kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সচিবের বক্তব্য নিতে গিয়ে...

আরিফুর রহমান   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সচিবের বক্তব্য নিতে গিয়ে...

সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্ত্তী

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্ত্তীর ঘন ঘন বিদেশ সফর, পরিবারের সদস্যদের সফরসঙ্গী করা, খানা আয়-ব্যয় জরিপ, কৃষিশুমারি ও অর্থনৈতিক শুমারিতে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং জাতীয় খানা ডাটাবেইস জরিপের ধীরগতির বিষয়ে মন্তব্য জানতে এই প্রতিবেদক গত ২১ সেপ্টেম্বর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন সচিবের সঙ্গে। ফোন ধরে পরিচয় ও প্রশ্ন শুনেই তিনি বলেন, ‘অফিসে আসেন। এসব বিষয়ে অফিসে কথা হবে।’ সচিবের কথার সূত্র ধরে ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় প্রথমে সচিবের পিএস সুফিয়া আক্তার রুমীর কক্ষে গিয়ে সচিবের সঙ্গে দেখা করার কথা জানালে তিনি এই প্রতিবেদকের ভিজিটিং কার্ড চেয়ে নেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই সেটা দিয়ে আসেন সচিবের কক্ষে। কিছুক্ষণ পর ডাক পড়ে সেখানে যাওয়ার। কক্ষে ঢুকেই দেখা গেল, বিবিএসের উপসচিব দিলদার হোসেনের সঙ্গে কথা বলছেন সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্ত্তী। সৌজন্য বিনিময় শেষ হতেই সচিব বললেন, ‘কেন এসেছেন বলুন।’

খানা আয়-ব্যয় জরিপের অনিয়মের বিষয় তুলতেই সচিব বললেন, ‘এই বিষয়ে জানতে হলে আপনি আমাদের মহাপরিচালক কৃষ্ণা গায়েনের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। তিনি আপনাকে তথ্য দিতে পারবেন।’

‘আপনি এই বিভাগের অভিভাবক, আপনার একটা মন্তব্য আমার দরকার’—এমন অনুরোধ করলে সচিব কর্কশ কণ্ঠে বলেন, ‘না, আমার কোনো কথা নেই। আপনি মহাপরিচালকের কাছে যান।’ কিছুক্ষণ চুপ থেকে সচিব বললেন, ‘আপনি আসতে পারেন।’

বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ শুনে সচিবের কাছে দ্রুত দ্বিতীয় প্রশ্নটি তুললাম, ২০১৩ সালে ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডাটাবেইস প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে; কিন্তু ছয় বছরেও শেষ হয়নি, এর কারণটা স্যার...।’

জবাবে সচিব এবারও বললেন, ‘এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অতিরিক্ত সচিব সফিউল আলমের সঙ্গে কথা বলুন।’

‘আপনি সিড সচিব হিসেবে যদি কিছু বলেন...। সচিবের কণ্ঠ আরো কর্কশ হলো, বললেন, ‘আপনাকে না বললাম প্রকল্প পরিচালকের কাছে যেতে। উনি আপনাকে যা বলার বলবেন।’

এরপর কিছুক্ষণ চুপ। সচিব বিরক্তির সঙ্গে বললেন, ‘আপনাকে তো আসতে বললাম। আপনি আসছেন না কেন?’

উত্তেজিত সচিবের কাছে তৃতীয় প্রশ্ন রাখলাম, ‘স্যার, আজ (সোমবার) আবাসন ব্যবসার ওপর একটি প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচনের অনুষ্ঠান ছিল; এটা নিয়ে যদি কিছু বলেন?’

জবাবে সচিব বললেন, ‘আপনি আমাদের জাতীয় হিসাব শাখার পরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমেদের কাছে যান। তিনি আপনাকে সব তথ্য দেবেন।’

কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে সচিব আবার ভারিক্কি কণ্ঠে বললেন, ‘আপনি আসেন। আপনাকে এতবার করে চলে যেতে বলছি, তার পরও আপনি যাচ্ছেন না; এটা তো ঠিক হচ্ছে না।’

পরিস্থিতি বুঝে রুম থেকে বের হয়ে গেলেন উপসচিব দিলদার হোসেন। একটু সময় নিয়ে ফের বললাম, ‘স্যার, আমার আরেকটি প্রশ্ন ছিল।’

এবার চড়া সুরে সচিব বললেন, ‘আপনি আর একটা কথাও বলবেন না। আপনি চলে যান। আপনার আর কোনো কথা শুনব না।’ এই কথা বলেই সচিব চেয়ার থেকে উঠে পড়েন এবং এই প্রতিবেদককে আবারও বেরিয়ে যাওয়ার তাড়া দেন। বেরিয়ে যেতে যেতে সচিবের কাছে শেষ প্রশ্ন ছিল, ‘আপনার ঘন ঘন বিদেশ যাওয়া নিয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও বিবিএসের অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী, স্যার?’

এবার সচিব আরো খেপে গিয়ে প্রায় কাঁপতে কাঁপতে বললেন, ‘আমাকে সরকার পাঠায়। আমি সরকারকে রিপোর্ট দিই।’ বলেই সচিব তাঁর চেয়ারে ফিরে গিয়ে বেল টিপলেন। সঙ্গে সঙ্গে বাইরে থেকে পিয়ন দৌড়ে এলেন। সচিব দাঁতে দাঁত ঘষে বলতে থাকেন, ‘আপনি যাচ্ছেন না কেন?’ সচিবের সঙ্গে সুর মিলিয়ে পিয়নও বলতে থাকেন, ‘আসেন, বের হয়ে আসেন।’

রুম থেকে বের হওয়ার সময় শোনা গেল সচিবের কণ্ঠ, ‘আপনাকে রুমে ডাকাই আমার উচিত হয়নি। আপনার সাংবাদিক বসদের সঙ্গে আমার ওঠাবসা। তাঁরা আমার বন্ধু.....।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা