kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্লাস্ট প্রতিরোধী নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন

হাওরসহ প্রায় সারা দেশে এই ধান চাষ হবে : বাকৃবি ভিসি

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্লাস্ট প্রতিরোধী নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন

বোরো মৌসুমে চাষ উপযোগী উচ্চফলনশীল আগাম ধানের একটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. লুত্ফুল হাসান। নতুন এই জাতের ধানের নাম রাখা হয়েছে বাউ ধান-৩। গবেষক অধ্যাপক ড. লুত্ফুল হাসান বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে আছেন।

গবেষক কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, নতুন ধানের জাতটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি ধানের পাতা মরা ও শীষ নষ্টকারী রোগ ব্লাস্ট এবং পাতা পোড়া রোগ লিফ ব্লাইট প্রতিরোধ করতে সক্ষম। ধানের জাতটি দেশে জনপ্রিয় ব্রি ধান-২৮-এর ভালো বিকল্প হবে। সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ডে জাতটি নিবন্ধিত হয়েছে।

এই জাতের ধানে আধুনিক উচ্চফলনশীল ধানের সব বৈশিষ্ট্য আছে। নতুন এ জাতের হেক্টরপ্রতি গড় ফলন সাত-আট মেট্রিক টন, যা ব্রি ধান-২৮-এর চেয়ে এক-দুই মেট্রিক টন বেশি। উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ এ জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো দানার আকৃতি ব্রি-২৮-এর মতো। পূর্ণবয়স্ক একটি গাছ ১১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এ জাতের গড় জীবনকাল ১৪০ থেকে ১৪৫ দিন, যা ব্রি ধান-২৮-এর সমসাময়িক। এক হাজারটি পুষ্ট দানার ওজন প্রায় ২৫ গ্রাম। গাছের কাণ্ড শক্ত ও মজবুত হওয়ায় গাছ ঢলে পড়ে না। এ জাতের ধান পাকা অবস্থায় শীষ থেকে সহজে ঝরে পড়ে না বলে অপচয় কম হয়। এ জাতের ডিগ পাতা খাড়া, প্রশস্ত ও লম্বা। পাতার রং সবুজ। রান্না করা ভাত ঝরঝরে ও খেতে সুস্বাদু।

গবেষক জানান, ধানের ক্ষেত্রে ব্লাস্ট রোগটি হচ্ছে পাতা, গিঁট ও শীষে আক্রমণকারী ছত্রাকজাতীয় রোগ। রোগটির কারণে ধানগাছের পাতা শুকিয়ে গাছ মরে যেতে পারে, যাকে লিফ ব্লাস্ট বলে। আবার গিঁটে আক্রান্ত হলে গাছ ভেঙে পড়তে পারে, যাকে নোড ব্লাস্ট বলে। শীষ আক্রান্ত হলে ধানে চিটা হয় বা কচি অবস্থায় শীষ ভেঙে পড়ে, যাকে নেক ব্লাস্ট বলে। আর লিফ ব্লাইট এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা পাতা পোড়া রোগ নামেও পরিচিত। ধানের ফলনের জন্য দুটি রোগই মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু নতুন উদ্ভাবিত জাত এ দুটি রোগ প্রতিরোধী।

নিজের উদ্ভাবন সম্পর্কে অধ্যাপক ড. লুত্ফুল হাসান বলেন, বর্তমানে ধানের নেক ব্লাস্ট আক্রমণের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ধান উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমতাবস্থায় দেশের ধানের উৎপাদন ঠিক রাখতে হলে বিকল্প জাতের দরকার হবে। এই লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) থেকে একটি ‘কৌলিক সারি’ এনে এসিআইয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গবেষণা করা হয়। ব্লাস্ট  ও লিফ ব্লাইট প্রতিরোধী এবং ফলন ব্রি ধান-২৮ থেকে বেশি হওয়ায় বাউ ধান-৩ নামে অবমুক্ত করা হয়। তিনি আরো বলেন, এই জাত আগাম এবং ফলন ব্রি ধান-২৮-এর চেয়ে বেশি হওয়ায় লবণাক্ত এলাকা ছাড়া হাওরাঞ্চলসহ দেশের প্রায় সব অঞ্চলে চাষ করা যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা