে হারিয়ে নির্বাচিত হন তিনি। মোহাম্মদপুর এলাকায় যুবলীগের রাজনীতি দিয়েই রাজীবের রাজনৈতিক জীবন শুরু। অল্প দিনেই নেতাদের সান্নিধ্যে মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ বাগিয়ে নেন। অভিযোগ আছে, কেন্দ্রীয় যুবলীগের এক নেতাকে এক কোটি ২০ লাখ টাকা দিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন রাজীব। যুবলীগের সাইনবোর্ড আর কাউন্সিলরের পদ ব্যবহার করে এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ আছে রাজীবের বিরুদ্ধে। বিগত চার বছরে আট থেকে ১০টির বেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের গাড়ি কিনেছেন। গুলশান ও মোহাম্মদপুরে আটটি ফ্ল্যাট রয়েছে তাঁর। মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটির ১ নম্বর রোড এলাকায় পানির পাম্পের জন্য নির্ধারিত জায়গায় বাড়ি বানিয়েছেন তিনি।

২ মামলায় ১৪ দিনের রিমান্ড

এদিকে গতকাল রাতে ভাটারা থানা পুলিশ রাজীবকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে দুই মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করে। ঢাকা মহানগর হাকিম ইয়াসমিন আরা শুনানি শেষে দুই মামলায় সাত দিন করে তাঁর ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা