kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সভা

চেয়ারম্যানের বিকল্প খোঁজার পক্ষে নেতারা

তৈমুর ফারুক তুষার   

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চেয়ারম্যানের বিকল্প খোঁজার পক্ষে নেতারা

দোর্দণ্ড প্রতাপশালী চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর পাশে থাকছে না তাঁর সংগঠন যুবলীগ। বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে সরকারি নিষেধাজ্ঞা, ব্যাংক হিসাব তলবসহ নানা সমালোচনার মুখে থাকা যুবলীগ চেয়ারম্যানকে ছাড়াই কিভাবে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কংগ্রেস করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। গতকাল শুক্রবার যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের এক সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে সংগঠনের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র মতে, যুবলীগের কংগ্রেসে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা ঠিক করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় যুবলীগ। দুর্দিনে সংগঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, এমন পরীক্ষিত কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য তাঁরা শেখ হাসিনাকে অনুরোধ জানাবেন।

যুবলীগের একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্য কালের কণ্ঠকে জানান, প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বৈঠকে আগামী নভেম্বরে যুবলীগের কংগ্রেসে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মত আসে। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে কিভাবে কংগ্রেস অনুষ্ঠিত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, শহীদ সেরনিয়াবাত, ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরণ, আব্দুস সাত্তারসহ বেশ কয়েকজন। তাঁরা যুবলীগ চেয়ারম্যানের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অনুপস্থিতি, বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা, ব্যাংক হিসাব তলবসহ নানা বিষয়ে সমালোচনা করেন। সংগঠনের নানা পর্যায়ে কমিটি বাণিজ্য করে বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক বনে যাওয়া যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমানকে বহিষ্কার করার বিষয়ে প্রেসিডিয়াম সদস্যরা একমত হন।

আনিস যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

যুবলীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যরা যুবলীগ চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি দিতে পারেন না। পারলে হয়তো যুবলীগ চেয়ারম্যানকেই অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসত। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য আমরা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে অনুরোধ জানাব। প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বৈঠকের প্রস্তাবগুলো রেজুলেশন আকারে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হবে। তিনিই আমাদের জানাবেন আগামী কংগ্রেসে কে সভাপতিত্ব করবেন। আমরা আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাতেরও সময় চেয়েছি। আমরা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাই।’

যুবলীগের একাধিক সূত্রে জানা যায়, প্রেসিডিয়ামের সভায় যুবলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করার বিষয়েও আলোচনা হয়। ওমর ফারুক চৌধুরীকে বাদ দিয়ে মুজিবুর রহমান চৌধুরী কিংবা শহীদ সেরনিয়াবাতকে আহ্বায়ক করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করার বিষয়ে কেউ কেউ মত দেন। আলোচনার পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার আওয়ামী লীগ সভাপতির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সূত্র মতে, বৈঠকে একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, চেয়ারম্যানকে নিয়ে পত্রপত্রিকায় নানা রকম খবর বেরিয়েছে। তাঁর ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। তিনি সংগত কারণেই উপস্থিত থাকতে পারেননি। সামনে সংগঠনের জাতীয় কংগ্রেসেও তিনি হাজির হতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে বিকল্প পথ দেখতে হবে। সদস্য আতাউর রহমান আতা বলেন, ‘যেহেতু উনি নেই, তাহলে সিদ্ধান্ত নিতে কেন পারব না? ব্যক্তির দায় সংগঠন বহন করতে পারে না। উনি উপস্থিত না হলে কাউকে না কাউকে তো সভাপতিত্ব করতে হবে। তাঁর নামে নানা ধরনের সংবাদ সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন করে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’ সভায় প্রেসিডিয়াম সদস্য আলতাফ হোসেন বাচ্চু বলেন, ‘যেহেতু উনি নেই, তাই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। কিন্তু আমাদের সাংগঠনিক নেত্রী হচ্ছেন শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সরিয়ে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের চেয়ারম্যান তো এখনো বহাল আছেন। তাঁর বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারি। এতে সংগঠনেরও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।’

জানা যায়, সভায় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদেরও সমালোচনা করেন একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্য। হারুনুর রশীদের উদ্দেশে প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহবুবুর রহমান হিরণ বলেন, আনিসের মাধ্যমে টাকা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা স্থান পেয়েছে। সঠিক লোক আসেনি দায়িত্বে। এ ব্যাপারে সাধারণ সম্পাদক নীরব থেকেছেন। অন্য কোথাও না বললেও তিনি নেত্রীর কাছে গিয়ে বলতে পারতেন। সে সুযোগ তাঁর ছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি।’ তবে ওই সব বক্তব্যের কোনো জবাব দেননি যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা